Skip to main content

শাশ্বতী গাঙ্গুলী

শাশ্বতী গাঙ্গুলী


স্বপ্ন যেখানে



এখানে তাকালে আকাশ বলছে অনেক কাজ।
সূর্য বলছে আলো দিতে হবে অনেক কাজ।
এখানে বাতাসে কাজের গন্ধ ফেলছে শ্বাস।
এখানে জীবন ছুটছে সামনে অনেক কাজ।
এখানে কখনো দুপুরবেলাটা অলস নয়-
মধ্যাহ্নে দীপ্তি হারাতে সাহস নেই-
দিনকে বাড়াও টানটান করে সময় কম
এখানে রাতে চাঁদের সঙ্গে রোমান্স নেই।
এখানে সাজানো পুতুলের মত মানুষ সব
এদিক ওদিক চারিদিকে শুধু সাজানো শব।
আবেগ, হৃদয় এসব শব্দ এখানে নেই
অভিমান নয়, রাগ হতে শুধু বারণ নেই
স্বপ্ন দেখার সবটুকু শুধু মিথ্যা সাজ
ভালবাসলেও মনকে বোঝাও কারণ কাজ।






বন্ধু



যদি আমি পারতাম
তোমাকে এনে দিতাম নীলকণ্ঠ পাখির
     পালক
পৃথিবীর সমস্ত রোদ মাখা দিন আর বৃষ্টির
                                         নিবিড় রাত।
কোনো এক অকাল বসন্ত তোমার জন্য করে দিতাম
আজীবন।
কিন্তু আমি যে এতো পারি না তাইতো
তুমি আমার বন্ধু
আমার সব অক্ষমতা যে বিনা দ্বিধায় মেনে নেয়
আমার সব যন্ত্রণা যে অমূল্য মনে করে
আর আমার সবটুকু না পারাকে যে ঢেকে
রাখতে পারে
সে যে সবার থেকে বড়, সবার চেয়ে আপন
আর সবার চেয়ে নিজের সেই তুমি
তুমি আমার বন্ধু।


কেউ ছুঁয়ে দেখেনি আমায়
শাশ্বতী গাঙ্গুলী

কেউ ছুঁয়ে দেখেনি আমায়-
হাওয়া এসে ছুঁয়ে যায়-
ঠিক এখানটায়। বৃষ্টির জল শুধু ছুঁয়েছিল
আর কেউ। এলোমেলো, অগোছালো
কোনও রাতও নয়। কেউ ছুঁয়ে দেখে নি আমায়।
ঠিক এখানটায়। সন্ধ্যের আগে একছুটে
ছাদে গিয়ে আকাশের নীচে
দাঁড়িয়ে থেকেছি আমি
ওপরে আকাশ শুধু দেখেছে আমায়-
বৃষ্টি পড়েনি তবু ঠিক এখানটায়।









এইটুকু বাঁচা



ওই জানালাটা বন্ধ করে দিও না।
ওখান দিয়ে এসে পড়ে একমুঠো আলো-
আমাকে বাঁচায় ছুঁয়ে থেকে।
ও আলো তোমার জানি, তোমারই আকাশ
তার থেকে একমুঠো দিও শুধু আজ।
কালকে বরং একখানা মেঘ দিও শুধু,
নিরালা দুপুর জুড়ে মরুভুমি ধূ ধূ।
একখানা মেঘ শুধু কাছে নিয়ে এসো
হোকনা ক্ষণিক থাকা তবু ভালোবেসো।
কোনকিছু চাইব না আর-
জানালাটা খোলা থাক আজ।
তারপর আলো নিভে যাবে,
মেঘ সরে যাবে,
অন্ধকার তাই বুঝি একা জেগে রবে
জানালাটা খুলে রেখে সারি সব কাজ।
তুমি চলে গেছ মন বলে
জানালাটা খোলা থাক বা না থাক।


কবিতা তোমায়



শব্দ অঢেল সূর্যালোকে স্নাত
মনের গভীর অন্ধকারে কেউ যদি হাতড়াতো,
কুড়িয়ে পেত অতল জলে গভীর অনুভব
কবিতা আজ বাঁধছে বাসা গড়ছে অবয়ব।
গভীর গোপন সকল কথা এইখানেতে থাক্‌
কবিতা দিন, কবিতারাতাগুন জ্বেলে রাখ।
অতল প্রেমে বাক্যহারা, গভীর কালো ক্ষত
গোপন মনে অন্য হাওয়া দিন বদলে রত।
রইতে পারা, সইতে পারা পথ চল সাবধানী
আলোর ভূবন পেরিয়ে আকাশ রাতের তারা গুনি
কবিতা যদি রোদের বাড়ি হেঁটে চলে যায়।
শব্দগুলো লিখব আমি রাতের তারার গায়।
সেই আলোকে সকল্কথা চন্দ্রালোকে স্নাত
বসন্ত আজ জ্যোৎস্না রাতে ভালোবাসায় রত।
ভালোবাসার একটুখানি, ছোট্ট একটু কনা
ঘাসের উপর শিশির পড়ে তাকিয়ে তো
                            দেখলেনা।


বৃষ্টি এল



উঠোন জুড়ে বৃষ্টি এল,
বৃষ্টি এল বলে
নদীর অপর বৃষ্টি এল
বৃষ্টি এল বনে
বৃষ্টি তোমার আমার কথা
অনেকদিনই ছিল
আসছো তুমি, একটু আগে
মেঘই বলে দিল।
বৃষ্টি এল বৃষ্টি এল
বেলা তখন কত?
বৃষ্টি কোথায়? ----
আমার মনে বৃষ্টি এলো না তো।।



Comments

Popular posts from this blog

দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো

সুধী দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো https://dehlij7.blogspot.com/     বহু প্রতীক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একমাত্র কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন, সংযোজনা করেছেন ।  দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এত সুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে ধন্যবাদ জানাই । শুধু দিল্লি নয়, ঢাকা, কলকাতা, হাওড়া, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।   দেহলিজের এই সংখ্যায় কিছু নতুন কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করা হলো । কবিতার সঙ্গে মেশানো হলো ছবি, ভাষ্কর্ষ ও ক্যামেরা ক্লিক । দৃশ্যময়তা ও টেক্সট একে অপরের জায়গা শেয়ার করা । নেওয়া হলো কবিতা নিয়ে আলোচনা । কবিরা কি ভাবছেন ? চিত্রকরেরা কি ভাবছেন এই ২০২১ এ দাঁড়িয়ে । যুক্ত করা হলো আন্তর্জাতিক কবি ও চিন্তকদের । যারা কবিতা, গদ্য ও বিশ্বসাহিত্য

প্রকাশ হলো দেহলিজ -৬

দেহলিজ-৬ প্রকাশিত হলো   ক্লিক করুন | Click Here   বহু প্রতিক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একটা কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন । দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এতসুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই । শুধু দিল্লি নয়, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।    এই সংখ্যায় কিছু নতুন টেমপ্লেট নেওয়া হলো । ডেস্কটপ ও মোবাইল থিম আলাদা করা হয়েছে । নতুন করে সাজানো হয়েছে মেনু লিংক । অটোমেশন করা হয়েছে । সংখ্যায় বৈচিত্র নিয়ে কিছু কাজ করা হলো । কবিতা ছাড়াও রাখা হলো মুক্তগদ্য, অনূদিত নাটক, বই রিভিউ, স্মৃতিচারনা ও ছোট হল্প । আর একটি বিষয় নিয়ে এই প্রথম কাজ করা হলো সেটা হলো - কবিতা ও চিত্রকলার মিলনসংহার । ৬ জন কবির কবিতাকে উডকাট ব্লাক এন্ড হো

আসছে দেহলিজের সংখ্যা - ৬

 প্রকাশ পাচ্ছে দেহলিজ-৬ করোনাকালের শুরুতে প্রকাশ পেয়েছিলো, দেহলিজ-৫ ; তেমন উচ্চবাচ্য হয়নি, ইচ্ছে করেই করা হয়নি, মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই ছিলো একটা কবিতা । লকডাউন শুরু হলো, মানুষ আটকা পড়লো ঘরে । শুরু হলো ঘরে বসে লাইভ টেলিকাস্ট । দেহলিজে - নতুন গ্রুপ একটিভিটি বেড়ে উঠেছে । তার একটা খসড়া এই রকমঃ  প্রিয় কবি বন্ধুগণ   আজকের এই বিশেষ অবসরে, আমার কিছু যত্নে লালিত প্রস্তাব রাখার অভিপ্রায়ে , এই পোস্টের অবতারণা  । দেহলিজ পত্রিকার সম্পর্কে এই  বিষয়টি একটা অভিনব ও যুগান্তকারী বলেও  মনে হয় আমার । দিল্লির যানজট, লকড ডাউন,  অফিস ব্যস্ততা, বাংলা ভূখণ্ডের দূরত্বে ভৌগলিক অবস্থান , উৎসাহী কবির স্বল্পতা বাংলা চর্চার ক্ষেত্রে একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে । তদুপরি ভাষার বিবিধতা , জাঠ হরিয়ানভি ঠাট,  পাঞ্জাবী কালচার আগ্রাসন করে নিয়েছে অনেক কিছু । বর্তমান দেশব্যাবস্থা, রাজনৈতিক সমীকরণ সাহিত্য দিল্লি-বক্ষে সাহিত্য প্রয়াসের প্রতিকুল সততই । এই রকম চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাও একটি সাহসী পদক্ষেপ , আমাদের একত্রিত প্রয়াসে  আমরা বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডা ও অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে তবুও তুলে ধরেছি । দেহলিজের এই অগ্রগতি আমাদের একটা আশ