Skip to main content

সম্পাদকীয়





দেহ্‌লিজ, জন্ম নিলো । দেহ্‌লিজ দিল্লির বাংলা সাহিত্যকে যথাযথ মর্যাদায় প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে ।  দেহ্‌লিজ কাজ করবে কমিউনিটির মধ্যদিয়ে, টেকনোলজির সাহায্য নিয়ে ।  দিল্লি বাংলা মূল ভূখণ্ডের বহুদূরে আরাবল্লী রিজের উপর ঘনয়মাণ সাহিত্যের এই পুষ্প প্রকাশ পাবে ডিজিটাল মাধ্যমে । দিল্লির বাংলা সাহিত্য যার শিকড় পাথুরে জমির অতল গভীরে ঢুকে আছে আর ইতিহাসের পাতায় পাতায় যা নিহিত রয়েছে । সেই শিকড় বেয়ে উপরে উঠে আসা সেই আকরিক যা বাংলা সাহিত্যের কবি, লেখক, নাট্যকারদের লেখনীতে ধরা পড়ছে । বাংলা থেকে দূর কোন এক্সকিউজ নয়, সাহিত্যমানের প্রতি দায়বদ্ধ আমাদের এই দিল্লির সাহিত্য প্রয়াস ।  দেহ্‌লিজের কর্মকাণ্ডে তাই কোলাবোরেশনের বড় একটা শ্রেয় থাকছে । বাংলা সাহিত্য এর কোর । ধনী, গরীব, পুরুষ , মহিলা, কেরানী, আই এস অফিসার , ডাক্তার, রোগী, ছোট, বড় ভেদ ভাও থেকে দূরে এই দেহ্‌লিজের অবস্থান । এর কোন চাঁদা নেই, কোন মেম্বারশীপ নেই । কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেহ্‌লিজ । সোশ্যাল মিডিয়া এই ডেভেলপমেন্টকে ছড়িয়ে দিচ্ছে দিল্লির কোনায় কোনায় ।  


প্রশ্ন থাকতে পারে, সাহিত্যে দিল্লির কোন অবদান আছে নাকি ? কিংবা দিল্লির বাংলা সাহিত্য ? নেই । সাহিত্যের কোন আবার দেশ হয় নাকি ? কিংবা কোন ভৌগলিক বিভাজন ? আমিও মনে করি নেই । যেভাবে জাপানেরও কোন নিজস্ব সাহিত্য নেই, কোরিয়ার সাহিত্যও আলাদা নয় । ব্রাজিলেরও কোন পৃথক সাহিত্য নেই, স্পেনেরও কোন নিজস্ব সাহিত্য নেই । সাহিত্যে কোন ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য থাকে নাকি ? রুশ ভাষার সাহিত্যে এমন কি আছে ? কিংবা ইজরায়েলের তো কোন সাহিত্য থাকতে পারে না । কারণ সাহিত্যের কোন ভৌগলিক সীমারেখা নেই । অন্ততঃ তাই মেনে নিয়েছি প্রথমে । আর যদি তাই যদি হতো ! টিউনড থাকুন । পরবর্তী সংখ্যাগুলিতে নজর রাখুন ।

মাফ করবেন, মাঝখানে বলে ওঠায় । লক্ষ্য করুন , এই প্রথম প্রকাশে কোন সম্পাদকের নাম নেই । দিল্লিতে একটা সাহিত্য আড্ডা গড়ে উঠেছে, অন-লাইন, অফ-লাইন মিলেমিশে । আমি 'অ্যাডমিন' হিসাবে একটা রূপ দেওয়ার কথা বলছি । সোসাল মিডিয়াতে একটা গ্রুপ তৈরী করেছি, দিল্লিতে বসবাসকারী টেম্পোরারী ও পার্মানেন্ট, চাকরীর সূত্রে বাস করতে আসা সরকারী ও বেসরকারী, দিল্লির বুকে দ্বিতীয় বা তৃতীয়  প্রজন্মের বাঙালিদের নিয়ে । আমাদের পত্রিকাটির এইভাবে জন্ম যে আমরা প্রতিদিন যে সাহিত্য যাপনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা ডিজিটালে ধরা থাক । আরো ছড়িয়ে পড়ুক আমাদের সাহিত্য ভাবনা, দিল্লিবালা হিসাবে আমরাও কিছু যুক্ত করতে চাই । 

এইবার জেনে নেওয়া যাক, দিল্লিতে সাহিত্য চর্চা বলতে কি কি বুঝি ? দিল্লিতে কি কোনো পত্রিকা নেই ? এতদিন দিল্লিতে কোন সাহিত্য আড্ডা কি ছিলো না ? আমরা কিএটা আবিষ্কার করলাম, নাকি আগেও ছিলো ? 

দিল্লির সাহিত্যের ইতিহাস  অনেক দিনের । বাংলা চর্চার ইতিহাসও আমার জন্মের আগের । চিত্তরঞ্জন পাকড়াশীর "দিল্লির বাঙ্গালি" বইটিকে যদি রিফারেন্স ধরি, ১৮৩৭ সালের প্রথম বাঙ্গালি হিসাবে উমাচরণ বসুর নাম উল্লেখ করতে হয় , আর ছাপাখানার উল্লেখ করতে গেলে তারিখ আসে ১৮৮৩ সালে আই এম এইচ প্রেস প্রতিষ্ঠানের । সাহিত্য আড্ডার সন তারিখ হিসাবে ১৯৩০ সালের কথা আসে যখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসেছেন দিল্লিতে । চন্ডালিকা, শ্যামা ইত্যাদি নিয়ে রিগ্যাল সিনেমা হলে নানান নৃত্যানুষ্ঠান করেছেন যেখানে অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিলেন মহাত্মাগান্ধী নিজে । নাটকের কথা হলে, ১৯৩৩ সালে নিউ দিল্লি বেঙ্গলি ক্লাব বাংলা নাটক মঞ্চস্থ করে । ছবি আঁকার মোটামুটি একটা তারিখ পাওয়া যাচ্ছে ১৯১৮ । সারদা উকিল আর দিল্লির রাইস আদমি সুলতান সিং মিলে রুক্ষ-শুষ্ক-অতীত ঐশ্বর্যের ভগ্নস্তুপে ভরা দিল্লিতে চিত্রকলাপিঠে পরিণত করেন । লিখিত সাহিত্য আড্ডার যেরকম তারিখ পাওয়া যাচ্ছে তা স্বাধীনতা পরবর্তী যুগে । চানক্য সেনের 'ইন্দ্রপ্রস্থ' সাহিত্য পত্রিকা কে দিয়ে শুরু করলে তা মোটামুটি ১৯৬০ সালের দিকে পড়ে। 

এই এতকথার অবতারণা করা উদ্দেশ্য হলো, এই আমাদের সাহিত্য প্রচেষ্টা দিল্লির বুকে নয়া কিছু না । বরং বলা যায় অপরিষ্কার ধারণা আমাদের মধ্যেই রয়েছে কারণ এই প্রচেষ্টার যথাযথ ডকুমেন্টেশন হয় নি আর সেযুগে গুগল বলেও কিছু ছিলো না । কলকাতাপ্রেমী বাংলা সাহিত্য অন্য এলাকার ভাষা বা সাহিত্যকে তেমন গুরুত্ব কখনোই দেয়নি । বাংলা মিডিয়া বলতে যা বোঝায় তা কলকাতা বা ঢাকার, তারা এই এতদূর দিল্লির শহরের সাহিত্য নিয়ে কেনই বা মাথা ঘামাবেন ? এই ২০১৮ তে দাঁড়িয়ে এখনো যদি আমরা ডকুমেন্টেশন ও সাহিত্য প্রচেষ্টা ডিজিটাইজড না করি আমাদের এই সাহিত্য প্রয়াস  ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বলে অকালেই কালের অন্ধকার পাতালগৃহে ধুলো গড়াগড়ি খাবে । 

কারা দিল্লির লেখক ?  দিল্লিতে ঠিক কতজন বাঙালি লেখক আছেন ? কতগুলি পত্রিকা ? আমার কাছে সঠিক তথ্য নেই । অনুমাণ আছে । আনুমানিক ২০টি বাংলা পত্রিকা নিয়মিত বেরিয়ে থাকে ।  এ ছাড়াও বিভিন্ন ক্লাব, সমাজ, কালীবাড়ী, এশোসিয়েশন দূর্গাপূজার ব্রোসিওর বের করে থাকেন । তাতেও অনেক লেখকের আনাগোনা থাকে ।  এছাড়াও দিল্লিতে রয়েছে নাট্যগোষ্ঠী যারা নিজেদের নাটক নিজেরাই লিখে চলেছেন । আমার আন্দাজ মতো দেড়শত সিরিয়াস কবি/ গল্পকার/নাট্যকার দিল্লিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন আর অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার সুবাদে অভিনেতা, চিত্রকর, সঙ্গীতকার, বাচিক শিল্পী, গৃহবধুরাও কবিতা লিখছেন ।  এই সমস্ত লেখার কি গুণাগুণ, কালের বিচারে তারা কোথায় অবস্থান করবে সেই সিদ্ধান্ত আমার কাছে নেই, আমি মোটামুটি নিজের দায়িত্বজ্ঞানে বুঝলাম , এই সাহিত্য প্রয়াস কোথাও লিপিবব্ধ থাক । 

এইবার দেহ্‌লিজের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে কিছু  আলোচনা করা যাক । বর্তমান দিল্লির বিভিন্ন-কোণে চলছে সাহিত্য প্রয়াস । বিভিন্ন পত্রিকাকে কেন্দ্র করে গ্রুপ ও লিখিত সাহিত্যের বিকাশ ঘটছে । পত্রিকাগুলি পৌঁছে যাচ্ছে কলকাতা, শিলিগুড়ি, মুম্বাই, পুনে, ব্যাঙ্গালোর ।   দিল্লির বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডা ও সঙ্গীত এর উচ্চতা সম্পর্কে আর ২২ লক্ষ বাঙ্গালির সন্দেহ নেই । সি আর পার্ক, নয়ডা, দ্বারকা,  বসন্তকুঞ্জ, মুক্তধারায় সারাবছর চলছে বাংলা অনুষ্ঠান । বাংলাদেশ হাই কমিশনে ঢাকার বাঙালি শিল্পীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলা অনুষ্ঠান পরিবেশন করছেন দিল্লির সাহিত্য-গ্রুপ । এই সমস্ত সাহিত্য প্রয়াস এত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, আর সহস্র সাল পুরানো দিল্লি শহরের এত ব্যাপ্তি যে এতটা এলাকার কবি, শিল্পী, নাট্যকারদের প্রচেষ্টাকে একসাথে করাটা একটা চ্যালেঞ্জ । ছোট ছোট গ্রুপে কাজ করে দিল্লির সাহিত্য গোষ্ঠী গুলো । শ্রেণী বিভেদ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, ইগোক্লাস, অর্থনীতি, অন্যান্য ভাষার প্রাধান্য মূল সমস্যা । বাংলা ছাত্র কমে যাচ্ছে স্কুল থেকে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উঠে যাচ্ছে বাংলা বিভাগ । এমত অবস্থায় নিয়মিত সাহিত্য আসর চালিয়ে যাওয়া, লাইক-মাইন্ডের লোকদের সাহিত্য আলোচনা প্রায় বন্ধ হয়ে আসছে । এই সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে দূরত্ব আর যানজট সমস্যায় জর্জরিত দিল্লি দারুণ ইঁদুর দৌড়ের যাপনে সাহিত্য প্রয়াস বিচ্ছিন্ন প্রায় । দিল্লি-কেন্দ্রিক কোন সঠিক মিডিয়া বা নিয়মিত সংবাদপত্র না থাকায় দিল্লির সাহিত্যের লাইফ-লাইন ধরা একেবারেই  অসম্ভব হয়ে পড়েছে । দিল্লির সাহিত্য সম্পর্কে জানার মত আজ গুগলেও কিছু গড়ে ওঠেনি । দিল্লি এন সি আর এলাকার কবি, গল্পকারদের মিলন মেলার জন্য একটা ভার্চুয়াল আড্ডার দরকার ছিলো যা এখন 'দিল্লির বাংলা সাহিত্য' গ্রুপের মাধ্যমে বাস্তবায়িত। এই সঙ্গে জুড়ে আছেন লেখক ও পাঠক দুই গোষ্ঠীই । তাদের কমিউনিকেশনের জন্য আজ বোধহয় টেকনোলোজি বড় হাতিয়ার কিছু নেই । ইন্টারনেট আমাদের এই প্রয়াসকে অনেক সহজ করে দিয়েছে । দেহ্‌লিজ ইন্টারনেট পাঠক ও লেখকদের জন্য পত্রিকা ।

দেহ্‌লিজ একটি ওয়েব ম্যাগাজিন । এর প্রিন্ট সংখ্যা যে কোনদিন বের হবে না তা নয়, কিন্তু সেই ফান্ড আমাদের নাই । দেহ্‌লিজ পরিচালিত হয় একটি গ্রুপের দ্বারা । গ্রুপটার নাম 'দিল্লির বাংলা সাহিত্য' । হোয়াটস অ্যাপে চলে । কেউ যুক্ত হতে চাইলে মেল করতে পারেন ঃ poet.area@gmail.com.

আপাতত এই আমাদের সিদ্ধান্ত, দিল্লিতে বসবাসকারী লেখকেরাই এই পত্রিকাতে লিখবে । ৬ মাসের উপর বসবাস করলেই, আমি ধরে নিচ্ছি যে তিনি দিল্লির এন সি আর এর লেখক । যে সমস্ত বাঙালি হিন্দিতে লেখেন, তারাও আমন্ত্রিত । লেখা পাঠানোর ঠিকানা: poet.area@gmail.com.

লেখা পাঠাবেন, ইউনিকোডে । অন্যকোন ফরম্যাটে লেখা নিতে পারছি না । লাইন-ব্রেক দেখানোর জন্য PDF ফরম্যাটে আলাদা ভাবে পাঠাবেন । লেখা বের হইয়ে যাবার পরে লেখাগুলি যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করা যাবে ।  এই সংখ্যায় আমি কেবল টেক্সট লেখা নিলাম । পরবর্তীতে অডিও এবং ভিডিও লেখা আমরা নেবো । এই সংখ্যায় কোন সম্পাদকও নাই । পরবর্তীতে সম্পাদকমন্ডলী রাখা হবে , আপনাদের সমস্ত সহযোগিতা পাবো বলে আমার বিশ্বাস ।



Comments

  1. আমি সাধুবাদ জানাই এই প্রচেষ্টাকে। *দেহলিজ এর পথ সুগম হউক।

    ReplyDelete
  2. সুসংবাদ। আমার শুভেচ্ছা-বাণী: *'দেহলিজ* -এর নামে একটি Acrostic.

    দে-খব এবার জগৎটাকে রাজধানীতে,
    হ-বেই সফল আন্তর্জাল-সংস্কৃতিতে,
    লি-খব, পড়ব, জানব সবার হাত ধরে ভাই,
    জ-য় হোক এই ওয়েবজিনের, শুভেচ্ছা চাই। 🙏🏻

    ReplyDelete
  3. খুব ভালো লাগলো।যোগদান করার আবেদন জানালাম ইমেলে

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

প্রকাশ হলো দেহলিজ -৬

দেহলিজ-৬ প্রকাশিত হলো   ক্লিক করুন | Click Here   বহু প্রতিক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একটা কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন । দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এতসুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই । শুধু দিল্লি নয়, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।    এই সংখ্যায় কিছু নতুন টেমপ্লেট নেওয়া হলো । ডেস্কটপ ও মোবাইল থিম আলাদা করা হয়েছে । নতুন করে সাজানো হয়েছে মেনু লিংক । অটোমেশন করা হয়েছে । সংখ্যায় বৈচিত্র নিয়ে কিছু কাজ করা হলো । কবিতা ছাড়াও রাখা হলো মুক্তগদ্য, অনূদিত নাটক, বই রিভিউ, স্মৃতিচারনা ও ছোট হল্প । আর একটি বিষয় নিয়ে এই প্রথম কাজ করা হলো সেটা হলো - কবিতা ও চিত্রকলার মিলনসংহার । ৬ জন কবির কবিতাকে উডকাট ব্লাক এন্ড হো

চৈতালি দাস

নীপবিথি চৈতালি দাস প্রতিদিনের মত আজও ঠিক সন্ধে সাতটায় শুভ্রর ফোনটা এলো । গত দু - মাস হল এই ফোনটার অপেক্ষায় থাকে গার্গী ‌।সাতটা বাজার আগে থেকেই মোবাইলটা নাড়া চাড়া করে । কখন ও কখন ও আবার  মনে হয় মোবাইল এর রিংটোন টা মিউট করা আছে হয়তো  ,শুভ্রর ফোন বেজে গেছে শুনতে পায়নি । তারপর হাতের মুঠোয় ধরা মোবাইলটা ভালো করে দেখে বোঝে যে এসবই তার মনের ভুল । মোবাইল এর সাউণ্ড একেবারে ম‍্যক্সিমামে  দেওয়া  আছে। --হ‍্যাঁ , হ‍্যালো শুভ্র বলো বলো । -- কাল তো  তোমাদের ওদিকে ভয়ানক ঝড় - বৃষ্টি  হয়েছে দেখলাম । তোমরা ঠিক আছো তো? সকালে নিউজে খবরটা দেখতে দেখতে ভাবলাম অফিসে পৌঁছেই  তোমাকে একটা ফোন করবো কিন্তু অফিসে ঢোকার পর থেকে একটার পর একটা এমন কাজে ফেঁসে গেছি যে ফোন করতে পারিনি, এই জাস্ট পাঁচ মিনিট আগে মিটিং শেষ করে নীচে নেমে সিগারেটটা ধরিয়ে তোমাকে ফোন টা লাগালাম। -হ‍্যাঁ শুভ্র কাল ঝড়ের এই তাণ্ডবে সারা কলকাতা তছনছ হয়ে গেছে , টিভি তে বলছিল ঝড়টা নাকি প্রায় একশো কিলোমিটার বেগে চলেছিল। আমার তো ভয় করছিলো যে সত্তর বছরের পুরোনো এই বাড়ি না ভেঙে পড়ে ‌। পুরো বাড়িটা কাঁপছিল ঝড়ের দাপটে । আমাদের বাগানে  একটা  আমগাছ ও পড়েছে ,তবে

আসছে দেহলিজের সংখ্যা - ৬

 প্রকাশ পাচ্ছে দেহলিজ-৬ করোনাকালের শুরুতে প্রকাশ পেয়েছিলো, দেহলিজ-৫ ; তেমন উচ্চবাচ্য হয়নি, ইচ্ছে করেই করা হয়নি, মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই ছিলো একটা কবিতা । লকডাউন শুরু হলো, মানুষ আটকা পড়লো ঘরে । শুরু হলো ঘরে বসে লাইভ টেলিকাস্ট । দেহলিজে - নতুন গ্রুপ একটিভিটি বেড়ে উঠেছে । তার একটা খসড়া এই রকমঃ  প্রিয় কবি বন্ধুগণ   আজকের এই বিশেষ অবসরে, আমার কিছু যত্নে লালিত প্রস্তাব রাখার অভিপ্রায়ে , এই পোস্টের অবতারণা  । দেহলিজ পত্রিকার সম্পর্কে এই  বিষয়টি একটা অভিনব ও যুগান্তকারী বলেও  মনে হয় আমার । দিল্লির যানজট, লকড ডাউন,  অফিস ব্যস্ততা, বাংলা ভূখণ্ডের দূরত্বে ভৌগলিক অবস্থান , উৎসাহী কবির স্বল্পতা বাংলা চর্চার ক্ষেত্রে একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে । তদুপরি ভাষার বিবিধতা , জাঠ হরিয়ানভি ঠাট,  পাঞ্জাবী কালচার আগ্রাসন করে নিয়েছে অনেক কিছু । বর্তমান দেশব্যাবস্থা, রাজনৈতিক সমীকরণ সাহিত্য দিল্লি-বক্ষে সাহিত্য প্রয়াসের প্রতিকুল সততই । এই রকম চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাও একটি সাহসী পদক্ষেপ , আমাদের একত্রিত প্রয়াসে  আমরা বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডা ও অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে তবুও তুলে ধরেছি । দেহলিজের এই অগ্রগতি আমাদের একটা আশ