Skip to main content

আসছে দেহলিজের সংখ্যা - ৬

 প্রকাশ পাচ্ছে দেহলিজ-৬


করোনাকালের শুরুতে প্রকাশ পেয়েছিলো, দেহলিজ-৫ ; তেমন উচ্চবাচ্য হয়নি, ইচ্ছে করেই করা হয়নি, মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই ছিলো একটা কবিতা । লকডাউন শুরু হলো, মানুষ আটকা পড়লো ঘরে । শুরু হলো ঘরে বসে লাইভ টেলিকাস্ট । দেহলিজে - নতুন গ্রুপ একটিভিটি বেড়ে উঠেছে । তার একটা খসড়া এই রকমঃ 

প্রিয় কবি বন্ধুগণ
 
আজকের এই বিশেষ অবসরে, আমার কিছু যত্নে লালিত প্রস্তাব রাখার অভিপ্রায়ে , এই পোস্টের অবতারণা  । দেহলিজ পত্রিকার সম্পর্কে এই  বিষয়টি একটা অভিনব ও যুগান্তকারী বলেও  মনে হয় আমার ।

দিল্লির যানজট, লকড ডাউন,  অফিস ব্যস্ততা, বাংলা ভূখণ্ডের দূরত্বে ভৌগলিক অবস্থান , উৎসাহী কবির স্বল্পতা বাংলা চর্চার ক্ষেত্রে একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে । তদুপরি ভাষার বিবিধতা , জাঠ হরিয়ানভি ঠাট,  পাঞ্জাবী কালচার আগ্রাসন করে নিয়েছে অনেক কিছু । বর্তমান দেশব্যাবস্থা, রাজনৈতিক সমীকরণ সাহিত্য দিল্লি-বক্ষে সাহিত্য প্রয়াসের প্রতিকুল সততই । এই রকম চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাও একটি সাহসী পদক্ষেপ , আমাদের একত্রিত প্রয়াসে  আমরা বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডা ও অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে তবুও তুলে ধরেছি । দেহলিজের এই অগ্রগতি আমাদের একটা আশা যোগায় ।  একটা সন্তোষ দেয় যে আমরা  দেহলিজের পত্রিকার যাত্রার শরিক ।

আমরা পরস্পরকে অভিনন্দন করতেই পারি যেখানে দেহলিজ ৫ম সংখ্যা বের হলো এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আমি সেই ফিডব্যাক পাচ্ছি । যদিও বাংলা সাহিত্যের রাজনীতি হেতু,  অনেকেই প্রকাশ্যে এর প্রশংসায় এগিয়ে আসছেন না, তবু মেসেঞ্জারে, ব্যক্তিগত ফোন আলাপে কিছু পরিচিত কবি লিখতে ডাক না পাওয়াতে খেদ প্রকাশ করেছেন ।

এই ভাবে, দেহলিজের আগামী সংখ্যার প্রস্তাব চলে আসে । ৬ষ্ঠ সংখ্যা একটু আলাদা করে করার ইচ্ছে রাখি । যেহেতু আমি একক ভাবে কাজ করি, তারিখ দিয়ে ফেলার পর খেটেখুটে দেহলিজ পত্রিকাটি টাইমে বের করতে পারলেও,  আমাদের গ্রুপ একটিভিটি ড্রাস্টিক ভাবে হ্রাস পেয়েছে । একটিভিটি বৃদ্ধি তখনই হতে পারে, যখন সবাই পত্রিকাতে কিছু কিছু ক্রিয়েটিভ সংযুক্ত করতে পারবেন, এবং নিজের নিজের ক্রিয়েটিভটির শ্রেয় তারা পাবেন । আমার একার অভিজ্ঞতার ভরসায় ও থাকতে হয়না দেহলিজের , দেহলিজ সাহিত্য মানে বেড়ে উঠুক, দিল্লিতে বাংলা সাহিত্যের একটা ইকো সিস্টেম গড়ে উঠুক এইটুকু স্বপ্ন আমি দেখি ।

আগামী সংখ্যার কিছু বিভাগ তাই দায়িত্ব সহকারে ডেলিগেট করে দেওয়া হবে । কে কতটা সময় পাবেন তার উপরে নির্ভর করছে, সেই বিভাগটা কি হবে । যদি কোন বিভাগ দেহলিজে না থাকে, সেই বিভাগ তৈরি করা হবে । বিভাগীয় সম্পাদক, নিজের সিদ্ধান্তে এক্সক্লুসিভলি সেই বিভাগে কাজ করবেন । তিনিই লেখা সংগ্রহ করবেন, সম্পাদনা করবেন । একাধিকের সম্পাদনায় বের হবে দেহলিজ ।

বিভাগ হিসাবে, আমি পীযূষকান্তি বিশ্বাস, কবিতার ও বুক রিভিউ ( বাংলা ও হিন্দি )  বিভাগ হাতে রাখছি । এছাড়া আমি পত্রিকার এডমিনিস্ট্রেটিভ কাজ -  যেমন ইস্যু ম্যানেজমেন্ট, পেজ সেটআপ, ওয়েবসাইট এডমিনিস্ট্রেশন, কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট,  ডোমেন রেজিস্ট্রেশন, প্রমোশন, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি সামলাবো ।

কবি ঔরশীষ ঘোষ গদ্য সেকশন নিতে সম্মতি দিয়েছেন । গদ্য অর্থাৎ কবিতা নিয়ে গদ্য, মুক্ত গদ্য, এমাসের কবি, কনটেম্পোরারি কবিদের উপর বিশেষ চর্চা , এপার বাংলা ও ওপার বাংলা কবিতার বিশেষ ধারাগুলি নিয়ে বিশেষ ড্রাইভ দেবেন , লেখা সংগ্রহ ও তার দেখাশোনা করবেন ।

আমাদের কবিতা আড্ডাগুলি হোস্ট করার জন্য অনলাইন ও অফলাইন একজন প্রেসেন্টার/ মোডারেটর  দরকার যে এই কাজটা করতে পারবে সেই হিসাবে প্রথমেই কবি ও প্রেসেন্টার মৌমিতার নাম মনে আসছে । আমাদের বেঁধে বেঁধে রাখার জন্য যা করার মৌমিতা মিত্র করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস ।

বাংলা লিটল ম্যাগাজিন ও জেলায় জেলায় লিটল ম্যাগাজিনের সেই সমস্ত কবিদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে এই সময়কার পরিশীলিত কবিদের কবিতার কাজ দেহলিজে রাখার ইচ্ছা আমার ।  এতে একটা সংযোগ ব্যবস্থা যেমন হয়, সেই হিসাবে, আমাদের লেখালেখির ব্যাপারে দূর জেলাতেও দিল্লির উপস্থিতি নিশ্চিত করা যেতে পারে ।  এই ব্যাপারে আমার কবি সুদীপ মণ্ডলের নাম মনে আসছে । যদি সুদীপ রাজী হন, আমি খুব খুশী হবো, আমাদের কাজ সহজ হয়ে আসে ।

পত্রিকার প্রকাশিত লেখাগুলির একটা থিম ও চিত্র নির্বাচন একজন চিত্রশিল্পীর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে । এই ব্যাপারে কবি ও চিত্রকর মোনালী রায় ছাড়া অন্য কারো নাম মাথায় আসছে না । আমার এটাও মনে হয়েছে, মোনালীর ভাষা জ্ঞান আমাদের ভিতরে অন্যতম । তাই  ইংরাজি বিভাগটাও নিজ দায়িত্বে তুলে নিলে একটা দুরন্ত ব্যাপার হয় ।

এই এতোগুলো কাজ আমি ভাবতে  পারলাম । এইটা প্রাথমিক ভাবে আমার ভাবনা হলেও, এইটা আলাপ আলোচনা করে ঠিক করে নেওয়া দেহলিজের পরবর্তী সংখ্যা কি রকম হবে ।  যদি এর বাইরে কোন বিভাগ নিয়ে আমরা ভাবতে পারি,  নিজের নিজের মতামত জানাবেন । একটা মূল থিম, আমাদের ক্রিয়েটিভটি যেন এই কটি বিভাগেই থেমে থাকে না ।।

এই আলোচনার একটি সুচিন্তিত মতামত আশাকরি সবাই দেবেন । ভালো খারাপ নিয়ে ব্রেনস্টর্ম , চেল্লাচেল্লি করা হোক ।  হোক  হৈ চৈ ।  


ধন্যবাদ , দেখা হচ্ছে নতুন পরিসরে ।

পীযূষকান্তি বিশ্বাস ।


Comments

Popular posts from this blog

চৈতালি দাস

নীপবিথিচৈতালি দাস
প্রতিদিনের মত আজও ঠিক সন্ধে সাতটায় শুভ্রর ফোনটা এলো । গত দু - মাস হল এই ফোনটার অপেক্ষায় থাকে গার্গী ‌।সাতটা বাজার আগে থেকেই মোবাইলটা নাড়া চাড়া করে । কখন ও কখন ও আবার  মনে হয় মোবাইল এর রিংটোন টা মিউট করা আছে হয়তো  ,শুভ্রর ফোন বেজে গেছে শুনতে পায়নি । তারপর হাতের মুঠোয় ধরা মোবাইলটা ভালো করে দেখে বোঝে যে এসবই তার মনের ভুল । মোবাইল এর সাউণ্ড একেবারে ম‍্যক্সিমামে  দেওয়া  আছে।
--হ‍্যাঁ , হ‍্যালো শুভ্র বলো বলো ।
-- কাল তো  তোমাদের ওদিকে ভয়ানক ঝড় - বৃষ্টি  হয়েছে দেখলাম । তোমরা ঠিক আছো তো? সকালে নিউজে খবরটা দেখতে দেখতে ভাবলাম অফিসে পৌঁছেই  তোমাকে একটা ফোন করবো কিন্তু অফিসে ঢোকার পর থেকে একটার পর একটা এমন কাজে ফেঁসে গেছি যে ফোন করতে পারিনি, এই জাস্ট পাঁচ মিনিট আগে মিটিং শেষ করে নীচে নেমে সিগারেটটা ধরিয়ে তোমাকে ফোন টা লাগালাম।
-হ‍্যাঁ শুভ্র কাল ঝড়ের এই তাণ্ডবে সারা কলকাতা তছনছ হয়ে গেছে , টিভি তে বলছিল ঝড়টা নাকি প্রায় একশো কিলোমিটার বেগে চলেছিল। আমার তো ভয় করছিলো যে সত্তর বছরের পুরোনো এই বাড়ি না ভেঙে পড়ে ‌। পুরো বাড়িটা কাঁপছিল ঝড়ের দাপটে । আমাদের বাগানে  একটা  আমগাছ ও পড়েছে ,তবে গাছট…

রীতা বিশ্বাস পাণ্ডে

বেনারসের কিছু কথারীতা বিশ্বাস পাণ্ডে 

 ফেব্রুয়ারী মাসটা পেরুলেই আমার কেমন ঘুরু ঘুরু মনটা করতে থাকে। বাড়ীর ভেতরে আর মন টেকে না মনে হয় কোথাও ঘুরে আসি। কাজেই ১০ই এপ্রিল বেড়িয়ে পড়লাম বাড়ী থেকে । উদ্দেশ্য বেনারস। জাগাটা বরাবরই আমাকে টানে কারন ওটা আমার শ্বশুর বাড়ী ও বটে আর গঙ্গার ঘাট তো আছেই।
প্রায় পাঁচ বছর পর বেনারস যাচ্ছি। ষ্টেশনে আগের মতো আর শুধু সিঁড়ি না স্কেলেটর ও তৈরি হয়ে গেছে। আজকাল চারিদিকে এতো সুবিধে যে একা একা ও পুরো দেশ ঘোরা যায়। হটাত রেইল ওয়ে ট্র্যাক গুলোতে চোখ গেল। বিশাল একটা মাউস মানে ধেড়ে ইঁদুর। খুব নোংরা দেখতে গায়ের লোম গুলি ঝড়ে গেছে।ইশ ভীষণ ঘেন্না করছে দেখতে। ইঁদুরটা একবার এদিক একবার ওদিক দেখে আবার তার গর্তে গিয়ে ঢুকে পড়ল। কোন একটা ট্রেন তিন নম্বর ট্রেকে দাঁড়িয়ে ছিল সেটা এবার ছাড়ল আর সেটা চলে যেতেই সেকি গন্ধ টইলেটের রে বাবা। এতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল তাই সবাই ফ্রেশ হয়ে নিয়েছিল আর তারই ফলস্বরূপ এই অবস্থা। তাড়াতাড়ি আমি আমার জানালাটা বন্ধ করে দিলাম। তখন সারে সাত টা বাজে। ট্রেন ছাড়ার আরও দশ মিনিট বাকী। কাল ওয়াট আপে একটা ম্যাসেজ পেয়েছিলাম সেটা হচ্ছে কিনা যাদের নাকি হার্টের প্রবলেম থাকে ত…

চৈতালি দাস

এক বিকেলের  গল্প
চৈতালি দাস

পরমেশ বাজার থেকে এসে থলিটা রান্নাঘরের দরজার পাশে নামাতে নামাতে বলল, শুনছো আজ তাড়াতাড়ি বেরোবো অফিসে, নতুন একটা কাজের ব্যাপারে  মিটিং আছে।
নীলা  হাতের কাজ ফেলে থলি থেকে তরকারি পাতি নামাতে গিয়ে দেখলো আজও আদা আনেনি পরমেশ। ব‍্যস , সকাল সকাল নীলায মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে গেল।
একে তো পরমেশের অফিস বেরোনোর সময়ের কোনো ঠিক থাকে না, কখন বেরোবে তা আগে থেকে কিছু জানায়‌ও না ,তারপর হুড়োহুড়ি করে কোনোরকমে রান্না নামিয়ে খেতে দিতে হয়।

কিছু দিন হলো পরমেশ ওর খবরের কাগজের চাকরিটা ছেড়ে​ নিজের পাবলিশিং হাউস খুলেছে । একবার বাড়ি থেকে বেরোলে কাজ ছাড়া আর অন্যকোনো দিকে খেয়াল থাকেনা পরমেশের। এমনকি খেতেও ভুলে যায় । দিনের পর দিন অনিয়ম করতে করতে পেটে আলসার বাঁধিয়ে বসেছে সে । এখন ডাক্তারের কড়া নির্দেশে বাইরের খাবার খাওয়া  আর তেল ,মশলা, ঝাল এক্কেবারে বন্ধ   । তাই পরমেশ অফিস বেরোনোর আগে ভাত আর একটা পাতলা ঝোল যে ভাবেই হোক রেঁধে খাইয়ে পাঠায় নীলা।

 বাজারের থলি থেকে মাছ বের করে রান্নাঘরের বেসিনে রেখে নীলা বাজারে ছুটলো আদা আনতে কারণ এখন পরমেশ কে আর বাজারে পাঠানো যাবে না। সে এতক্ষণে বাথরুমে…