Skip to main content

Posts

Showing posts from July, 2018

গোপা বসু

গোপা বসুর কবিতাগোপা বসু
কবিতা -১

অমাবস্যায় তারার আলোর বন্ধ্যা
মন্বন্তর কুয়াশা ছাওয়া
মাত্রাহীন জীবনগানের বাঁধভাঙা উল্লাসে
এখানে মুখগুলির পাথরছবি
হিমানীর ঘরে পারুলবনের ডাক
উদযাপনের প্রতীক্ষায় প্রতিপদে নিশিযাপন



কবিতা-২

নিঃশব্দের গভীরতা গাঢ় করে তার স্পর্শকে
মেঘের বুক চিরে বাঁকা তীর অথবা পাগল হাওয়া
কায়েম করে দখলদারী নগ্ন চাহিদায়
ঝাপসা কাঁচ গড়িয়ে পড়া এলোমেলো ধারা
ডায়েরীর ছেঁড়া পাতা ঠান্ডা চায়ের কালো সর
হয়তো ছুঁয়ে থাকে ন্যাপথলিন জড়ানো গন্ধকে ..
ফেসবুকের এয়াপসে জেগে ওঠে পুরোনো স্মৃতি রোজ প্রতিদিন
স্ট্যাটাস জানতে চায় আগামীর অঙ্গীকার .


কবিতা-৩


এক ঝলক রোদ
হঠাৎ আসা কালো মেঘের পর
নেশার মতো
মাতাল পাগল আসছে বুঝি ঝড়

সুরেলা শুক
আবেশ ভরা গোপন কোনো কথায়
ভরালো বুক
রক্তঝরানো নিঃশব্দ কি ব্যাথায়


ভালোই হলো
একলা পথে উন্মুখ হয়ে  হাঁটা
থমকে যাওয়া
বিঁধলো বুঝি গোপন পথের কাঁটা

স্বপ্ন শুধু
স্বপ্ন হয়ে চোখের উপর ভাসে
স্বপ্ন নদীর
স্বপ্নে দোলা স্রোতের বাঁকে বাঁকে ।

শাশ্বতী গাঙ্গুলী

শাশ্বতী গাঙ্গুলী
স্বপ্ন যেখানে

এখানে তাকালে আকাশ বলছে অনেক কাজ।
সূর্য বলছে আলো দিতে হবে অনেক কাজ।
এখানে বাতাসে কাজের গন্ধ ফেলছে শ্বাস।
এখানে জীবন ছুটছে সামনে অনেক কাজ।
এখানে কখনো দুপুরবেলাটা অলস নয়-
মধ্যাহ্নে দীপ্তি হারাতে সাহস নেই-
দিনকে বাড়াও টানটান করে সময় কম
এখানে রাতে চাঁদের সঙ্গে রোমান্স নেই।
এখানে সাজানো পুতুলের মত মানুষ সব
এদিক ওদিক চারিদিকে শুধু সাজানো শব।
আবেগ, হৃদয় এসব শব্দ এখানে নেই
অভিমান নয়, রাগ হতে শুধু বারণ নেই
স্বপ্ন দেখার সবটুকু শুধু মিথ্যা সাজ
ভালবাসলেও মনকে বোঝাও কারণ কাজ।






বন্ধু

যদি আমি পারতাম
তোমাকে এনে দিতাম নীলকণ্ঠ পাখির
     পালক
পৃথিবীর সমস্ত রোদ মাখা দিন আর বৃষ্টির
                                         নিবিড় রাত।
কোনো এক অকাল বসন্ত তোমার জন্য করে দিতাম
আজীবন।
কিন্তু আমি যে এতো পারি না তাইতো
তুমি আমার বন্ধু
আমার সব অক্ষমতা যে বিনা দ্বিধায় মেনে নেয়
আমার সব যন্ত্রণা যে অমূল্য মনে করে
আর আমার সবটুকু না পারাকে যে ঢেকে
রাখতে পারে
সে যে সবার থেকে বড়, সবার চেয়ে আপন
আর সবার চেয়ে নিজের সেই তুমি
তুমি আমার বন্ধু।


কেউ ছুঁয়ে দেখেনি আমায়
শাশ্বতী গাঙ্গুলী

কেউ ছুঁয়ে দেখেনি আমায়-
হাওয়া এসে ছুঁয়ে যায়-
ঠিক এখানট…

পীযূষকান্তি বিশ্বাস

অভিমুখ পীযূষকান্তি বিশ্বাস 

আমারও একটা উত্তরের ইচ্ছা,
আর লা-জবাব দক্ষিণ
কথাটা পাড়তেই
এদিক ওদিক
খিদেটা বিখরে গিয়ে প্রচণ্ড চৌচির


স্কুলের ক্লাসে ঘণ্টা পড়লো কোথাও

পেন্ডুলাম থেকে পেড়ে আনা দোলন
মাকুমানুষের কাছে ফেরী করে যায়
এই শহরের ঘনত্ব আর বিস্তার
বেশ তো আছো ঝুলে,
কিছুটা নির্বাক অফিসবাড়ি,
দিকবিদিক দৌড়ে যাওয়া দেওয়াল ঘড়ি
ছুটিকে দেওয়াল করে
            এই আমাদের ছুট ছুট

এই মাত্র অল্টোকে টপকে গেলো হুন্ডাই ভার্না


প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে বেরোল হরিণ ছানা
ওত পেতে থাকা ক্ষিপ্র ভুখা শের
ব্যাং ইট

শুধু একটা ঝটকার অপেক্ষায় থাকে
অভিমুখ

#



ধাতব জন্ম নিয়ে,
লৌহ বা তাম্রের কোন মায়বাপ নেই
কোন উত্তরাধিকারী

ঘর থেকে ঘর
     টান টান স্নেহে
শুধু আবেশের জন্ম দেওয়া আছে
শারীরিক খিদের মত,

চুম্বকের মত টানে
অভিমুখ মানে
লাইন বাই লাইন পড়ে থাকা

আজীবন কোন মায়বাপ ঘিরে
চক্কর থেকে চক্কর কেটে যাওয়া

দক্ষিণ থেকে উত্তরের
উত্তর থেকে উত্তরের


#



এই দিকে যাই
যেদিকে ঘাম জর্জর অনুভূতি নিয়ে
জাগিয়ে রাখে গ্রীষ্মের অমাবস্যার কালো

নাকি ওদিকে যাই
যেদিক বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ডাকে

নাকি ওইদিক
কাঁটাতারে ঘিরে রাখা আছে কম্পাস
গলা পর্যন্ত উঠে আসা উত্তাপ ও …

প্রশান্ত বারিক

প্রশান্ত বারিকের কবিতা 
জ্বলে যাওয়া 
আজ কোনো কথা নয়, গান নয় - আজ শুধু জ্বলে যাওয়া। ... মাটির প্রদীপ  হয়ে বসে থাকা                 তুলসী তলায়। 

কৃষক 
বৃষ্টি-স্নাত ওই উর্বরা ভূমির দিকে চেয়ে  নেচে উঠে আমার এই কৃষিকের মন.  অথচ ও মাটি আমার নয়- তার, যে জানেনা প্রকৃত কর্ষণ। 

মানুষ 
ঘাস ও পাথরের সহনশীলতা               আমার নেই. আমি তো চিরকালের সেই এক  ছেঁড়া ফাটা সামান্য মানুষ। .. মৃদু রক্ত ক্ষরণে তাই আর্তনাদ।... অগ্ন্যুত্পাতে ফেঁপে ওঠে,                  ভেতর বাহির।

থেকো যেনো তুমি 
এই যে পথ , দুই পাশে দেবদারু বীথি - এই পথে একদিন - নগ্ন পায়ে- একা একা চলে যাবো আমি।  দুঃখ করোনা তাতে। এই রকম এলোচুলে- শাঁখা ও সিঁদুরের গন্ধভরা দেহে  সেদিনও  অন্য কারো প্রতীক্ষায় থেকো যেন তুমি।

নক্ষত্র গান 
ঘুমন্ত তোমার দেহ থেকে  দস্যু হাত-গুলি। .... নির্মম ছিঁড়ে নিলো, ফুল  ও  সজীব যত পাতা। . যন্ত্রনায় কিরকম ফেঁপে উঠল শাখা প্রশাখা।  তবু তুমি , প্রতিবাদ করলে  না কেনো  কেননা তখন, হিরণ্ময় নক্ষত্রের গানে - ভরে আছে ,                                        হৃদয় তোমার। 

 ফিরে আসা 
মাটির  গভীরে শুয়ে দেখি  তোর দুচোখে এতো মায়াবী স্বপ্ন। .. হাস্নুহানার গন্ধ চারদিকে।…

প্রিয়দর্শী দত্ত

প্রেমের ভূত
প্রিয়দর্শী দত্ত
কল্পনাও করে উঠতে পারিনি যে গল্পটা ঠিক ওই ভাবে শুরু হয়ে যাবে- রাইসিনা স্কুলের হল-ঘরে, গল্প বলার আসরে, আমার জীবনে| পৌলমী মেয়েটি যেন দিন-দুপুরে রাগ অঘোরীর তান ধরে মধ্যরাত্রি নামিয়ে আনলো| সুরের মুর্চ্ছনাতে নয়, গা ছম ছম ভুতের গল্প শুরু করে| স্বীকার করি গল্পটি তার নিজের নয়, রাজ শেখর বসু ওরফে পরশুরামের| সে যুগে ‘উৎস’ বলে একটি সংগঠন বাংলা দিল্লির স্কুলগুলো কে নিয়ে একটা আন্ত:স্কুল প্রতিযোগিতার আয়োজন করত| গল্প বলা, তাত্ক্ষনিক বক্তৃতা ইত্যাদি| সেদিন সব ছাত্র ছাত্রীরাই বলার জন্য খ্যাতনামা লেখকদের এক একটা ছোট গল্প বেছে নিয়েছিল| কেউ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কেউ রবীন্দ্রনাথ, কেউ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কেউ তারাশংকর বা আশাপূর্ণা দেবী| যতদুর মনে পড়ে আমি সত্যজিত রায়ের একটা গল্প বলেছিলাম| সেটা ছিল একটা ‘লাস্ট লাইন শকার’ অর্থাত শেষ পঙ্ক্তি টি পড়লেই তবেই গল্পের রহস্যটা ব্যক্ত হবে|

     কিন্তু ইউনিয়ন একাডেমির একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী পৌলমী গল্পটির শুরুতেই এক অদ্ভুত আবহ সৃষ্টি করেছিল| পরশুরামের গল্পটির নাম জটাধারী বক্সী না জটাধর বক্সী এমনি কিছু একটা ছিল| আসলে ব্যোমকেশ বক্সী সুত্রে নাম…

চৈতালি দাস

এক বিকেলের  গল্প
চৈতালি দাস

পরমেশ বাজার থেকে এসে থলিটা রান্নাঘরের দরজার পাশে নামাতে নামাতে বলল, শুনছো আজ তাড়াতাড়ি বেরোবো অফিসে, নতুন একটা কাজের ব্যাপারে  মিটিং আছে।
নীলা  হাতের কাজ ফেলে থলি থেকে তরকারি পাতি নামাতে গিয়ে দেখলো আজও আদা আনেনি পরমেশ। ব‍্যস , সকাল সকাল নীলায মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে গেল।
একে তো পরমেশের অফিস বেরোনোর সময়ের কোনো ঠিক থাকে না, কখন বেরোবে তা আগে থেকে কিছু জানায়‌ও না ,তারপর হুড়োহুড়ি করে কোনোরকমে রান্না নামিয়ে খেতে দিতে হয়।

কিছু দিন হলো পরমেশ ওর খবরের কাগজের চাকরিটা ছেড়ে​ নিজের পাবলিশিং হাউস খুলেছে । একবার বাড়ি থেকে বেরোলে কাজ ছাড়া আর অন্যকোনো দিকে খেয়াল থাকেনা পরমেশের। এমনকি খেতেও ভুলে যায় । দিনের পর দিন অনিয়ম করতে করতে পেটে আলসার বাঁধিয়ে বসেছে সে । এখন ডাক্তারের কড়া নির্দেশে বাইরের খাবার খাওয়া  আর তেল ,মশলা, ঝাল এক্কেবারে বন্ধ   । তাই পরমেশ অফিস বেরোনোর আগে ভাত আর একটা পাতলা ঝোল যে ভাবেই হোক রেঁধে খাইয়ে পাঠায় নীলা।

 বাজারের থলি থেকে মাছ বের করে রান্নাঘরের বেসিনে রেখে নীলা বাজারে ছুটলো আদা আনতে কারণ এখন পরমেশ কে আর বাজারে পাঠানো যাবে না। সে এতক্ষণে বাথরুমে…

কল্যাণাশীষ মন্ডল

বহুরূপী মা কল্যাণাশীষ মন্ডল

জনস্রোত এগিয়ে চলেছে
প্যান্ডেলের দিকে-
চলেছি আমিও,
মানুষের অসহনীয় আদর খেতে খেতে--
প্রায় যখন কাছাকাছি এসে পড়েছি,
দরকার ছিল একটুকু জায়গার;
ভাল করে দাঁড়াবার;
যখন থেকে ডি.এস.এল.আর  ভালবেসে তার মালা
গলায় পরিয়েছিল
তখন থেকে তার জন্য
একটা ভাল ছবি উপহার তো দেওয়াই লাগে; তাই
মা এর এত্ত বড়মুখ খানা
আমার তালু বন্দী করতে আঙ্গুলে দিলাম চাপ-
সাথে সাথে মনে হলো
কেউ যেন আমায় বন্দী করছে;
হাত ধরে হালকা টান-
বাবু, কিছু দেবে বাবু
ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি
বছর সাত কি আটের একটি ছেলে;
আমার গলার ক্যামেরার মালা খুলে
‘মা’ থেকে ছেলের দিকে চেয়ে জিজ্ঞাসু চোখে বল্লুম-
কি রে কি হয়েছে –
কিছু ভিক্ষা দেবে, একটু খাব
কি খাবি-
যা দেবে-
তোর কি খেতে ইচ্ছে বল –
চোখে মুখের ভাব এমন হলো যে
এমন জিজ্ঞাসা যেন কখন শোনেনি আগে
এক নিমেষে শুকিয়ে যাওয়া জীর্ণ শরীরটায়
আনন্দের এক স্রোত বয়ে গেল বলে মনে হল,
‘আমি চিকেন পিৎজা খাব’
সে কি রে, একেবারে চিকেন পিৎজা, অন্য কিছু না-
না, খুব ইচ্ছে করত খেতে, কিন্তু এত পয়সা কোই
‘তোর কি খেতে ইচ্ছে’ বলাতেই তো বললাম-
ও তাই, চল –
দোকানদার একে এক প্লেট চিকেন পিৎজা দাও-
না না আমি প্লেটে খাব না
একটা পলিথিনে ভরে দাও –
কে’নরে ... এই যে ব…

সুতপা ঘোষ দস্তিদার

আত্মঘাতী
সুতপা ঘোষ দস্তিদার
একটু একটু করে প্রায়
পুরো আকাশ দখল করেছে
মেঘ          সেই সকাল থেকে
গুড়ি মেরে আসা প্রেমপ্রত্যাশি কালো পুরুষের বলিষ্ঠ বুকের
তলায় এখন নীলাম্বরী

রসসিক্ত হব বলে
আঁচল পেতে শুয়ে আছি
শুকনো নাবালে
একটুও সবুজ নেই তাই
টিয়ারা আর আসে না কাছে
সেই কবে এক সবুজ টিয়ার
পিছু নিয়ে অচিন কোন
মানবজমিনে পৌঁছে দেখি
সবুজে সবুজ     সে আমার
আঁচলে বুনে দিয়েছিল
সবুজের বীজ      তারপর
আশিরনখর সবুজ হয়ে
নিজেকে হারিয়েছি বহুবার
টের পাইনি জল শুকিয়েছে
কবে ধীরে ধীরে একেবারে।



যা হারিয়ে যায়
ঝিঞে ফুলের হলুদ ঘ্রাণ
মেখে বহুদূরে চলে গেছে
আলো      রেখে গেছে কথা
যেতে যেতে হাওয়ার কানে কানে       তাই কি এত চঞ্চলতা     পাতায় পাতায়
এত কাঁপন?
হা পিত্যেশ বসে আছি
সে কথা শুনব বলে
ঝিঞে ফুলের ঘ্রাণ মেখে
বহুদূরে চলে গেছে আলো
মেপে দেখিনি সে আলোয়
কত ব্যাথা ছিল ।



ভেঙে পড়ার আগে
কত কত ভালোর আশা চেয়ে
এত এত কালো মেখেছি হাতে
কালো হাতে যখন প্রায়
গুছিয়ে এনেছি সংসার
হঠাৎ একদিন  আঁতকে ওঠে সে          আমায় ছুঁয়ো না
তোমার কালো হাতে ।

পা জড়িয়ে ধরি জীবনের
যা কিছু সব তোমার জন্যে
হাতে কালি মেখে আমি
তোমায় রঙিন করেছি
ছেড়ে যেয়ো না আমায়।


কাকস্য পরিবেদনা
স্বজন পরিত্যক্ত ভগ্নপ্রায়
আম…

কৃষ্ণা মিশ্র ভট্টাচার্য

এম্প্যাথিকৃষ্ণা মিশ্র ভট্টাচার্য

নাইফ এজে
নীলাম হয়ে যাচ্ছে
তাজমহল
মার্বেলের শ্বেত নীরবতায় প্রতি রাতে ঈশা খাঁ গোঙায়
মুমতাজ বেগমের হীরের নাকছাবি হাতে করুণ বাদশার চোখের জল এখন
আর ইতিহাস ও মনে রাখে না
যমুনার জল সরে গেছে
মুমতাজের পায়ের মল থেকে
বহুদূরে
বৃষ্টির হীরক কুঁচি তাজ থেকে গড়ায়
প্লাজমা টিভির বৈদ্যুতিন মেল বক্সে
মর্মর সাদা মিনার ছেড়ে শব্দরা সব
চরতে বেরোয়
রাজা কি মন্ডীর সরাই খানায়
রেল ষ্টেশনে
জিরো আওয়ারে চেয়ার ছুঁড়ে শূয়োরের খোঁয়াড় কাঁপায়
তস্করের দল

সন্ধী প্রস্তাবের খসড়া
ভেসে যায় লেক ল্যামনের নীল গভীরে
পতাকা শোভিত জেনিভ শহরের তরল ঈথার
পথুয়া হাওয়ায় মুদ্রা গা ঢাকে
সাব ওয়ের প্যাচালো সিঁড়িতে গাটারে
লোদিরোডের ক্রিমেটরিয়ামে
হায়দরাবাগের ফুলকুচিতে
লিটলবয়কে তর্জনী দেখিয়ে গাজাষ্ট্রিপ কালাহারি দারুচিনি বন
যুদ্ধের বর্ম জড়ায়
রেললাইনের পাথরে আটকে গেছে ইনভ্যালিড
হুইল চেয়ার
ব্যাক গার্ডেনের তার টপকে দুধপুলি মা
ছুটে যায়
দুচোখে তার বুদ্ধের করুণা
 কালো শরীর বেয়ে ভালবাসা
রেতবিন্দুর মতো ঝরে
জীবনকে চুমু খেয়ে
জাম রঙা মেয়েটি
মাছরাঙা ডানায় উড়ে যায়
বৃষ্টি মাখা আকাশের নীলে---



অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়

এখানে জীবনঅরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘুম ভাঙতেই প্রভাবতী ঠাওর করতে পারে না, এখন সকাল না সন্ধ্যে। এখানে কোকিল ডেকে চলে একটানা, কী সকাল কী বিকেল। চোখ খুলতে উপরের অ্যাসবেস্টসের চালে নজর যায়। একটু একটু করে ঘরের আঁধার কেটে চোখ সইয়ে প্রভাবতী বুঝতে পারে, এখন সকাল। মনে পড়ে, কাল বিকেলেই তো মেজো ছেলের সাথে এখানে আসা হয়েছে।
জায়গাটা শিয়ালদহ মেইন লাইনে নদীয়া জেলার এক ছোট্ট গ্রামাঞ্চল। রেল স্টেশন থেকে পশ্চিম দিকে চলে গেছে লম্বা পাকা রাস্তা। স্টেশন লাগোয়া এলাকায় দোকান-পাটের ঠেলাঠেলি। একটু এগোলে বটতলা, বাঁধানো চত্তর। চায়ের দোকানে জটলা, রেজিস্ট্রি অফিস, সেখানে সকালের দিকে বেজায় ভিড় হয়। তারপর বাজার, খুব ভোরে শাক-সব্জি পাইকারি কেনা বেচা হয়। আর একটু এগোলেই রাস্তার এক ধারে আলু, ধান, ফুল কপির ক্ষেত, আর এক ধারে মানুষের বসতি। মাইল দেড়েক হাঁটলে ডান পাশে সরু রাস্তা নেমে গেছে আম আর কাঁঠাল গাছের সারিকে দু দিকে রেখে।
সরু পথের শেষ হয়েছে প্রভাবতীর দু বিঘে জমিতে এসে। প্রভাবতীর জেদে মেজো ছেলে হরিদাস তিন বছর আগে জমিটা কিনে ফেলে একেবারে সস্তা দরে। একটা একচালা ঘরও বানিয়ে দেয়, যদি মা এসে দু চার দিন থেকে যায়-এইভেবে। জমির একপাশে একট…

নীলাশিস ঘোষদস্তিদার

গলির দুই বুড়োনীলাশিস ঘোষদস্তিদার 
ই-রিকশা থেকে নেমে ভাড়া দিতে দিতে ভুরু কুঁচকে গেল অর্চিষার। বুড়োদুটো রোজকার মতই গলির মোড়ে  মোটা মোটা ছড়ি হাতে দাঁড়িয়ে। শুধু দাঁড়িয়ে গল্প করলে কথা ছিল। কেমন ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছে দ্যাখো! একজন আবার ঘড়ি দেখল! মানে? ও কটায় ফেরে লক্ষ রাখছে নাকি? হ্যাঁ, আজ একটু দেরি হয়েছে। এক কলিগের হ্যাপি বার্থডে পার্টি ছিল, সেখানে অর্চিষাসুন্দরী মধ্যমণি ছিল, যেমন হওয়া উচিৎ। একটু দেরি তো হবেই! তা এরা, তাই বলে মাতব্বরি করবে নাকি?
পাশ দিয়ে হনহন করে যাবার সময় ওরা কিছু বলল না অবশ্য। কেমন যেন একটা ঘেমো গন্ধ ওদের গায়ে। দুই বুড়োর কেউই অবশ্য খুব সাফসুফ থাকে না। পুরনো, একই জামা কাপড় দেখা যায় অঙ্গে, চুল-দাড়ি-গোঁফ খুব বিন্যস্ত থাকে না । এই ভাবতে ভাবতেই একটা দারুণ, একটু কড়া গন্ধ পেল সে। জিম করে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে হ্যান্ডসাম ছেলেটা। কুণাল কাপুরের মত দেখতে বলে নয়না এর নাম রেখেছে, কুণাল। চোখাচোখি হতেই হাই করল কুণাল। অর্চিষা ঘাড়টা বাঁদিকে পঁয়ত্রিশ ডিগ্রি মত কাত করে একটা সেলফি স্মাইল দিল। কুণালও ঘড়ি দেখল, তার পর ভুরু তুলল। মিষ্টি হাসল অর্চিষা, ‘বার্থডে পার্টি’! ‘আই সি’, বলে এগিয়ে গেল কুণাল।…

রেখা নাথ

ঘানী
রেখা নাথ 
মনোজ অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ করছিল । নিরীহ ব্রীফকেসটা যাত্রীদের বসার বেঞ্চের পাশে পড়ে আছে চুপচাপ । কে কখন রেখে গেছে । কে জানে ? ইচ্ছাকৃত নাকি ভুলে ? ট্রেন আসার সময় তার মেন টার্গেট থাকে মানুষ । পুরুষ মানুষদের পকেট আর মহিলাদের গলার চেনnমোবাইল কিংবা পার্স । আজ একাই এসেছে মনোজ । সঙ্গী সাথীদের মধ্যে কেউ হাজতে কেউ শহরের বাইরে । তাই আজ তাকে একাই আসতে হয়েছে । সারা প্ল্যাটফর্ম  তার আট দশবার ঘোরা হয়ে গেছে কিন্তু আজ বিশেষ কিছু সুবিধে করতে পারিনি । রাজধানী  চলে যাওয়ার পর  তার হঠাৎ নজরে আসে ওই লাওয়ারিশ ব্রীফকেসটার । তারপর থেকেই সে ওই  ব্রীফকেসটার ওপর নজর রাখে । দূর থেকে । সুযোগ বুঝে  ব্রীফকেসটা নিয়ে সটান পগার পার ।

ইদানীং লোকেরা একটু বেশী সতর্ক হয়ে গেছে বুঝি !  প্ল্যাটফর্মে পড়ে থাকা জিনিষ সহজে ছোঁয় না । বোমের ভয়ে । নাnএখনও পর্যন্ত  ব্রীফকেসটার কোনও দাবীদার আসেনি । রাজধানী চলে গেছে প্রায় আধ ঘন্টা হয়ে গেছে । লোকজনের আসা যাওয়ার মাঝে বেঞ্চের পাশে  চুপচাপ পড়ে আছে লাওয়ারিশ  ব্রীফকেসটা । আজ তাকে কিছু না কিছু উপার্জন করতেই হবে । বাড়িতে অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ ও ছোট বোনটির স্কুলের ফীস দিতেই হবে । অনেক…

স্বাতী নাথ

আমার জানা রবীন্দ্রনাথ
স্বাতী নাথ
প্রনমী তোমায় রবীঠাকুর। তোমার অনবদ্য লেখা করেছে আমাকে অনুপ্রানীত, কোথায় তুমি ছেয়ে নেই? আছো জন্মে, মৃত্যুতে, ভক্তিতে, প্রকৃতিতে, বিষাদে সর্ব ক্ষেত্রে সমানভাবে বীরাজমান।
যেমন তুমি বৈশাখ কে করেছো আমন্ত্রণ সকল পুরাতন কে ঘুচিয়ে দিয়ে সকল কলুষতা কে দূর করে নূতন কে করেছো আহ্বান, আবার দেখিয়েছ তার রুদ্র রূপ তপ্ত শুস্ক ধরণীকে নূতন প্রাণ দেওয়ার জন্য তুমি আহ্বান করেছ বর্ষা কে, তোমার লেখনীতে ফুটে উঠেছে তারপরূপ রূপ, শুস্ক ধরনী নূতন প্রাণ পেয়ে শষ্য শ্যামলা হয়ে উঠেছে, তুমি প্রতিটি ফুল কে স্থান দিয়েছ তোমার গানে , কবিতায়। বর্ষার জল পেয়ে তোমার মল্লিকা বনে কুঁড়ি আসে, মাধবীলতা ফুলে ফুলে ভরিয়ে দেয়, দোয়েল কোকিলের গানে ঘুম ভাংগে, তরুলতা সলজ্জভাবে বেড়ে উঠে ফুলে ছেয়ে যায়, তোমার ঘরে বেলফুল, বকুলের গন্ধেবাতাস ভরে থাকে,জ্যোৎস্না রাতে রজনীগন্ধা তার গন্ধসুধা উজাড় করে দেয়, করবী, মালতী, জুঁই সবাই তোমার প্রাণ ভরে থাকে, পথভোলা কে পথ দেখায়, নদীর মাঝির ভাটিয়ালী গান বা রাঙামাটির পথে বাউলের গান কিছুই তো বাদ যায়নি তোমার লেখনীতে।
শরত কে দিয়েছ এক আলাদা স্থান, কাশ ফুলে হাওয়ার ঢেউ, শুলী ফুলের গান”শিউল…

জয়ন্তী অধিকারী

একটি সাইকেল  ও দেহলিজ
জয়ন্তী অধিকারী


“ডরাইলেই ডর,ফাইল দিয়া (লাফিয়ে)পড়লে আর কিয়ের ডর-”

ছোটবেলায় এই আপ্তবাক্যটি আমাদের খুব কাছের মানুষ নারায়ণকাকার মুখে প্রায়ই শুনতাম। বিশাল ভুঁড়ির ওপর ধবধবে  সাদা পৈতেগাছাটি তুরতুর করে নাচছে,কোন অজ্ঞাত কারণে যতক্ষণ বাড়িতে আছেন ততক্ষণ কাঁধে লালনীল গামছা,চশমার আড়ালে বড় বড় চোখ দুটি  সর্বদাই যেন কোন বেজায় মজার কথা শুনে জ্বলজ্বল করছে,যেকোন কঠিন জিনিস অবিশ্বাস্য কম সময়ে  জোগাড় করতে সিদ্ধহস্ত, যেমন ছাদনাতলার কলাগাছ,কলকাতায় বসে ঢাকার বাখরখানি পরোটা,বড়বাজারের কোন দুর্গম  গলির গলি,তস্য তস্য গলিপথ বেয়ে আশ্চর্য  আয়ুর্বেদিক  ওষুধ,যা কিনা বছরে একবারই তৈরি হয়,ইত্যাদি,ইত্যাদি। এই কাকু যে আমাদের রক্তসম্পর্কের কেউ নন,সেই জ্ঞানটি আমাকে প্রথম দেয় আমার এক ক্লাসবন্ধু-"তুই কী ন্যাকা রে!নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় তো ব্রাহ্মণ নাম,তোরা তো দাশগুপ্ত ,ইনি তোর নিজের কাকু হবেন কেমন করে?”

ব্রাহ্মণ বৈদ্যের ব্যাপারটা অবশ্য ভাল বুঝিনি,এসব জটিল সমীকরণ বোঝার আশা রাখিনা -স্বয়ং গুরুদেব বলে গেছেন,সমস্ত কে বুঝেছে কখন!

নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সব ভাইবোনদের কাকা ছিলেন,আমৃত্যু। তাঁর মত চমৎকার, সহৃ…

ইন্দিরা দাশ

সহোদরা
ইন্দিরা দাশ


“টিফিন দিয়েছে?”, “তোর চেয়ে বেশি”
“তা কেন হবে রে, পাজি রাক্ষুসী?”
“রুমালটা কই!” “তুই তো হারালি”
“আজ স্কুলে লেট” “সত্যি, মা-কালি”!
“বাড়ি ফিরে শোন্‌, আমি স্নানে যাব”
“শরীর খারাপ, দাঁড়িয়ে কাটাব!”


“ছোড়দা’র বিয়ে, বউদি’র ভাই”
“চোখ মেরেছিল আই-আই-টি তাই?”
“চিরুণী নোংরা” “ধুয়ে তো দিলাম”
“কাল পাকা কথা”, “ছবি দেখলাম”
“টিপের পাতাটা, দুটো লিপস্টিক
তোকে দিয়ে যাই” “মেখে নেব ঠিক”।

“আদর করল?” “ঐ একরকম
আসছে ফাগুনে, তোরও এরকম”  “শাশুড়িটা ভালো, বড়-জা গরম”  “পেটের’টা নড়ে?” “রাতে কিছু কম”  “ববি ইস্কুলে একা একা যায়?  আমারটা ভীতু, আজও ভয় পায়”।  

“মাসে হয় না কো, টুসু বি-এ পাশ”
“এ বয়েসে হবে, সয়াবিন খাস্‌”
“বাবা’র পরেতে, মা’ও ছবিখানা”
“বৌমা সিজার, নাতি’র বিছানা”
“বড়ি-সুক্তো’টা সেই কাঁথাফোঁড়
ভুলে ভুলে যাই ,মনে আছে তোর?”               


“আজকাল তোকে, মা’র মত লাগে
আয়নায় ও তাই”, “দেখিনি তো আগে!”

পাখি খুনসুটি, পাখি ফল খায়
পাখি হুটোপাটি, পাখি উড়ে যায়।



দিলীপ ফৌজদার

আলোকবর্ষদিলীপ ফৌজদার
যক্ষ শুধাইলেন বার্তা কী?
যুধিষ্ঠির উত্তর করিলেনঃ এই মহামোহরুপ কটাহে কাল প্রাণীসমুহকে পাক করছে, সূর্য তার 
অগ্নি, রাত্রিদিন তার ইন্ধন, মাস-ঋতু তার আলোড়নের হর্বী হোতা। এই বার্তা। বনপর্ব, মহাভারত।


ঐ অতলান্তিক শূন্যের কোন শেষ না থাকলেও ছোঁবার, ভিড়বার কিছু আছে। তুমি যদি ব্যাকটিরিয়া ও তার তুলনায় ওরা যদি মারবেল, কিম্বা নুড়িও যদি হয় তার ওপর ভর করা যায়। তার ওপর একটা কলোনি বসান যেতে পারে।
এর নাম যুক্তি তর্ক । যা যা করা যেতে পারে ও যা কিছু হতে পারে তাই নিয়ে জল গরম বা জল ঘোলা – যা বলবে। কি কি করা যেতে পারে ও তাতে কি কি হতে পারে এই সমস্ত তর্ক পেরোলে তখন কিছু হওয়া। যেগুলো হবার সেগুলো হয়ে গেলে তখন কি?
তখন অন্যরকম। তখন তুমি বাস্তবের ট্রিগার টিপে সময়টাকে পেরিয়ে চলে গেছ। এই ট্রিগার টেপার ব্যাপারটা না থাকলে কিছু চলেও না যে! তুমি ট্রিগার টিপতে পারলে তবেই তুমি মরদ কা বাচ্চা। না পারলেও গরিলাদের স্টাইলএ ছাতি ঠুকে দেশ দুনিয়াকে জানিয়ে দাও যে ওটা তোমারই, একদিন না একদিন ওটা তুমিই টিপবে। যদি তুমি ছাতি ঠুকে মানুষকে বুঝিয়ে ফেলতে পার যে তুমি সত্যি সত্যিই একটা গরিলা অর্থাৎ গরিলাদেরই মতই তুমি অতোটাই অব…

ঝুমা চট্টোপাধ্যায়

নিষ্ঠুরতা  বিষয়্ক গল্প
কিছু কিছু প্রেম............................................................।
নিষ্ঠুরতার গল্পে প্রেম থাকবেই। প্রেমই ভিলেন। ( যেমন , প্রেম ! প্রেম নাম হ্যয় মেরা ! প্রেম চোপড়া !)
লাফাঙ্গা টাইপ দোকানদার ছেলেটা ঠিক অমনি করেই জয়ন্তকে বলল , যেশাস ? যেশাস ফেসাস অবতক নহী আয়া হ্য ইধর !
... কদিন আগে যে অর্ডারটা দিয়ে গেলাম , একটা কালার প্রিন্ট আউট !’’ পালটা কথাটা বলতে গিয়ে  বাকিটা গিলে ফেলল জয়ন্ত । নিকুচি করেছে ... চুলোয় যাক অর্ডার ! তিলে খচ্চর এ ছেলেকে কে এখন বোঝাবে ওরে বাবা তিন দিন আগে যীশু খৃষ্টের একটা কালার প্রিন্ট আউট নিয়ে যাব বলে গেছিলাম । মাপ এ ফোর সাইজ হলেই বেটার ... তখন তো বলা হয়েছিল  হ্যাঁ হ্যাঁ ছবির প্রিন্ট আউট তো ? যখন খুশী এসে নিয়ে যাবেন ! পঁয়ত্রিশ টাকা লাগবে ।
বড়দিন বলে ঘরে ছেলে বায়না ধরেছে , যেশাসের ছবি এনে দাও বাবা ! আমি সাজাবো ... ‘ । কিন্তু শুধু ছবি হলেই তো কাজ শেষ হয় না , অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিষপত্র গুলো কে আনবে ? ভাল কেক , মোমবাতি ,ফ্রায়েড রাইস , মটন কষা ...... সঙ্গে সঙ্গে এগুলোর প্রিপারেশন ছেলের মা-র ডিপার্টমেন্টে  চলে গেল । জয়ন্ত শুধু ছবি এনেই খালাস ! সানন…