Skip to main content

অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়

এখানে জীবন

অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়


ঘুম ভাঙতেই প্রভাবতী ঠাওর করতে পারে না, এখন সকাল না সন্ধ্যে। এখানে কোকিল ডেকে চলে একটানা, কী সকাল কী বিকেল। চোখ খুলতে উপরের অ্যাসবেস্টসের চালে নজর যায়। একটু একটু করে ঘরের আঁধার কেটে চোখ সইয়ে প্রভাবতী বুঝতে পারে, এখন সকাল। মনে পড়ে, কাল বিকেলেই তো মেজো ছেলের সাথে এখানে আসা হয়েছে।
জায়গাটা শিয়ালদহ মেইন লাইনে নদীয়া জেলার এক ছোট্ট গ্রামাঞ্চল। রেল স্টেশন থেকে পশ্চিম দিকে চলে গেছে লম্বা পাকা রাস্তা। স্টেশন লাগোয়া এলাকায় দোকান-পাটের ঠেলাঠেলি। একটু এগোলে বটতলা, বাঁধানো চত্তর। চায়ের দোকানে জটলা, রেজিস্ট্রি অফিস, সেখানে সকালের দিকে বেজায় ভিড় হয়। তারপর বাজার, খুব ভোরে শাক-সব্জি পাইকারি কেনা বেচা হয়। আর একটু এগোলেই রাস্তার এক ধারে আলু, ধান, ফুল কপির ক্ষেত, আর এক ধারে মানুষের বসতি। মাইল দেড়েক হাঁটলে ডান পাশে সরু রাস্তা নেমে গেছে আম আর কাঁঠাল গাছের সারিকে দু দিকে রেখে।
সরু পথের শেষ হয়েছে প্রভাবতীর দু বিঘে জমিতে এসে। প্রভাবতীর জেদে মেজো ছেলে হরিদাস তিন বছর আগে জমিটা কিনে ফেলে একেবারে সস্তা দরে। একটা একচালা ঘরও বানিয়ে দেয়, যদি মা এসে দু চার দিন থেকে যায়-এইভেবে। জমির একপাশে একটাই ঘর। ঘর লাগোয়া দাওয়া। না কোনো রান্নাঘর, না পায়খানা বাথরুম। সমস্ত প্রাকৃতিক কাজকর্ম সারার জন্য আছে মাইলের পর মাইল জুড়ে খেত খামার আর জঙ্গল। হরিদাস দু একবার বাথরুম পায়খানা বানিয়ে দেওয়ার জন্য মৃদুভাবে মাকে বোঝানোর চেষ্টা করে বিফল হয়েছে। প্রভাবতীর এককথা, “দেশের বাড়িতে কী এসব ছিল? আর কদিনই বা এসে থাকা হবে এখানে! শুধু শুধু একগাদা খরচা।”
আস্তে আস্তে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে প্রভাবতী । বাইরে এখন আকাশ জুড়ে সকালের নরম আলো ছড়িয়ে পড়ছে একটু একটু করে। গরম এখনো নখ আর দাঁতে দেখা দেয় নি, তাই সকালটা বড় মনোরম। দরজার আগল ঠেলে বাইরে আসতেই একঝলক ঠাণ্ডা হাওয়ায় চোখ মুখ জুড়িয়ে গেল প্রভাবতীর। দাওয়ায় এসে ঘটিতে করে জল নিয়ে মুখচোখ ধুয়ে নিতে নিতে সে ভাবে, এখন তো ব্যারকপুরে হরিদাসের বাড়িতে মাঝরাত! হরির বউ নিভা উঠতে উঠতে সকাল ছটা। কটা বাজতে পারে এখন? চারটে, সাড়ে চারটে বোধহয়। কাছে ঘড়ি নেই একটাও। এ যেন প্রভাবতীর সেচ্ছা নির্বাসন! এখানে সময় যেন থমকে যায় আম কাঁঠালের দঙ্গলে। ঘড়ির কাঁটা ঘোরে বিলম্বিত হয়ে, পৃথিবীর আহ্নিক গতির নিয়মকে অস্বীকার করে।
আসলে বাহাত্তুরে প্রভাবতী এখানে চলে এসেছে বউ নিভার উপর অভিমান করে। সচ্ছন্দ জীবনের উপর হটাত বিতৃষ্ণা হবার কোনো প্রাসঙ্গিক ঘটনাও ঘটে নি। নইলে দোতলা দালান বাড়ির আরাম ছেড়ে দুম করে এই অজ পাড়া গাঁয়ে কেউ আসে না। সব কিছুর মূলে প্রভাবতীর অপরিসীম জেদ, আর মা নেওটা হরিদাসের প্রশ্রয়। ‘ডালে নুন বেশি হল কেন’, বা ‘কচু বাটায় যথেষ্ট নারকোল কোরা নেই কেন’, এই নিয়ে অশান্তি, প্রায় সব ঘরেই শাশুড়ি আর বউয়ের নিত্য দিনের সঙ্গী। হতে পারে সাংসারিক একঘেয়েমি জায়গা বদলের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সে যাই হোক, আজ সকালটা প্রভাবতীর মন্দ লাগছে না। সামনে প্রসারিত বাগানের আম কাঁঠালের গাছগুলো তার বহুদিনের পরিচিত। আবছা আলোয় ঘেরা বাগানটা দিয়ে একটি কিশোরী, যেতে যেতে থমকে দাঁড়িয়ে পরে জিজ্ঞাসা করল, “ঠাগমা নাকি? কবে এলে গো?”
প্রভাবতী কপালে হাতের পাতাটা ধরে চোখ কুঁচকে আন্দাজে উত্তর দিল, “কে রে? রামজীবনের মেয়ে বুঝি?”
“হ্যাঁ ঠাগমা। কবে এলে বললে না?”
“কাল বিকেলে, হরিদাস দিয়ে গেল।”
“তা থাকবে তো কদিন? আসব’খন দুপুরের দিকে”, মেয়েটা জঙ্গলের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলল প্রাতঃক্রিত্য সারতে।
প্রভাবতী জানে, ওর বাবা রামজীবন বড় গরীব, বিড়ি বেঁধে সংসার চালায়। তিন তিনটি মেয়ে। বউ আর মেয়েরা রামজীবনকে সাহায্য করে বিড়ি বাঁধতে।

বেলা বাড়তে দাওয়ার একপাশে উনুন জ্বালিয়ে সবে আলুসিদ্ধ আর ভাত বসিয়েছে প্রভাবতী। মাদুর বিছিয়ে বসে আম কাঁঠালের সারির দিকে তাকিয়ে নানা চিন্তায় মগ্ন সে। বাগানের ভিতর আম কাঁঠালের শুকনো পাতা মাড়িয়ে কারো হেঁটে আসার শব্দ উঠল। চশমাটা পরে নিয়ে প্রভাবতীর দেখল রামজীবন আসছে তার দাওয়ার দিকে। অনেকটা ঝুঁকে হাঁটছে যেন! বুড়োটে মেরে গেছে অভাবের তাড়নায়।
“কবে এলে মাসীমা?” জিজ্ঞেস করেই কাশতে শুরু করল।
“এই তো বাবা, গতকাল। ভাল আছ তো বাবা?”
“এই তো, ঝেমনটা দেকচেন”, রামজীবন কাশির দমক চাপতে চাপতে বলে।
বিড়ি যারা বাঁধে, কাশি তাদের নিত্য সঙ্গী, তা জানা আছে প্রভাবতীর। দাওয়ায় বসে হাঁফাতে থাকে রামজীবন। কাঁধের গামছাটা দিয়ে ঘাড় আর মুখ মুছতে মুছতে বলে, “আমাদের আবার থাকা আর না থাকা! তা আপনি একা চলে এলেন যে বড়? এখানে আছেটা কী?”
“কেন এখানে আমার আম কাঁঠালের বাগান আছে, তোমরা আছ।”
“তা তো আছি, কিন্তু বউয়ের উপর রাগ করে সব ফেইলে এলেন না কী গো?”
“না, তাদের উপর রাগ করলে কে আর শুনছে!” গলায় যেন বিষাদ ফুটল প্রভাবতীর। উঠে গিয়ে ঘর থেকে দুটো বড় বড় নারকোল নিয়ে এসে রামজীবনের হাতে দিয়ে বলে, “নিয়ে যাও, আমার ব্যারাকপুরের বাড়ির নারকোল। তোমার মেয়েরা খাবে’খন।”
রামজীবন নারকোলগুলো হাতে করে পরখ করতে করতে বলল, “কিছু লাগলে বলবেন মা, আমার মেয়ে দুটোকে হাঁক দেবেন।”
হাঁড়িতে প্রভাবতীর ভাত সিদ্ধ হল। উপুড় দিতে দিতে মনে হল চৈত্রের রোদ চড়চড় করছে বাগান জুড়ে। সরসর করে বাতাস বইছে। আমের মুকুল এল। কাঁঠাল গাছে ছোট ছোট এঁচোড় মুখ বাড়াচ্ছে। মনে পড়ে, ছোটবেলায় প্রভাবতী খুব দুরন্ত ছিল। কাঁঠাল গাছে উঠে বসে থাকলে কেউ খুঁজে পেত না। দুরন্ত মেয়ের পায়ে বেড়ি পরাতেই, পাশের গ্রামের মাধব বাড়ুজ্জের সাথে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হল। তখন কতই বা বয়স প্রভাবতীর, পনের ষোল হবে। চার সন্তানের জন্মদাত্রী প্রভাবতীর দ্বিতীয় সন্তান মারা যায় জন্মের পরেই। সন্ন্যাসী ঠাকুর বলেছিলেন, ছেলেদের জন্মালে নামের শেষে ‘দাস’ লাগাও। তাই প্রথম ছেলে অনিলের পর নামকরণ হল - হরিদাস আর রবিদাস। বেঁচে বর্তেও রইল তারা। হরিদাস ছাড়া বাকি দুই ছেলে জামশেদপুরে। সে একটা ঝকঝকে শহর হলে কী হয়, প্রভাবতী যতবার সেখানে গেছে, ততবার মনে হয়েছে, এ শহর প্রাণহীনতায় ধুঁকছে। যন্ত্রের মত সব মানুষ। যন্ত্রের নিয়মে কারখানার ভেঁপু বাজলে শ্রমিকেরা দৌড়োয়, কারখানার ভেঁপুতে তারা বাড়ি ফেরে ক্লান্ত শরীরে। তাই ছেলেদের শত অনুরোধেও পাকাপাকি ভাবে জামশেদপুরে থাকা আর হয়ে ওঠে নি প্রভাবতীর, হরিদাসের কাছেই থেকে গেছে।
হরিদাস চাকরী করে রেলে। মালগুদামের কেরানী। মাত্র চব্বিশে প্রভাবতী স্বামীহারা। ওপার বাংলা কুষ্টিয়া ছাড়তে হয়েছিল দেশ বিভাগের আগেই। বড়ছেলে অনিল চাকরি নিল জামশেদপুরে কারখানায়। মেজো হরিদাস ঢুকল রেলে। ছোট ছেলে রবিদাস বড়দার পিছন পিছন জামশেদপুরে ছুটল। আজ প্রায় ন-দশ বছর হল ব্যারাকপুরে জমি কিনে বাড়ি করল হরিদাস। প্রভাবতীর আর দুই ছেলে থাকে টাটা কোম্পানির কোয়ার্টারে।
খাওয়া শেষ করে আলগোছে তামার ঘটি থেকে জল মুখে ঢালতে ঢালতে হটাত দুই নাতির কথা মনে পড়ে প্রভাবতীর। আজ কী দিয়ে আজ ভাত খেল ওরা কে জানে? উঠতি বয়সের ছেলেদুটোর যত খাই খাই বায়না, সব প্রভাবতীর কাছে। ক’দিন যাক, টের পাবে নিভা। সংসারে প্রভাবতীর অনুপস্থিতিটা বুঝবে এবার! দাঁত থাকতে কী আর দাঁতের মূল্য বোঝে মানুষে?
দাওয়ার উপরে বিছানো মাদু্রের উপর শুয়ে পড়ে প্রভাবতী। বাগান জুড়ে এখন চৈতি হাওয়ার দাপাদাপি। সামনে দিগন্ত জোড়া সবুজ ধানের ক্ষেতে হাওয়া দোলা দিয়ে যায়। কোথাও একটা নিঃসঙ্গ কুবো পাখি কুব কুব করে একটানা ডেকে চলে। প্রভার চোখে ঘুম জড়িয়ে আসে।

“ও মা, বেলা যে পড়ে গেছে গো ঠাগমা”, রামজীবনের মেয়ে বুঁচির ডাকে ধড়মড় করে উঠে পড়ে প্রভাবতী। মেয়েটির হাতে এক মস্ত পালংশাকের আঁটি। পিছন পিছন রামজীবনের বউ। মাথায় ঘোমটা তুলে দেয় প্রভাবতীকেকে উঠতে দেখে।
“এই যাঃ। অনেক বেলা হল যে রে! আয় বস এখানে। দ্যাখতো মেয়ে, ঘরে খাটের নিচে হারিকেন আছে, জ্বালা দেখি। তোর কাকা কালই তেল ভরে রেখে গেছে। তা এদিকে কি আর বিজলী বাতি জ্বলবে না, না কী রে?” প্রভাবতীর গলায় উদ্বিগ্নতা।
“ইলেক্টিরিকের কথা বলছ? পার্টির লোকে খেয়োখেয়ি করেই মইরল যে! আসবে আমরা মইরলে”, জবাব আসে রামজীবনের বউ চাঁপার দিক থেকে।“কত রোগা হয়ে গেছিস রে চাঁপা? গেল বছর তো এমন ছিলি না!” চাঁপাকে দেখে যেন আঁতকে ওঠে প্রভাবতী।
“গরিবের আর রোগা আর মোটা! বুঁচির বাবা আজকাল আর তেমন জোর দিয়ে কাজ কইরতে পারে না মা, খালি কাশে আর কাশে। সারারাত জেগে বসে থাকি আমরা সবাই, ঘুম আর চোখে ধরা দেয় না”
“ডাক্তার দেখাস নি?”
“হাসপাতালে দেকিয়েচে। ডাক্তার ওসুদ নিকে দিয়ে বলে, বিড়ি বাঁধা ছেড়ে দে। আচ্ছা, বল তো মা, বিড়ি বাঁধা ছাড়লে আমরা না খেতে পেইয়ে মরে যাব না?”
বুঁচি ইতিমধ্যে হারিকেন নিয়ে দাওয়ায় এল। হারিকেনের আলোয় বুঁচির মুখ আলোয় আলো। গরিবের মেয়েরা বেড়ে ওঠে যেন বর্ষাকালের ফনফনিয়ে ওঠা লাউগাছের মতো। প্রভার নজরে আসে বুঁচির পরনের ফ্রকটা ছেঁড়া। মোটা মোটা সেলাই দিয়ে আব্রু ঢাকার বৃথা চেষ্টা। প্রভাবতীর মনের কথা যেন মুহূর্তে পড়ে ফেলে চাঁপা। সন্ত্রস্ত হয়ে বলে, “এই মেয়ে নিয়ে হইয়েচে যত দুশ্চিন্তা! পাড়াটা আর তেমন নেই মা। নিত্য বৈরাগীর ছেলেটা পিছনে লেগেই থাকে। তার বাপটা পার্টি করে। অনেক কাঁচা পয়সা হাতে। ছেলেটা আবার এস্মাগ্লিং না কী ঝেন করে!”
প্রভাবতী বিস্মিত হয়ে বলে, “ও ছেলেটার যে গোঁফ গজায় নি রে! সে আবার...”
“ওর জ্বালায় ঘর হতে বাইরে বেরুইতে পারে না মেয়েটা আমার। এদিকে বাজার হাট যাওয়া আর ওর বাপের কম্ম নয়। মেয়েটাকে বাজারে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তি নেই। সারক্ষন ভয় লেগেই থাকে।”
“এবার ভালো ঘরের ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দে একটা।”
“বিয়ে দিতে পয়সা লাগে গো মা। সংসারই চলে না। ভগবান জানে কপালে কি লেকা!” বুকচাপা দীর্ঘশ্বাস উঠে আসে চাঁপার গলায়।
রাত বাড়তে থাকে। বাগানে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক স্তব্ধতাকে প্রশ্রয় দেয়। চমক ভেঙ্গে প্রভাবতী, কখন যে চাঁপা আর তার মেয়ে চলে গেছে, বুঝতেই পারে নি। দূরে কতগুলো কুকুর হটাত ডাকাডাকি শুরু করে দেয়। বাইরের ঝুপসি আঁধার থেকে পালিয়ে এসে দরজা লাগায় প্রভাবতী।

দু তিনটে দিন বেশ কেটে গেল। এখানে মানুষ গায়ে পড়া রকম মিশুকে। কিন্তু ভালই লাগে। অপরিচিত মানুষও দরমার বেড়া ঠেলে প্রভার হাল হাকিকত জিজ্ঞেস করে যায়। রামজীবনের মেয়েটা নিয়মিত এসে বাজার করে দিয়ে যায়, কখনো হয়তো একটু চা করে দিল, কখনো হয়ত বা তরকারিটা উনুন থেকে নামিয়ে দিয়ে গেল। বেশ লাগে, এমন একটা উদ্দেশ্যবিহীন, দায়িত্বহীন জীবন।
এখানকার জীবন ব্যারাকপুরের বাড়ির জীবন থেকে অনেক অন্যরকম। হরিদাসের বাড়িতে আরাম আয়েস আছে ঠিকই, কিন্তু সব যেন নিয়মের গণ্ডিতে বাঁধা। ক’দিন ধরে নিজেকে কেমন জমিদারনী বলে মনে হচ্ছে। হরিদাসের চাইতে আনেক সচ্ছল ওই নিত্য বৈরাগী। কিন্তু কাঁচা পয়সা তো আর বিদ্যে আমদানী করতে পারে না। এখনো প্রভাবতীর সাথে দেখা হলে নজর থাকে তার মাটির দিকেই। পরশু সকালে লোক দিয়ে একগাদা ফল আর মিষ্টি পাঠিয়ে দিল। প্রভাবতী তার থেকে দু চারটে রেখে দিয়ে বাকিটা সব দিয়ে দিল রামজীবনের মেয়েগুলোকে। আহা, বড় দুখি মেয়েগুলো।
দাওয়ার সামনের কাঁঠাল গাছটায় অনেক ছোট ছোট এচোঁড় ধরেছে। এই গাছটার কাঁঠাল বড় মিষ্টি। ছোট ছোট কোয়া, মুখে পুরলেই গলে যায়। আহা, মনে হতেই মুখটা জলে ভরে যায় প্রভাবতীর। গাছের নিচে দাঁড়িয়ে এই সব ভাবছে, এমন সময় আগল খুলে উঁকি মারল তুলসি।
“কি গো দিদি, গাছের সাথে কি কথা হচ্চে বল দিকিনি।”
“আয় আয়। দেখ কত এঁচোড় ধরেছে এই গাছটায়”
“ও তো আমি রোজ দেখি। তুমি না থাকলে এ সব দেখাশোনা কে করে শুনি?”
“দে না পেড়ে দু চারটে। আমি যে গাছে ওঠার বয়স ছাড়িয়ে এসেছি রে!”
“ও আবার কেমন কথা! দেব বলে দেব? একেবারে রেঁধে খাওয়াব’খন।”
“থাক থাক, অতশতয় কাজ নেই বাপু। যা বলি তাই কর দিখি।”
কোমরে কাপড় গুঁজে গাছে চড়ে পরে তুলসি। প্রভাবতীর বাগানের উত্তর দিকে চার ছটাক জমিতে দোচালা ঘরে থাকে সে। স্বামী তার কাজ করত রাজমিস্ত্রির। তিন বছর আগে ভারা থেকে পড়ে কোমর ভাঙে। তারপর থেকে পঙ্গু। সংসার চালায় তুলসি। এটা সেটা কাজ করে, কখনো ধান ভানার কাজ, কখনো তরিতরকারির পাইকারি বাজারে টুকিটাকি কাজ। প্রভাবতীর বাগানের আম, কাঁঠাল পাহারা দেওয়ার কাজেও সেই তুলসি। তবে বেইমান নয়। এক আধটা ফল পেড়ে যে খায় না তা নয়, তবে পুকুর চুরি করে না বলে প্রভাবতীর বড় কাছের লোক সে।
এঁচোড়গুলো বড় কচি। কেটে কুটে রান্না বসিয়ে দেয় তুলসি। প্রভাবতীর মনে হয়, আজ যেন বনভোজন হচ্ছে। ভাত, ডাল আর এঁচোড়ের তরকারি, সাথে কচু সিদ্ধ। বাগানের ছায়ায় পিঠ এলিয়ে দেয় প্রভাবতী। সদ্য রামজীবনের বাড়ির কুয়ো তলা থেকে স্নান করে এসেছে। হাওয়ায় শুকনো পাতা সরসর শব্দে উড়ে যাচ্ছে। আম গাছের ডালে বসে কোকিল ডাকছে আর প্রভার স্মৃতি উজান পথ বেয়ে চলেছে।  দূর থেকে রান্নায় ব্যস্ত তুলসিকে দেখতে দেখতে ব্যারাকপুরের বাড়ির কথা মনে পড়ে যায় প্রভার। এখানে জীবন চলে শান্ত, নিস্তরঙ্গ। আর ওখানে সময়কে হাত বাড়িয়েও ধরা যায় না। প্রভাবতী বলে, “দিন যাচ্ছে না জল যাচ্ছে!”
নাতিরা হাসে। বলে “ঠাম্মা, দিন কি জল, যে বয়ে যাবে?”
“খেতে বস দিদি। আজ তোমায় ভাত বেড়ে দিই এসো।” তুলসির ডাকে চমক ভাঙে।
“আগে তোর বরকে খাইয়ে আয় দেখি”, প্রভাবতীর গলায় স্নেহ ঝরে পড়ে।
তুলসি তার স্বামীর খাবার নিয়ে ঘরে যায়। ফিরে এসে প্রভাবতীর সাথেই থালা পেড়ে বসে পড়ে। আজকের  দিনটা তুলসির কাছেও অন্যরকম। বাতাসে যেন উৎসবের ঝলক।

রাতের বেলা দুধ মুড়ি খেয়ে নিয়ে সবে শোবার জোগাড় করছে প্রভাবতী। দরজায় ঠকঠক শব্দ শুনে মুহূর্তের জন্য চমকে গেলেও নিজেকে সামলে নিতে বেশি সময় নিল না। গলাটা পরিষ্কার করে নিয়ে একটু জোরের সাথেই হেঁকে উঠল, “কে?”। কোন উত্তর না পেয়ে এবার চেঁচিয়ে উঠল, “কে রে? উত্তর করিস না কেন? কে এখানে এত রাতে?”
এবার জবাব এল, “দরজাটা খুলুন দিদা। আমি ছোটন।”
“কে ছোটন?”
“নিত্য বৈরাগীর ছেলে।”
দরজার একটা পাল্লা খুলে প্রভা জিজ্ঞাসা করে, “তুই? এত রাতে কেন? তোর বাবাও এসেছে নাকি?”
অন্ধকারে প্রভাবতীর নজরে আসে ছোটনের সাথে আরো দুটি ছেলে দাওয়ার নিচে দাঁড়িয়ে। টর্চের আলো মুখে পড়তেই ওদের একজন বেশ কঠিন স্বরে বলে ওঠে, “আঃ, আলো বন্ধ করুন।”
প্রভা টর্চের আলো মাটির দিকে নামাতেই ছোটন প্রভার হাত থেকে টর্চ কেড়ে নিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়ে। তার সাথে অন্য দুজনও ঘরের ভিতর আসে। অন্ধকারে পরিষ্কার কিছু না দেখা গেলেও খোলা জানলা দিয়ে চাঁদের আলো পড়ে তিনটে অবয়ব দৃশ্যমান হয়। ছোট থেকেই প্রানে ভয়ডর বলে প্রভাবতীরর কিছু ছিল না, আজও নেই। গলাটা যথেষ্ট কঠিন করে সে বলে, “কি ব্যাপার? না বলে কয়ে আমার ঘরে ঢুকেছিস কেন তোরা?”
“আপনি চুপচাপ বিছানায় উঠে পড়ুন তো। আমারা আজ রাতে এখানেই থাকব”, হেঁড়ে গলা ছেলেটা বলে ওঠে। ওকে থামিয়ে দিয়ে ছোটন খানিকটা সাফাই গাওয়ার মত বলে, “আসলে দিদা, পুলিশ আমাদের তাড়া করেছে। আজ রাতটা এখানে কাটিয়ে দিয়ে খুব ভোরে উঠে চলে যাব।”
“পুলিশ কেন? তোরা কি করে এসেছেস?”
এবার তৃতীয় ছেলেটি প্রভাকে ধমক দেয়, “তোমার অত কথায় কাজ কি বুড়ি? চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়। বলছি তো, সকাল হলে চলে যাব।”
প্রভাবতী কথা না বাড়িয়ে চৌকিতে উঠে পড়ে। ঘুম যে এ রাতে আর আসবে না, তা বোঝাই যাচ্ছে। আর এই সব ছেলেরা কোন অসামাজিক কাজ কর্ম করে বেড়ায়, সে তাদের কথাতেই বোঝা যাচ্ছে। সেদিন চাঁপা বলল যে, নিত্য বৈরাগীর ছেলে স্মাগ্লিং করে। প্রভাবতী দুচোখের পাতা এক করতে পারে না।
কিছুক্ষন পর দরজায় ঠকঠক আওয়াজ হয়। এতক্ষণ ছেলেগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে ছিল। এবার ওরা ত্রস্ত ব্যস্ত হয়ে চৌকির তলায় সিঁধিয়ে যায়। দরজায় করাঘাতের আওয়াজ বাড়তে থাকে।
প্রভাবতী জিজ্ঞেস করে, “কে?”
উত্তর আসে, “পুলিশ, দরজা খুলুন।”
প্রভাবতী টর্চ জ্বালিয়ে দরজা খোলে। হটাত মুখে পাঁচ ব্যাটারি টর্চের আলো আছড়ে পড়তে প্রভাবতীর চোখ বন্ধ করে। পুলিশদের মধ্যে থকে একজন বলে ওঠে, “এই আলো নামা।”
আলো নিভে যায়। প্রভা চোখ খুলে দেখে তিন চারজন খাকী পোশাকের পুলিশ। আমায়িক গলায় একজন প্রশ্ন করে, “এদিকে কাউকে আসতে দেখেছেন মাসীমা? তিনটে স্মাগলারকে আমরা খুঁজছি।”
নির্দ্বিধায়, যেন নিজের অজান্তেই মিথ্যে কথা বলে ফেলে প্রভা, “না তো! আমি একা মানুষ। কাউকে এধারে...”
প্রভাকে শেষ করতে না দিয়ে পুলিশটা প্রশ্ন করে, “আপনি একা থাকেন এখানে?”
“হ্যাঁ, আমি ব্যারাকপুরে থাকি। এটা আমার কেনা জমি। মাঝে সাঝে এখানে এসে থেকে যাই।
প্রভাবতীর বলিষ্ঠ উত্তরে পুলিশ তিনজন কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকে। বোধহয় ভাবে, ভিতরে ঢোকাটা ঠিক হবে কি না। তারপর দাওয়া থেকে নেমে পড়ে বলে যায়, “আচ্ছা মাসীমা, আপনি শুয়ে পড়ুন। আপনাকে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। আসলে পুলিশের  চাকরিটাই এমন, বুঝতেই তো পারছেন।”
প্রভা দরজার আগল টানতেই তিনজনে প্রভার পায়ে পড়ে গেল। ছোটন বলে উঠল, “দিদা তুমি ভগবান। আজ আমাদের বাঁচালে।”
হেঁড়ে গলায় যে ছেলেটা কিছুক্ষণ আগেও প্রভাবতীকে ধমকাচ্ছিল, সে এখন প্রায় মিউ মিউ করে বলে ওঠে, “আমদের মাফ করে দেবেন দিদা। আজ রাতটা কাটিয়ে সকালেই ফিরে যাব।”
এবার প্রভাবতী ধমক দিয়ে বলে, “কেন, একটু আগে আমার উপর চেঁচাচ্ছিলে যে বড়? এখন সব চোটপাট গেল কোথায়? আমাকে চিনিস তোরা? আমার না আছে ডাকাতের ভয়, না আছে ভূতের। তোদের মত পুঁচকে ছোঁড়াদের ঘাড় ধরে মটকে দিতে পারি। যা এখন শুয়ে পড়। আর ছোটন, তুই নাকি রামজীবনের মেয়ে বুচির পিছনে লাগিস। ওসব ছেড়ে দে। তোর বাবাও কিন্তু আমাকে মান্যি করে। আর যেন কোনদিন এসব না শুনি। যা শুয়ে পড় এবার।”
রাত গভীর হতে থাকে। দূরে কুকুরদের ঝগড়াও থেমে গেছে। প্রভাবতীকে ভাবে, সে কেন পুলিশের হাত থেকে বাঁচাল ওদের? ধরিয়ে দিলেই কী একটা নাগরিক কর্তব্য করা হত? কিন্তু এরা তো অপরাধী! তবে পুলিশে ধরলেই কী ভাল ভাবে বেঁচে থাকার শপথ নিয়ে ফেলত ওরা? বুঁচির পিছনে লাগা কী কাল থেকে বন্ধ করবে ছোটন?
প্রশ্নেরা দ্বিধা হয়ে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ধরে তাকে। রাত বাড়ে। প্রভাবতীর চোখে ঘুম নেই। ছেলেগুলো মেঝেতে শুয়ে অকাতরে ঘুমাচ্ছে। স্তব্ধ রাতে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে দু চোখের পাতা এক করতে দিচ্ছে না। কাল রবিবার। সকাল হলেই হরিদাস তার দুই ছেলেকে সঙ্গে করে প্রভাবতীকে নিতে আসবে। সে মনস্থির করে, এবার হরিদাসকে বলতে হবে জমিটা বিক্রি করে দিতে।

Comments

Popular posts from this blog

দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো

সুধী দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো https://dehlij7.blogspot.com/     বহু প্রতীক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একমাত্র কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন, সংযোজনা করেছেন ।  দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এত সুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে ধন্যবাদ জানাই । শুধু দিল্লি নয়, ঢাকা, কলকাতা, হাওড়া, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।   দেহলিজের এই সংখ্যায় কিছু নতুন কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করা হলো । কবিতার সঙ্গে মেশানো হলো ছবি, ভাষ্কর্ষ ও ক্যামেরা ক্লিক । দৃশ্যময়তা ও টেক্সট একে অপরের জায়গা শেয়ার করা । নেওয়া হলো কবিতা নিয়ে আলোচনা । কবিরা কি ভাবছেন ? চিত্রকরেরা কি ভাবছেন এই ২০২১ এ দাঁড়িয়ে । যুক্ত করা হলো আন্তর্জাতিক কবি ও চিন্তকদের । যারা কবিতা, গদ্য ও বিশ্বসাহিত্য

প্রকাশ হলো দেহলিজ -৬

দেহলিজ-৬ প্রকাশিত হলো   ক্লিক করুন | Click Here   বহু প্রতিক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একটা কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন । দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এতসুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই । শুধু দিল্লি নয়, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।    এই সংখ্যায় কিছু নতুন টেমপ্লেট নেওয়া হলো । ডেস্কটপ ও মোবাইল থিম আলাদা করা হয়েছে । নতুন করে সাজানো হয়েছে মেনু লিংক । অটোমেশন করা হয়েছে । সংখ্যায় বৈচিত্র নিয়ে কিছু কাজ করা হলো । কবিতা ছাড়াও রাখা হলো মুক্তগদ্য, অনূদিত নাটক, বই রিভিউ, স্মৃতিচারনা ও ছোট হল্প । আর একটি বিষয় নিয়ে এই প্রথম কাজ করা হলো সেটা হলো - কবিতা ও চিত্রকলার মিলনসংহার । ৬ জন কবির কবিতাকে উডকাট ব্লাক এন্ড হো

আসছে দেহলিজের সংখ্যা - ৬

 প্রকাশ পাচ্ছে দেহলিজ-৬ করোনাকালের শুরুতে প্রকাশ পেয়েছিলো, দেহলিজ-৫ ; তেমন উচ্চবাচ্য হয়নি, ইচ্ছে করেই করা হয়নি, মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই ছিলো একটা কবিতা । লকডাউন শুরু হলো, মানুষ আটকা পড়লো ঘরে । শুরু হলো ঘরে বসে লাইভ টেলিকাস্ট । দেহলিজে - নতুন গ্রুপ একটিভিটি বেড়ে উঠেছে । তার একটা খসড়া এই রকমঃ  প্রিয় কবি বন্ধুগণ   আজকের এই বিশেষ অবসরে, আমার কিছু যত্নে লালিত প্রস্তাব রাখার অভিপ্রায়ে , এই পোস্টের অবতারণা  । দেহলিজ পত্রিকার সম্পর্কে এই  বিষয়টি একটা অভিনব ও যুগান্তকারী বলেও  মনে হয় আমার । দিল্লির যানজট, লকড ডাউন,  অফিস ব্যস্ততা, বাংলা ভূখণ্ডের দূরত্বে ভৌগলিক অবস্থান , উৎসাহী কবির স্বল্পতা বাংলা চর্চার ক্ষেত্রে একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে । তদুপরি ভাষার বিবিধতা , জাঠ হরিয়ানভি ঠাট,  পাঞ্জাবী কালচার আগ্রাসন করে নিয়েছে অনেক কিছু । বর্তমান দেশব্যাবস্থা, রাজনৈতিক সমীকরণ সাহিত্য দিল্লি-বক্ষে সাহিত্য প্রয়াসের প্রতিকুল সততই । এই রকম চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাও একটি সাহসী পদক্ষেপ , আমাদের একত্রিত প্রয়াসে  আমরা বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডা ও অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে তবুও তুলে ধরেছি । দেহলিজের এই অগ্রগতি আমাদের একটা আশ