Skip to main content

ঝুমা চট্টোপাধ্যায়

পরিচ্ছন্ন   সমতল  জায়গাটা

ঝুমা  চট্টোপাধ্যায়


নেই। 
হাঁ ইয়া’ক  অ্যাকটু ডিংল্যার ঝাল দাও!- - - - নেই!
অনেক দূর থেকে এসিচি, নুচি আর রইচে? ---- নেই!
আবার কঁকাইচিস? দুবো এক ঘা! তুর বাপ কোথা? ----- নেই!
তোর চোদ্দ পুরুষের নাম বল্! এক্ষুণি! ----- নেই!
সব দেশে মোর আছে ঘর, আমি সেই ঘর ... ---- বললাম না নেই!
ভাল খারাপ কথা না, হিটলার ইহুদী মেরেছিল ( ইহুদীদের হাতে পয়সা বেশি)। ট্রাম্প আমেরিকা থেকে বাঙালী তাড়াচ্ছে। জার্ম্মানীতে নাজিরা উঠছে, স্পেন ফ্রান্স বলছে , বিদেশী ভাগাও। এ মুহুর্ত্তে নাগরিকত্বহীন প্রমাণ করে কিছু মানুষকে আসাম রাজ্য থেকে সরাসরি তাড়িয়ে দেবার পাকাপাকি ব্যবস্থা আন্ডার প্রসেসিং..., ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও এমন ঘটনা ঘটছে না নিশ্চিত বলা যায়না কিন্তু শোষিতটি যখন সীতাফল্, পেঠা, কিওনী, ব্ল্যাক পামকিন না বলে পাতি বাংলায় ‘কুমড়ো’ উচ্চারণ করেন, তখন গা মাথা ঝনঝনায়, আঙ্গুল নিশপিশ করে( আমার একটা গীতবিতান ছিল না! মেজ মামার দেওয়া!),এবার পয়লা বৈশাখের সকালে দেশে ফোন করেছিলাম( আরে বাবা সানডে ছিল),যে যাই বলুক আমি বাবা দুর্গাপুজোয় অষ্টমীটা ছুটি নিই,... ... অ্যাঁ ! সেকি? এন আর সি চল্লিশ লক্ষ বাঙালির পাছায় কিক মেরেছে? তাদের বেবাক নাগরিকত্ব উধাও! এই হ্যারাসমেন্টের কোনও মানে হয়? হলে আসামের দেখাদেখি দিল্লি মুম্বাই ঝাড়খন্ড সব জায়গায়...। বহিরাগত বাঙালি, বাঙালি খেদাও, বাঙালি বাবু ( অমর প্রেমের রাজেশ খান্না কে ধরতে পারেন), কোনটা বেশি গ্রে ম্যাটারকে ধরে ঝাঁকাচ্ছে, শোষিত মানুষটা না তার কথ্য ভাষাটা? 
চল্লিশ লক্ষ - সংখ্যাটা নেহাৎ মন্দ না। হুঁ হুঁ বাবা! দেখলে হবে ! রীতিমত বনেদীয়ানা আছে। এই চল্লিশ লক্ষ অ্যাদ্দিন কোন মুলুকে ছুপা রুস্তম হয়ে বসেছিল কে জানে? আসামের ভাবনা আসাম ভাবুক, আপাতত চল্লিশ লক্ষটা খুব তাতাচ্ছে। চল্লিশ লক্ষের ভুয়ো পরিচয় পত্র, ভুয়ো রেশন কার্ড, মিথ্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, জ্বাল নোট, বে আইনী জমি বাড়ি,অ্যাডপ্টেড ছেলে, নকল ভাল মানুষী ( আগেহ্ ...!) এস্ট্ররা এস্ট্ররা আছে ছিল থাকতে পারে থাকবে আগে ছিল এখন নেই ( প্লিজ ফালতু সেন্টিমেন্টে সুড়সুড়ি দিও নাতো! আমার বুঝি দুঃখ হয় না?)। পশ্চিমবঙ্গের নাম এবার থেকে বাংলা ইংরেজী হিন্দি সব ভাষাতেই ‘বাংলা’ বলে লেখাও হবে বলাও হবে জানোতো? হিঃ হিঃ! যে ছিল আমার স্বপনোচারিনি তাকে চিনিতে পারিনি বুঝিতে পারিনি...। ভাষাটার নাম বাংলা বলে দেশটাও বাংলা? বাড়ির ঠিকে কাজের মেয়েটাকে একটু  বেশি কাজ করতে বললেই বলবে , এত বাংলা কাজ আমি করতে পারব না। এই না! ব্যাপারটা কিন্তু সিরিয়াস। আজ আসাম কাল তো অন্য কোথাও হতে পারে। তাছাড়া বাঙালি বেঁচে থাকতে বাঙালির এই হেনস্থা অসহ্য। দিল্লি মুম্বাই চেন্নাই সিওরা লিনেয়ো কাঁহা কাঁহা বাঙালি বাস করছে না বলো দেখি একবার! তাই বলে যখন তখন যাকে তাকে যেখানে সেখানে একুশে আইন দেখাবে? অর্ডর! অর্ডর! যাকে তাকে একুশে আইন দ্যাখায়নি তো! শুধু বাঙালিদের দেখিয়েছে, তাও সব বাঙালি না, শুধু যারা বহিরাগত তাদিগে সাফ জানিয়ে দিয়েছে এ মুলুকে আর তোমাদের ঠাঁই হবে নাকো। অনেক হয়েছে , এবার পত দ্যাকো। কেউ তিন মাস আগে এসেছে, কেউ তিন পুরুষ ধরে মাটী আঁকড়ে পড়ে আছে। এক নদীর জলে চান করেছে, এক বাতাস থেকে সবার সঙ্গে সম্মিলিত অক্সিজেন টেনেছে, এক বুথে গিয়ে এক লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছে তো হয়েছে কি? তুমি বে আইনি রসদ টেনেছো অ্যাদ্দিন, এবার মানে মানে কেটে পড়ো। কোথায় যাবে বুঝে নাও। উপ মহাদেশের তিন দিকে সমুদ্র আছে, চাইলে ডুবে মরো’গে! 
ইতি মধ্যেই সোশাল মিডিয়া তোলপাড় হয়ে গেছে। বহিরাগত বাঙালিদের এই অপমান এই অন্ধকার ভবিষৎ সহ্য করব না! করছি না! কেন এন আর সি পেছনে কাঠি দেবার জন্য আর লোক পেল না? বেছে বুছে সেই বাঙালিকেই বার করল? যে বাঙালি নাকি এক দিন বঙ্গভঙ্গ অগ্নিযুগ স্বদেশী দেশভাগ ছিন্নমূল দাঙ্গার শিকার উদ্বাস্তু রিফিউজী ’৫৯ এর খাদ্য আন্দোলনের মিছিল... এমন ভাল উপভোক্তা আর কোথাও পাবে? আজ নাহয় ব্যাপারটা আসামে হয়েছে, কাল মহারাষ্ট্র কিংবা হরিয়ানায় হতে পারে। পাড়ায় জায়গা নেই, জেলা পেছিয়ে পড়েছে, রাজ্যে চাকরী নেই, ভাল অপারচুনেটির জন্য সবাই বাইরে ছুটবে । কেউ আগে কেউ পরে। পশ্চিমবাংলায় এখনো দেদার খালি মাঠ ঘাট, বাঙালি যদি সেধে বহিরাগত হয় তো কার কি বলার আছে? কিন্তু বিষয়টা ওভাবে দেখলে হয় না। পশ্চিমবাংলায় তো এমন কয়েক লক্ষ মানুষ আছেন যাঁরা তিন পুরুষ ধরে উদ্বাস্তু, মানে এখন আর তাঁরা উদ্বাস্তু নন। বরং শিক্ষায় দীক্ষায় ব্যবসা সাহিত্য সংস্কৃতি কেরিয়ার মানি মার্কেট ইত্যাদি প্রায় সব কিছুতেই তাঁরা এগিয়ে, সফল ,ও কেউ কেউ তাঁদের ন্যাশানাল ফিগার। স্বেচ্ছায় তাঁরা আর পশ্চিমবাংলায় ফিরতেই চান না। বহিরাগত বাঙালি বললে আজ এঁদের অসন্মান করা হয়...
কিন্তু সমস্যাটা তা নয় ঠিক। মুটে মজদুর ঠেলাঅলা সবজি বিক্রেতা মাছের দালাল বাঙালিও রয়েছেন যাঁরা একইসঙ্গে বহিরাগত এবং পুরোমাত্রায় আধুনিক জীবন দৃষ্টির আলোকপ্রাপ্ত নন, বিশেষ লেখাপড়াও শেখেননি ও তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিপিএল সীমার বেশ নিচেই বসবাস করেন। কিন্তু আমার সঙ্গে আমাদের সঙ্গে তাঁদের মিল কোথায় ? না , আমার ও তাঁর মাতৃভাষা এক , অর্থাৎ বাংলা।
আরে ধুত্ তেরিকা ধান ভানতে শিবের গীত নিয়ে এল! হচ্ছে বহিরাগত বাঙালি সমস্যা নিয়ে ... , ভাষা ফাষা আবার কেন?
ভাষা নয়ই বা কেন? আমি ও উহারা , উভয়ত ‘কুমড়ো’ ভোজী,দুই এক জন বাদ দিলে ‘কুমড়োপটাশ’ও চিনেছি সেই ফুল কুড়োনো ছোট্টবেলায়। এখন নাকি মাটির বিভিন্ন স্তর বিভিন্ন ক্ষমতালোভীদের দখলে এবং গোটা দেশই খাসজমি , রং-রাজনীতি,বর্ণ বিদ্বেষ থাকলেও আছে। না থাকলেও আছে। আর আছেন কিছু বাঙালি কবি লেখক সাহিত্যিক। শিলাইদহ পতিসর বা কাঁটালপাড়ার উত্তরসুরী, ভারত আবার দুই টুকরো হলে আর একটা দেশভাগ, আরও একটা পূর্ব পাকিস্তান, কাঁটাতার, গঙ্গা-পদ্মা জল বন্টণ......
বাঙালির টেম্পারমেন্ট কেউ ধরতে পেরেছে আজ পর্যন্ত? আজ যদি চল্লিশ লক্ষ বেঘর হয় তো তার দায় কে নেবে? কোথায় যাবে মানুষগুলো? খাবে কি? শীত গ্রীষ্ম বর্ষা থাকবে কোথায়? রাষ্ট্র বিপ্লব বাঁধবে ?
মেসেঞ্জারে আসামের বাঙালি চেন্নাইয়ের বাঙালিকে জিজ্ঞেস করবে, এ মুহুর্তে আমি কোনও ডিসিশন নিতে পারছিনা! তাহলে আমি কি করবো? বাঙালি বাড়িওলা বিহারী চানাওলাকে ডেকে বলবে,এ ব্যবসায় রোজ কেমন লাভ আছে রে? আর সপ্তাহের শেষে বাঙালি প্রেমিক উইক এন্ড স্পেন্ড করার সময় অনিচ্ছাকৃত ভুল করে ফেললে প্রেমিকা মৃদু ধমক দিয়ে বলবে,তোকে ঠিক আসামের বাঙালিদের মত দেখতে লাগছে!
আমাদের একটা মাতৃভাষা ছিল। একটা ‘জন গন মন’ ও ‘ভারতের ইতিহাস’। সব ভুলে নাগরিক অধিকার নিয়ে আসমুদ্রহিমাচল তোল্পাড় করছি। একটা সময় বাংলা সারা ভারতকে পথ দেখিয়েছে, আজও দেখাতে পারে, হিউজ অপারচুনেটি। কিন্তু অনেকানেক সূক্ষ্ম অতি সূক্ষ্ম হিসেব নিকেশ, তলিয়ে ভাবার অত কারুর সময় নেই। সবাই সবার আগে ছুটছে। অধিকার দাবি আশা প্রাপ্য- এসবের বিরাট লিস্ট। 
কি হলে বাঙালি হয়? কোনটা বাঙালির আইডেনটিটী? বাংলা ভাষা ?

Comments

Popular posts from this blog

দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো

সুধী দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো https://dehlij7.blogspot.com/     বহু প্রতীক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একমাত্র কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন, সংযোজনা করেছেন ।  দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এত সুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে ধন্যবাদ জানাই । শুধু দিল্লি নয়, ঢাকা, কলকাতা, হাওড়া, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।   দেহলিজের এই সংখ্যায় কিছু নতুন কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করা হলো । কবিতার সঙ্গে মেশানো হলো ছবি, ভাষ্কর্ষ ও ক্যামেরা ক্লিক । দৃশ্যময়তা ও টেক্সট একে অপরের জায়গা শেয়ার করা । নেওয়া হলো কবিতা নিয়ে আলোচনা । কবিরা কি ভাবছেন ? চিত্রকরেরা কি ভাবছেন এই ২০২১ এ দাঁড়িয়ে । যুক্ত করা হলো আন্তর্জাতিক কবি ও চিন্তকদের । যারা কবিতা, গদ্য ও বিশ্বসাহিত্য

প্রকাশ হলো দেহলিজ -৬

দেহলিজ-৬ প্রকাশিত হলো   ক্লিক করুন | Click Here   বহু প্রতিক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একটা কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন । দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এতসুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই । শুধু দিল্লি নয়, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।    এই সংখ্যায় কিছু নতুন টেমপ্লেট নেওয়া হলো । ডেস্কটপ ও মোবাইল থিম আলাদা করা হয়েছে । নতুন করে সাজানো হয়েছে মেনু লিংক । অটোমেশন করা হয়েছে । সংখ্যায় বৈচিত্র নিয়ে কিছু কাজ করা হলো । কবিতা ছাড়াও রাখা হলো মুক্তগদ্য, অনূদিত নাটক, বই রিভিউ, স্মৃতিচারনা ও ছোট হল্প । আর একটি বিষয় নিয়ে এই প্রথম কাজ করা হলো সেটা হলো - কবিতা ও চিত্রকলার মিলনসংহার । ৬ জন কবির কবিতাকে উডকাট ব্লাক এন্ড হো

আসছে দেহলিজের সংখ্যা - ৬

 প্রকাশ পাচ্ছে দেহলিজ-৬ করোনাকালের শুরুতে প্রকাশ পেয়েছিলো, দেহলিজ-৫ ; তেমন উচ্চবাচ্য হয়নি, ইচ্ছে করেই করা হয়নি, মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই ছিলো একটা কবিতা । লকডাউন শুরু হলো, মানুষ আটকা পড়লো ঘরে । শুরু হলো ঘরে বসে লাইভ টেলিকাস্ট । দেহলিজে - নতুন গ্রুপ একটিভিটি বেড়ে উঠেছে । তার একটা খসড়া এই রকমঃ  প্রিয় কবি বন্ধুগণ   আজকের এই বিশেষ অবসরে, আমার কিছু যত্নে লালিত প্রস্তাব রাখার অভিপ্রায়ে , এই পোস্টের অবতারণা  । দেহলিজ পত্রিকার সম্পর্কে এই  বিষয়টি একটা অভিনব ও যুগান্তকারী বলেও  মনে হয় আমার । দিল্লির যানজট, লকড ডাউন,  অফিস ব্যস্ততা, বাংলা ভূখণ্ডের দূরত্বে ভৌগলিক অবস্থান , উৎসাহী কবির স্বল্পতা বাংলা চর্চার ক্ষেত্রে একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে । তদুপরি ভাষার বিবিধতা , জাঠ হরিয়ানভি ঠাট,  পাঞ্জাবী কালচার আগ্রাসন করে নিয়েছে অনেক কিছু । বর্তমান দেশব্যাবস্থা, রাজনৈতিক সমীকরণ সাহিত্য দিল্লি-বক্ষে সাহিত্য প্রয়াসের প্রতিকুল সততই । এই রকম চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাও একটি সাহসী পদক্ষেপ , আমাদের একত্রিত প্রয়াসে  আমরা বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডা ও অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে তবুও তুলে ধরেছি । দেহলিজের এই অগ্রগতি আমাদের একটা আশ