Skip to main content

দিলীপ ফৌজদার

আলোকবর্ষ

দিলীপ ফৌজদার


যক্ষ শুধাইলেন বার্তা কী?
যুধিষ্ঠির উত্তর করিলেনঃ এই মহামোহরুপ কটাহে কাল প্রাণীসমুহকে পাক করছে, সূর্য তার 
অগ্নি, রাত্রিদিন তার ইন্ধন, মাস-ঋতু তার আলোড়নের হর্বী হোতা। এই বার্তা। বনপর্ব, মহাভারত।


ঐ অতলান্তিক শূন্যের কোন শেষ না থাকলেও ছোঁবার, ভিড়বার কিছু আছে। তুমি যদি ব্যাকটিরিয়া ও তার তুলনায় ওরা যদি মারবেল, কিম্বা নুড়িও যদি হয় তার ওপর ভর করা যায়। তার ওপর একটা কলোনি বসান যেতে পারে।
এর নাম যুক্তি তর্ক । যা যা করা যেতে পারে ও যা কিছু হতে পারে তাই নিয়ে জল গরম বা জল ঘোলা – যা বলবে। কি কি করা যেতে পারে ও তাতে কি কি হতে পারে এই সমস্ত তর্ক পেরোলে তখন কিছু হওয়া। যেগুলো হবার সেগুলো হয়ে গেলে তখন কি?
তখন অন্যরকম। তখন তুমি বাস্তবের ট্রিগার টিপে সময়টাকে পেরিয়ে চলে গেছ। এই ট্রিগার টেপার ব্যাপারটা না থাকলে কিছু চলেও না যে! তুমি ট্রিগার টিপতে পারলে তবেই তুমি মরদ কা বাচ্চা। না পারলেও গরিলাদের স্টাইলএ ছাতি ঠুকে দেশ দুনিয়াকে জানিয়ে দাও যে ওটা তোমারই, একদিন না একদিন ওটা তুমিই টিপবে। যদি তুমি ছাতি ঠুকে মানুষকে বুঝিয়ে ফেলতে পার যে তুমি সত্যি সত্যিই একটা গরিলা অর্থাৎ গরিলাদেরই মতই তুমি অতোটাই অবুঝ আর বুনো, তোমাকে সকলে ভয় করবে তোমার প্রতিষ্ঠা বাড়বে সমাজে, সংসারে।
তুমি সর্বদাই সময়ের একটা ক্ষণে যার আছে একটা স্পষ্ট অতীত, যেটা দৃশ্য, কালকের কথা, পরশুকার কথা – যেটা কালের কবলে পৌঁছে ধুলোময়লায় আক্রান্ত। সর্বদাই। কিছুটা চোট খাওয়াও, ফলে বিকৃতি বিস্মৃতির ডামাডোলে ভ্রান্ত এবং উদ্ভ্রান্তও – আর আছে একটা ভবিষ্যৎ যার পাতা উলটে কেউ দেখতে পায় না। তাও থাকে কিছু বুজরুক যারা ভবিষ্যৎ দেখানর নামে বিশ্বময় কিছু উপার্জনের বাজার খুলে রেখেছে। দুয়ের মাঝখানকার ভাসন্ত ক্ষণ টপকে টপকে তুমি সময়ের কেঞ্চুকি খুলে খুলে দ্রুত হেঁটে এগোচ্ছ একটা অন্ধকার অন্তরীক্ষে। 
এই যেমন ধরো তুমি ব্যাকটিরিয়া না হয়ে হলে অন্য কিছু। ধরো তুমি মানুষ। তাই বা মেনে নিলাম যদিও তুমি অমানুষ হলেও সেখানে কিছু যায় আসে না. সেখানে কিছু বলারও নেই। মানুষের নামে অমানুষ সে তো অনবরতই। তা সেই দুপেয়ে জানোয়ার সেটা তুমিই যদি হও তখন্ আবার নানান উপসর্গ তার আশেপাশে নানান শর্ত এসে জোটে তুমি তখন অন্য মানুষদের রাডারে আর শুধু মানুষ কেন, যা কিছুই তোমার আশেপাশে ধরো একটা কাক বা কাঠবেরাল কিম্বা মশা, বোলতা বা সাপও, তারা সকলেই তোমাকে খুঁতখুঁতে চোখ নিয়ে দেখবে ভয়ে, অবিশ্বাসে আর সংশয়ে, ভাববে দৌড়ে তোমার নাগালের কাছ থেকে দূরে সরে যাবে না দাঁত খিঁচিয়ে তোমাকে ভয় দেখাবে বা দংশাবে আর এই সব দেখতে দেখতে তোমার ভেতরেও জন্মেছে একটা সতর্কতার শেকল। সর্বত্র। যেটা তোমাকে ঘিরে রেখেছে তোমার সত্ত্বার চারিভিতে যার সমস্তটা তুমি জানও না। এই শেকল নিয়েও নানা কথা কেও বলে ভাঙ্গো কেউ বলে জোড়ো কেউ আবার ওটাকে অনবরতই শক্ত রাখতে চায়। 

 ধরো একটা আলোর মধ্যে আছো। অফুরন্ত, অতলান্তিক আলো। তুমি ভাবছ দেখছি। হ্যাঁ দেখছ কিন্তু সেটা আলো কি? সেটা তো অন্য কিছু একটা ইট কাঠ বা জীবন্ত কিছুকে। একটা উড়ন্ত কাক বা হলুদ বোলতা - একটা সবুজ পাতার পরিক্রমায়। এত কিছুকে যে লোকে দেখা বলে তার একটাও আলো নয়। তবে আলো আছে বলে তুমি জান কেননা তুমি অন্ধকারও জান সেও ওইটুকুই যে অন্ধকার নেই বলেই তুমি দেখছ। কিম্বা বলো অন্ধকার থাকলে তুমি দেখতে না। এই যে নেই আছে আছে নেই এ থেকে কোন কিছুকে আছে বলে জানা, তখন এটাও খেয়ালের বাইরে থাকে যে যদি কেউ হলপ করে বলে আমি দেখেছি তাই আমিই সত্যি এর চাইতে বেশি সত্যি আর কিছু হয় না তখন তাকে বোঝান কঠিন যে এটাও তো হতে পারে যে তুমি দ্যাখনি। দেখার পরতে পরতে থাকে দৃশ্য। এ সমস্তই ঐ আলোকে নিয়েই, বা, অন্ধকারকে নিয়েও। আলোকেই দেখছ না তাও তুমি আলোকপ্রাপ্ত যার জোরে তুমি বুক ঠুকে বলছ তুমি দেখেছ। তোমার দেখাটাও ঐ গনিতের দেখার মতোই।
জোনাকি জ্বলা নেবা আলোকেও তো অনেকে বলে ওটা মগ্ন অলীক, ওটা হিসেবের ধরাছোঁয়ার মাঝখানটায় থাকে, যেমন অন্ধকার আছে বলেই ওটা আলো আর কল্পনা আছে বলেই ওটা জোনাকি – ছুঁয়ে দেখেছি, ধরে নিলে ওটা আর জোনাকি থাকে না ওর সব কবিতা তখন হাপিস।

শূন্য যার আরম্ভ নেই শেষ নেই সেটারও তো কত কাটা ছেঁড়া - আঃ ঐ হল - কাটা ছেঁড়া মানে টেলিস্কোপ আর গনিত, কিন্তু কাটা ছেঁড়া ঐ আলোকে নিয়েই তো। কোন আলো পাঠালাম আর কোন আলো তার কতখানি সম্ভার নিয়ে ফিরে এলো তারই গনিত।
কিন্তু সেখানেও একটা নিরুত্তর সংশয় - সেটা কত দিন, কত মাস, কত বছর আগের আলো! আলো নিয়ে কত কবিত্বময় কল্পনা। কিন্তু আলোর গণিতে কিছু মারাত্মক দূষণ না ছেড়ে রাখলে আলোর কবিতা চারায় না মনে। যদি গনিত বলে অ্যান্ড্রামিডা গ্যালাক্সিতে এক বিশাল আকারের বিস্ফোরণ ঘটে গেছে সে বিস্ফোরণের আলো কতদিন  আগেকার গুনতে বসে সাত দুগুনে চোদ্দর হাতে শুধু পেন্সিলটাই থেকে যায়। বিস্ফোরনের বিশালত্বের বিস্ময়, তার ধ্বংসলীলার ভয়াবহতা, তার আকস্মিকতার ধাক্কা, তার আলোর বিকিরণের সঙ্গে তোমার আবেগের জোড়ন – সব হাপিস।
এক একটা স্বপ্নের কিনারায় অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকে এইরকম অদৃশ্য পাহারাদারেরা সীমান্ত আগলে।  এরাই জানিয়ে দ্যায় এবার তুমি স্বপ্নের বাইরে, আর এটাও যে তুমি স্বপ্নের ভেতরে আর ফিরে যেতে পার না। বাস্তব, ধরা ছোঁওয়া গণিতের জগতও কোথাও কোথাও এমনি স্বপ্নিল।
এখানে আর একবার সীমান্ত ডিঙ্গোনর কথা এলেও এই সীমান্তকে কেউ কোনোদিন ডিঙোয় না। তবুও এই প্রয়াস যে সময়কে পিছিয়ে নিয়ে আর একবার হাতুড়ি ছেনির পূর্বেকার পাথরকে ফিরে পাবার। হতে পারে এ ইচ্ছাটি নির্মল, একান্তই ঐ নির্মল পাথরকে দেখার তাগিদে যদি হয়, যেমন আমরা জানতে চেয়ে এসেছি এতকাল ধরে পৃথিবীর বা মহাকাশের জন্মকথা কিম্বা মানুষের জন্মবৃত্তান্ত। তা যদি না হয় তাহলে এই ইচ্ছার গণিতে আছে কিছু মারাত্মক গরমিল।
ঐ পাথরে নতুন কিছু লেখা যায় না। ঐ পাথরটাই অলীক। যে সময়ের সীমান্ত ডিঙ্গিয়ে চলে এসেছে কাল, সেই সীমান্তরেখা দাগা হয়ে গেছে ইতিহাসে যাকে আজ দেখছি আলোকবর্ষের দুস্তর দেওয়ালকে পেরিয়ে, যেটাকে আর একবার ডিঙ্গোন যায় না।

Comments

Popular posts from this blog

দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো

সুধী দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো https://dehlij7.blogspot.com/     বহু প্রতীক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একমাত্র কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন, সংযোজনা করেছেন ।  দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এত সুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে ধন্যবাদ জানাই । শুধু দিল্লি নয়, ঢাকা, কলকাতা, হাওড়া, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।   দেহলিজের এই সংখ্যায় কিছু নতুন কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করা হলো । কবিতার সঙ্গে মেশানো হলো ছবি, ভাষ্কর্ষ ও ক্যামেরা ক্লিক । দৃশ্যময়তা ও টেক্সট একে অপরের জায়গা শেয়ার করা । নেওয়া হলো কবিতা নিয়ে আলোচনা । কবিরা কি ভাবছেন ? চিত্রকরেরা কি ভাবছেন এই ২০২১ এ দাঁড়িয়ে । যুক্ত করা হলো আন্তর্জাতিক কবি ও চিন্তকদের । যারা কবিতা, গদ্য ও বিশ্বসাহিত্য

আসছে দেহলিজের সংখ্যা - ৬

 প্রকাশ পাচ্ছে দেহলিজ-৬ করোনাকালের শুরুতে প্রকাশ পেয়েছিলো, দেহলিজ-৫ ; তেমন উচ্চবাচ্য হয়নি, ইচ্ছে করেই করা হয়নি, মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই ছিলো একটা কবিতা । লকডাউন শুরু হলো, মানুষ আটকা পড়লো ঘরে । শুরু হলো ঘরে বসে লাইভ টেলিকাস্ট । দেহলিজে - নতুন গ্রুপ একটিভিটি বেড়ে উঠেছে । তার একটা খসড়া এই রকমঃ  প্রিয় কবি বন্ধুগণ   আজকের এই বিশেষ অবসরে, আমার কিছু যত্নে লালিত প্রস্তাব রাখার অভিপ্রায়ে , এই পোস্টের অবতারণা  । দেহলিজ পত্রিকার সম্পর্কে এই  বিষয়টি একটা অভিনব ও যুগান্তকারী বলেও  মনে হয় আমার । দিল্লির যানজট, লকড ডাউন,  অফিস ব্যস্ততা, বাংলা ভূখণ্ডের দূরত্বে ভৌগলিক অবস্থান , উৎসাহী কবির স্বল্পতা বাংলা চর্চার ক্ষেত্রে একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে । তদুপরি ভাষার বিবিধতা , জাঠ হরিয়ানভি ঠাট,  পাঞ্জাবী কালচার আগ্রাসন করে নিয়েছে অনেক কিছু । বর্তমান দেশব্যাবস্থা, রাজনৈতিক সমীকরণ সাহিত্য দিল্লি-বক্ষে সাহিত্য প্রয়াসের প্রতিকুল সততই । এই রকম চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাও একটি সাহসী পদক্ষেপ , আমাদের একত্রিত প্রয়াসে  আমরা বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডা ও অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে তবুও তুলে ধরেছি । দেহলিজের এই অগ্রগতি আমাদের একটা আশ

প্রকাশ হলো দেহলিজ -৬

দেহলিজ-৬ প্রকাশিত হলো   ক্লিক করুন | Click Here   বহু প্রতিক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একটা কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন । দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এতসুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই । শুধু দিল্লি নয়, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।    এই সংখ্যায় কিছু নতুন টেমপ্লেট নেওয়া হলো । ডেস্কটপ ও মোবাইল থিম আলাদা করা হয়েছে । নতুন করে সাজানো হয়েছে মেনু লিংক । অটোমেশন করা হয়েছে । সংখ্যায় বৈচিত্র নিয়ে কিছু কাজ করা হলো । কবিতা ছাড়াও রাখা হলো মুক্তগদ্য, অনূদিত নাটক, বই রিভিউ, স্মৃতিচারনা ও ছোট হল্প । আর একটি বিষয় নিয়ে এই প্রথম কাজ করা হলো সেটা হলো - কবিতা ও চিত্রকলার মিলনসংহার । ৬ জন কবির কবিতাকে উডকাট ব্লাক এন্ড হো