Skip to main content

ঝুমা চট্টোপাধ্যায়

গোরক্ষপুর এক্সপ্রেস

ঝুমা চট্টোপাধ্যায়


কিছুদিন হল আমার বাবা নাকে ঠিকমত নিঃশ্বাস পাচ্ছেন না । নিঃশ্বাসগুলি তাঁর নাক পর্যন্ত এসে বাইরে থেকে ফিরে যাচ্ছে ।  ঠাট্টা না , সত্যি ।
এই তো কিছুক্ষণ আগে আমি সোমার সঙ্গে বসে গল্প করছি , শুনলাম বাবা কাকে যেন দুঃখ করে বলছেন , যাঃ ঐ চলে যাচ্ছে , আর ধরা গেল না !
সোমা মাঝে মাঝে আমাদের বাড়ি বসতে আসে ।  কোন দরকার না , এমনি ।  পৌনে দুটা বাজলে চলে যায় । সোমাকে বললাম , বোস তো একটু , গিয়ে দেখে আসি বাবা কার সঙ্গে কথা বলছে !
আমাকে দেখেই বাবা বললেন , সামরিন , তোর আম্মিকে একবার পাঠিয়ে দে তো ! আমার আজ খিদা নাই । দুপুরে কিছু খাব না । ’

এখন তো সবে দশটা আব্বু ! দুপুরের অনেক দেরি । তুমি গোসল করেছ ? না করলে , যাও উঠ । গিয়ে ভাল করে গোসল করে এসো ।

আমাদের বাড়িতে তিনটা চৌবাচ্চা । একটা ছোট আর বড় দুইটা । ছোটটা আন্ডারগ্রাউন্ড । জল খুব ঠাণ্ডা । বাবা অবশ্য বারোমাস গরম জলেই গোসল করেন । ডাক্তার বলে দিয়েছে ।
তুমি কার সঙ্গে কথা বলছিলে আব্বু ? শুনতে পেলাম !
কারুর সঙ্গে না । তোর আম্মিকে ডাক দে ! বল যে আমি ডাকছি । এখনই ।

আমার আম্মি কুলসম বেগম খুবই ব্যক্তিত্ব সম্পন্না মহিলা । যে কেউ তাঁকে গিয়ে ডাকলে প্রথমে কথাটা তিনি কানেই নেন না । মন দিয়ে চায়ের কাপে চামচে দিয়ে চিনি নাড়েন অথবা ধীরে সুস্থে নাস্তা বানান । তারপর যার নাস্তা তাকে আস্তে করে ডাক দেন । ঠিক বাবার উল্টোটা । আম্মির মাও আম্মিকে ভয় খায় । সহজে ঘাঁটান না । অবশ্য আমাদের সাথে তাঁর দেখা খুব কম হয় ।
আব্বু তুমি চাদর দিয়ে আছ কেন ? শরীর খারাপ ?
বাবা স্বাভাবিক গলায় বললেন , শরীল খারাপ কেন হবে ? আমার শরীল তোদের মত না যে কথায় কথায় খারাপ করবে । চাদর দিয়েছি কারণ আমার শীত লাগে ।

আমার বাবা গলা পর্যন্ত সাদা চাদরে ঢেকে বিছানায় বসে আছেন । তাঁর সামনে সকালের খবরের কাগজ । কাগজটা তিনি এখনো পড়েননি । আগে কেউ তাঁর কাছে খবরের কাগজটা পড়বার জন্য কিছুক্ষণ অনুনয় বিনয় করবে । যথারীতি তিনি তাকে বলবেন যে আজকের কাগজ তিনি এখনো খুলে পড়েন নি । সে এখন আধ ঘন্টাটেক অপেক্ষা করুক । আধ ঘণ্টা পর বাবার কাগজ পড়া হয়ে গেলে সে খবরের কাগজটা হাতে পাবে । তার আগে না । আজ বাবার কাছে কাগজ নেবার জন্য তেমন কেউ আসে নি । আজ শুধু সোমা এসেছে । সোমা এইসব খবরে তেমন কিছু বিশ্বাস করেনা । সোমার বিশ্বাস ওখানে সব বানানো খবর লেখা থাকে । জার্নালিসিম পড়বার জন্য সোমাকে একবার অনেক গুলো খবরের কাগজের অফিসে কিছু খোঁজ খবর করতে যেতে হয়েছিল । সেখানে জানতে পারে খবরের কাগজেরও নাকি স্টোরি হয় । রিপোর্টারদের সেই স্টোরিটা নিজেদেরই বানাতে হয় । প্রত্যেক রিপোর্টারই একেকজন সার্থক গল্প লেখক । যাইহোক সোমার কথা পরে বলব , আগে বাবার বিষয়টা শেষ করি । আগেই বলেছি বাবা নাকে ঠিকমত নিঃশ্বাস পাচ্ছেন না । এজন্য প্রায়ই তাঁর দম বন্ধ লাগে । কিন্তু এজন্য তাঁর চেহারায় অসুস্থতার কোন ছাপ পড়েনি । তাঁর শরীর বেশ সুন্দর এবং টানটান । কাঁধ চওড়া এবং হাঁটবার সময় মেরুদণ্ড সোজা রেখেই হাঁটেন । বাবা যখন হাঁটেন তখন রাস্তায় আমার বন্ধুদের দুই একজন বাবাকে ভালো করে দেখার জন্য বাইক থামিয়ে দাঁড়িয়ে যায় । বাবার গায়ের রং উজ্জ্বল এবং প্যান্টের মধ্যে শার্ট তিনি গুঁজে পড়েন । দিনরাত হাঁটার মধ্যে থাকার ফলে বাবার পায়ের নীচটায় একটা যন্ত্রণা হয় । ডাক্তার এইজন্য বাবাকে ধমক দিয়েছে । বলেছে , আপনি রোজ কতক্ষণ হাঁটেন ? আধঘণ্টা না আরও বেশী ? 
খুশী মনে বাবা জবাব দিয়েছেন , রোজ দেড় ঘণ্টা । আল্লার কসম , আমি মিথ্যা কই না ।
সে কি ? দেড় ঘণ্টা হাঁটেন কীজন্য ? আপনার না অষ্টিও আর্থারাইটিস ?
আমি না হাঁটলে আমার ছোট মেয়েটাও হাঁটে না । ওকে আমি রোজ হাঁটার অভ্যাস করাই ।
আমি এখনো বাবার কাছে ছোট মেয়ে । সেইজন্য বাবা আমাকে গুনতির মধ্যে ধরেন না ।
ডাক্তার তেজী গলায় বললেন , আপনার কাছে কোনটা আগে ? আপনার মেয়ে না অস্টিও আথ্রাইটিস ?
বাবা অমনি ফোঁস করে বলে উঠলেন , কি এতবড় আস্পদ্দা ? আমার মেয়ে তুলে কথা কইবার আপনি কে ? একজন সম্মানিত ভদ্রমহিলার সম্পর্কে আপনি আজেবাজে কথা কন কি কইরা ? অ্যাই শ্যাস । এখানে আর আসুম না । সোজা হরিদ্বারই যাব । পতঞ্জলি আশ্রম ।
আমাদের বাড়িতে বাবার কথাই শেষ কথা না । তবু বাবার মতামত আমরা সবাই মন দিয়েই শুনি । আমার ছোট খালা মাঝেমাঝে বাঁকুড়া থেকে ফোন করেন । ফোনেই বাবাকে নানাভাবে বুঝান । এবারে বললেন , বড়ভাই আপনের হরিদ্বার যাওনের দরকার নাই ।বাঁকুড়ায় পতঞ্জলি যোগের আশ্রম খুলতাছে । যা হওয়ার আপনার এখানেই হইব ।
বাবা যখন খালার সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন সন্ধ্যা সেইঘর ঝাড়ুপোঁছা করছিল । এই কাজটা আমাদের ঘরে সন্ধ্যা খুব মন দিয়ে করে । সেইজন্য সন্ধ্যার ঝাড়ু বালতি এমন কি ফিনাইলের বোতলও মা আলাদা করে দিয়েছে । সেগুলোয় আমরা কেউ হাত দিই না ।
বাবার কথা শুনে সন্ধ্যা বলল , আমি হলে কিন্তু বাঁকুড়া যেতাম না । সোজা হরিদ্বারই চলে যেতাম ।
সন্ধ্যার কথায় বাবা রেগে আগুন । তুমি কথার মাঝে কথা কইতাছো ক্যান ? পতঞ্জলি যোগপীঠের তুমি কি জান ?
সন্ধ্যাও দমবার পাত্রী নয় ।। সে বলল , আমি খুব রাগী । আমাকে খামোকা ধমকাচ্ছেন কেন ?
বেশ করেছি । কাজ করছো , মন দিয়া সেইটাই শেষ করো । আমি চাই না তুমি কথার মাঝে কথা কও । এটা বেয়াদপি ।
ধড়াম করে জল শুদ্ধ বালতি ঘরের মেঝের মাঝখানে নামিয়ে রেখে সন্ধ্যা দুপদুপিয়ে সিঁড়ির দিকে হাঁটা দিল ।
পেছন থেকে বাবা বললেন , বিদায় এখুনি বিদায় ! তোমরা এই মেয়ের পুরা বেতন দিবে না । টু পার্সেন্ট কেটে নেবে । কোম্পানীর সাথে মুখেমুখে তর্ক ।
তাই হল । সন্ধ্যাকে তক্ষুনি বিদায় করে দেওয়া হল । কিন্তু তার বদলে সেদিন থেকে জয়েন করল মালা । ঘণ্টা খানেক বাদ মালা ঘোষণা করল সন্ধ্যা ওকে আমাদের বাড়ির এবং পরিবারের নামে যা তা  বলে ওর কান ভাঙিয়ে দেবার চেষ্টা করেছে । বলেছে , এরা মানুষ না । কাজের লোককে এরা মানুষ বলেই গ্রাহ্য করে না । এবং আরো অনেক কিছু ।
প্রথমদিনে বেশি কাজ নেই মালার । হয়ে গেলে বাবা বললেন , এই মেয়েটাকে টিফিনে রোজ দুটা করে ডিম সিদ্ধ দিবে । মেয়েটার শরীর খুব দুবলা ।
আমাদের বাড়িতে সবার জন্য আলাদা আলাদা টিফিন । যে যার পছন্দমত খায় । মায়ের টিফিন কি সেইটা অবশ্য জানা নেই । কারণ আমরা যখন নাশতার টেবিলে বসে নাশতা খাই মা তখন বাগানে তাঁর শখের গাছপালার তদারক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন । বাবা আমাকে বলে , সামরিন তোর আম্মিকেও ডাক না । বল আমাদের সাথে বসে নাশতা করতে । আজকের আলুচচ্চড়িটা মস্ত হয়েছে ।
আমি বললাম , তাই নাকি ? কিন্তু আব্বু আজ তো আলুচচ্চড়ি রান্নাই হয় নি । আজ তো সবার জন্য স্যান্ডুইচ নাশতা । গ্যাস ফুরিয়ে গেছে বলে মা তাড়াতাড়ি মাইক্রোতে করে দিয়েছে ।
তুই স্যান্ডুইচ চিনিস না ? তোকে টাকা দেব , দোকানে গিয়ে একদিন খেয়ে আসিস ।
আমি মার দিকে তাকিয়ে আছি ।তিনি সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বাগান থেকে তুলে আনা শ্বেতকরবীর গুচ্ছগুলি ফুলদানীতে একেএকে সাজিয়ে রাখছেন । তাঁর চোখেমুখে বাবা বিষয়ক কোন কথাই নেই । নিশ্চিন্তে পানও চিবোচ্ছেন ।
মালা মাকে বলল , ভাবী আমি ডিমসিদ্ধ খাই না । গন্ধ লাগে ।আপনি আমাকে মাসে তিন কেজি মুড়ি দিয়ে দেবেন । ওইটাই আমার টিফিন । অন্য বাড়িগুলোতেও তাই নিই । 
ইন্ডিয়ায় কাজের লোকের বাজার খুব টাইট । এখানে জ্বাল নোটও মিলে । মাঝেমাঝে টিভিতে খবর হয় । কিন্তু কাজ করবার লোক চাইলেও মিলবে না । সবাই সরাসরি মানি মার্কেটে এজেন্সির কাজে চলে যায় নয়ত পার্টিতে ।  তারপর যারযার নিজের কপাল ।
মা বললেন , সামরিন আজ কি সোমা আসবে ? যদি আসে একটু বসতে বলবি তো ! বাবুয়ার জন্য কাল একটা জামা কিনেছি ।
বাবুয়া সোমার মেয়ে । ছোট । ক্লাশ টুয়ে পড়ে । মা প্রায়ই তাকে এটা সেটা উপহার দেয় ।
বাবা এক চুমুকে তাঁর চা শেষ করলেন । তাঁর চা কাপেই ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল । চা শেষ করে আমাকে বললেন , কয়েকটা দিন অপেক্ষা কর । আমার এফ ডি টা ম্যাচিওর হবার টাইম হয়ে গেছে । 
তোমার টাকা পয়সা এখন কিচ্ছু লাগবে না আব্বু । লাগে যদি তখন বলব , তার আগে না ।
এইখানে একটা কথা আছে । আমার বাবা চান আমি যে কোন একটা ব্যবসা করি । যা হোক কিছু । এজন্য বাবা আমার ট্রেড লাইসেন্সও করিয়ে দিয়েছেন । কিন্তু আমার লক্ষ্য অন্য । জয়পুরে যে কোম্পানীতে আমি লাস্ট দেড় বছর চাকরি করেছি সেখান থেকে কিছু টাকা পয়সা আমার জমেছে । ইদানীং আরো ভালো কোম্পানির জন্য আমি দুবেলা হন্যে হয়ে নেট সার্চ করছি । একটা কোম্পানী মোটামুটি পছন্দও হয়েছে । শুধু ফাইনাল সিলেকশন বাকী ।
আমার দিকে তাকিয়ে বাবা বললেন , ব্যবসার সবথিক্যা বড় সমস্যা কি বলতো ?
কি ? 
কেপিটেলের । যে কোন ব্যবসায় মিনিমাম দশ থেকে বারো লাখ কেপিটাল লাগে ।
আব্বু ব্যবসা করবার মত অত বুদ্ধি আমার নাই । আমার হাতে ক্যাপিটাল নষ্ট হয়ে যাবে ।
নষ্ট কেন হবে ? তুই মনে করবি এইটা তুই আমার থিক্যা ধার নিচ্ছিস । তিন মাসের ভেতরে আবার রিটার্ণ । মানে আমি হলাম গিয়ে তোর ব্যবসার স্লিপিং পার্টনার । বুঝলি ?
আব্বু আমি চাকরী বুঝি । প্রোগ্রামিং বুঝি । ব্যবসার কত খানা খন্দ রয়েছে সেসবের কিছুই জানি না । ওসব আমার কম্ম না । তবে তুমি যখন বলছ , সোমাকে একবার বলে দেখতে পারি । ওর শিগ্গিরি একটা কাজ খুব দরকার ।
বাবা চা শেষ করে উদাস মুখে টেবিলে নখ দিয়ে আঁচড় কাটেন । তখন তাঁকে আমার খুব মায়া হয় ।অবশ্য এরকম হওয়ার তেমন কোন কারণ নেই । বাবা কারুর কাছ থেকেই নিজের প্রকৃতি লুকাতে পারেন না । আর এজন্য বাবাকে কেউ তেমন পছন্দও করেনা । ভাবতে ভাবতে আমার চোখ হঠাৎ কড়কড় করতে শুরু করে । জল আসার আগে যেমন হয় ।
আমার বাবা আবদুল্লা ঘানি খোন্দকার বোকা মানুষ না চতুর তা আমি কখনও ধরতে পারিনি । তাঁর কথাবার্তা বা বাহ্যিক ব্যবহার খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ । যে কেউই মটিভেট হবে । কিন্তু বোকদের কথা কেউ গ্রাহ্য করেনা । সুতরাং এদিক দিয়ে বলতে গেলে তিনি বোকা নন । বাবার সমস্ত কাজের পেছনেই একটা বড় আদর্শ থাকে । বাইরের লোকজনেরা এজন্য বাবাকে আবদুল্লা সাহেব বলে না , বলে দিবানগী ।
আজ জুম্মাবার । সকাল দশটা মাত্র । আমি বাবার ঘর থেকে বসার ঘরে সোমার কাছে ফিরে এলাম । বাবার এখন শীত করছে না । তাই সাদা চাদরটা তিনি খুলে বাঁপাশে জড়ো করে রেখেছেন । তাঁর ফরমাশ এখনও পালন করা হয়নি । তাতে অবশ্য কোন সমস্যা নেই । কারণ বাবার মধ্যে কোন তাড়াহুড়া নেই । মা যদি তাঁর কাছে দুঘন্টা পরও যান  বা এবেলার মধ্যে নাও যান তিনি মাকে বা আমাকে আর ডাকবেন না ।
সোমা বলল , সামরিন অনুরাধার খবর কি রে ? ফোন করেছিল ?
কই না ! 
অনুরাধা সবাইকে বলে বেড়চ্ছে ও নাকি আর দু মাস পর ইউ এস এ চলে যাচ্ছে ।
তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেল ? অনুরাধা অত টাকা কোথায় পাবে ?
আরে ন্না ! অনুরাধার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে না ?
তুই কি করে জানলি ?  তোকে ফোন করেছিল ?
না । সবাই জানে , সেখান থেকে আমিও জেনেছি । বুঝলি সামরিন , মেয়েটার কপাল আছে বলতে হবে ।
সোমা লজেন্স খাবি ? আমার কাছে আছে ।
আমি প্যাকেট খুলে একটা লজেন্স নিজে নিলাম , আর একটা সোমাকে দিলাম 
। লজেন্সটা মুখে পুরে সোমা কড়মড় শব্দ করে সাথে সাথে ভেঙে ফেলল । সোমার মুখ দেখে মনে হল না এই শব্দটা ওর কানে গেছে । অনুরাধা সোমার পিঠোপিঠি বোন । বাবুয়াকে নিয়ে সোমা বস্তিন বাজারে একটা ঘর ভাড়া করে একলাই থাকে ।অরুনাভর সঙ্গে পাকাপকি ডিভোর্স না হওয়া অব্দি সোমা ওই রকমই থাকবে । হাই তুলতে তুলতে সোমা বলল , there are many things in heaven and earth .  কার কথা কথা বলতো ? শেক্সপীয়র ।
শেক্সপীয়রের কথা বললেও সোমা কিন্তু শেক্সপীয়র পড়ে না । অথচ নানা রকম কথাবার্তার ফাঁকে এইরকম কোটেশন ও প্রায়ই গুঁজে দেয় । সমস্যা হচ্ছে সেইসব ডায়ালগে ওকে তখন খুব মানিয়েও যায় । মনে হয় ও নিশ্চই আগে থেকে সিচুয়েশনটা জানত ।
সোমা বলল , সামরিন কাল রাত্রে রাগে দুঃখে আমি অনেকক্ষণ কেঁদেছি । অনুরাধা যদি শেষ পর্যন্ত অরুনাভকেই বিয়ে করে তাতে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই । কিন্তু আমি জানি এই বিয়েটা শেষ পর্যন্ত হবে না । বরং যা হবে আমার ডিভোর্সটা মাঝখান থেকে ঝুলে যাবে ।
সোমার চোখের নীচে ঘন কালি আর ফোলা ভাব । চেহারাটাও আর আগের মত নেই , কেমন থ্যাসথ্যাসে । এ বাদ দিলে সোমা দেখতে খারাপ না ।বাবুয়ার পড়ার খরচ নিজেই চালাচ্ছে । সবদিক একা দেখতে হচ্ছে বলে সোমার চেহারায় একটা দায়ীত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের ছাপ পড়ে গেছে । আমার ধারণা সোমার ক্যারেক্টারে ভবিষ্যতে আরো অনেক রকম টার্ণ আসবে । 
সোমাকে বল্লাম , দুপুরে মাংস খাবি ? তাহলে রিয়াজে যাই চল্ । বাসায় আজ নিরামিষ রান্না ।
কেন আজ কি আছে ?
কিচ্ছু না । আজ ভাইয়ার দিমাগ চড়ে গেছে । সকাল থেকে ঘরের বাইরে আসেন নি ।
ভাবীর সাথে ঝগড়া হয়েছে ?
হয়েছে হয়ত । আমরা ওসব বুঝব না , রিয়াজ যাবি কি না বল্ ।
সোমা বল্ল , আচ্ছা যাব তাহলে । যাহার পা দুটা আছে , সেই ভ্রমন করিতে পারে । কিন্তু হাত দুটা থাকিলেই তো আর লেখা যায় না ? বল তো কার লেখা ?

আমি রান্নাঘরে ঢুকে মাকে বললাম, আব্বু তোমাকে ডাক দিয়েছে । এখনই যাও । মা কিছু বলল না। রান্নাঘরে মার পাশে ভাবী দাঁড়িয়েছিল ।পিছন ফিরে রুটিতে মাখন লাগাচ্ছে । এরপর হয়ত ছুরি দিয়ে আপেল শসা কাটবে । ভাইয়া দেরী করে নাশতা খায় ।
মা বলল , সামরিন তোর বাবার সঙ্গে তোর তো খুব ভাব । তোর বাবাকে একটা কথা বুঝায়ে বলতে পারবি ?
জি আম্মি ।
বলবি যে ডাক্তার যে ওষুধগুলা তোমারে খাইতে দিছে সেইগুলায় এখনো হাত পড়ে নাই কেন ?
কিন্তু বাবা রোজ নিয়মের ওষুধ খান তো আম্মি , আমি দেখেছি ।
ঐ ওষুধ না । এটা অন্য একটা । ঐটা খেলে তোর আব্বু ভাল থাকে , নইলে সারাদিন বকবক ।
এখন যাব আম্মি ?
মা বলল, না , আর একটু পর । আমার মাথা ধরেছে । আগে সেইটা কমুক ।

আমাদের বাসার তিনতলার সবচেয়ে উপরের বড় ঘরটা ভাইয়ার । ভাবীর সঙ্গে বিয়ের পর থেকে ভাইয়া ঐ বড় ঘরেই থাকছেন । ঘরটায় অনেক জানলা আর সিলিংএ দুইটা ফ্যান । এসিও থাকে । এই ঘর ভাবী নিজের হাতে গুছায় । মা নিয়ম করে দিয়েছে । অন্য আর কেউ এখানে ঢুকবে না । এমন কি ঝাড়ু পোঁছার জন্য মালাও না । ভাবী যতক্ষণ ঘর পরিষ্কার করে ভাইয়াও ঘরের ভেতরেই থাকে । তখন দরজা জানলা সবই ভেতর থেকে বন্ধ থাকে । ঘটনাটা আমি জানি আর মা । আজ ভাবী তিনতলার ঘর ঝাড়ু পোঁছা করতে যাচ্ছে না । পরে যাবে হয়ত । ভাইয়ার নাশতার প্লেটটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে মা বলল , ঐ কাপটার নীচে দেখ চারশো টাকা চাপা দিয়ে রাখা আছে । গিয়ে মুন্নুকে দে , বলবি আজ সন্ধ্যার সময় পরভিনকে নিয়ে আমি ডাক্তারের কাছে যাব , চেংড়া ডাক্তার না , লেডী গাইনোকোলজিস্ট ।
মায়ের কথায় আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম । ভাবী মুখ নীচু করে আছে । আমার মুখের দিকে তাকিয়ে মা গম্ভীর হয়ে বললেন , আল্লাহপাকের কয়টা নিয়ম আছে জানিস ? নিরানব্বইটা ।
আমি বুঝদারের মত মাথা নাড়িয়ে নাশতা ভরা প্লেট নিয়ে তিনতলায় ভাইয়ার ঘরে গেলাম । বুঝলাম মা এবার নতুন নিয়ম করে দিয়েছেন , নাশতার প্লেট ভাবী আর নিয়ে যাবে না ।
আমার ভাইয়ার নাম ফারহাদ ইফতিকার । লালচে সোনালী চুল আর চোখের মনি হালকা নীল । কিন্তু ভাইয়ার গায়ের রং আমাদের কারুর মত না । আমাদের বাসায় একমাত্র ভাইয়ার গায়ের রংই দুধে আলতায় । আমি চারশো টাকা ভাইয়ার সামনে বিছানায় নামিয়ে রাখলাম ।
ভাইয়া বলল , সামনের চেয়ারটায় বোস্ ।
বিছানায় অনেক রকমের বই ছড়ানো । ভাইয়া এখন কেমিস্ট্রীর ওপরে পোস্ট ডক্টরেট করছে । জিনিষটা ঠিক কি এর বেশী আমি জানিনা । এস এস সি পরীক্ষায় সব ছেলেমেয়ের মধ্যে আমার ভাইয়া থার্ড হয়েছিল । এখন উড়াউড়া শোনা যাচ্ছে থিসিস শেষ হবার আগেই নাকি ভাইয়া ইউনিভার্সিটি জয়েন করবে । ভাইস প্রিন্সিপালের পদ ।
ভাইয়া বলল , তোর খবর কি বল্ ?
আমি হুট করে বলে ফেললাম , সোমার জন্য একটা ছোটখাটো চাকরীর ব্যবস্থা করে দিতে পারবে ? তোমার তো অনেক জানাশোনা । 
সামরিন তোকে একটা কথা বলার ছিল ।
জি ভাইয়া !
বাবা নাকি আজকাল নাকে নিঃশ্বাস নিতে পাচ্ছেন না ? তুই বিশ্বাস করিস ?
হ্যাঁ করি ।
ভাইয়া কঠিন গলায় বলল , বাবার মাথা খারাপ হয়ে গেছে । এই সাইক্রিয়াটিস্ট বাবাকে ঠিক করতে পারবে না । ডাক্তার পাল্টাতে হবে ।
আমি চুপ করে আছি । কোন কথাই বের হচ্ছে না ।
এরপর কুড়ি সেকেন্ড ভাইয়া কোন কথা বলল না । কুড়ি সেকেন্ড পর উপুর থেকে সোজা হয়ে  ভাইয়া বিছানায় উঠে বসল । বসে ধীরে ধীরে বলল , অনেকগুলো কারণে বাবার চিকিৎসা করাতে হবে । প্রথম কারন , বাবা মা ছেলেমেয়ের আদর্শ । বাবা মারা যদি হঠাৎ কোন কারণে অসংগত আচরণ করতে শুরু করে তাহলে ছেলেমেয়ের মনে দারুণ আঘাত সৃষ্টি হতে পারে । এই আঘাত কোনভাবেই কাম্য নয় । দ্বিতীয় কারণ ,এইরকম অসংগত আচরণে পাড়া প্রতিবেশীরা বিরক্ত হতে পারে যার কোন জলদি সমাধান হয় না । তৃতীয় কারণ , বাবার এখন যা বয়স তাতে বাবাকে একজন কারু মুরিদ হতে লাগবে । যিনি বাবাকে ফানাফিল্লাহ শেখাবেন । সাধনার শেষ স্তর । আল্লাহপাকের সঙ্গে ডাইরেক্ট কানেকশন্ । চতুর্থ কারণ ......
ভাইয়া এমন ভাবে বলে যাচ্ছে যেন পরীক্ষায় প্রশ্ন এসেছে , তার উত্তর দিয়ে যাচ্ছে পরপর গুছিয়ে । ঠিকমত না লিখতে পারলে নাম্বার কাটা । পরীক্ষায় যে প্রশ্ন এশছে , তা এইরকম – তোমার বাবা কিছুদিন হল হঠাৎ অসংগত আচরণ করছে । এর পেছনে তোমার যুক্তিগুলি উদাহরণ সহ ব্যাখা কর ।
সামরিন !
জি !
বাবার ব্যাপারটা সবসময় মাথায় রাখবি । তোর স্বভাব হচ্ছে তুই যখন যার সঙ্গে থাকিস তার ছায়া হয়ে যাস ।
জি !
এখন যা । আর যাবার সময় বাইরে থেকে দরজাটা টেনে দিয়ে যা ।
বলতে বলতে ভাইয়া নিজের মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল । বোধহয় কারু কল টল আসছে । আমি ঘরের বাইরে বেরিয়ে এলাম , শুনতে পেলাম ঐ অবস্থাতেই ভাইয়া হাল্কা উঁচু গলায় আমাকে বলল , তোর বন্ধু সোমাকে একহপ্তা পর আমার সঙ্গে দেখা করতে বলিস । 


রিয়াজে আমি আর সোমা হলঘরটার একদম মাঝখানের টেবিলে বসলাম । টেবিলের সামনে বল ভর্তি পানি , পানিতে ছোট লিলি ভাসছে । আমরা আসার আগে বোধহয় এইখানটায় কোন ফ্রেশনার ট্রেশনার স্প্রে করা হয়েছিল ।
সোমাকে বললাম , ভাইয়া তোকে একসপ্তা পর দেখা করতে বলেছে ।
সোমা কোন উত্তর দিল না । আমি আবার বললাম , সোমা আগে স্যূপ খাবি ? তালে দুটো ভেজিটেবিল স্যূপের অর্ডার দেই ।
সামরিন একজন আমাকে একটা কাজের অফার দিয়েছে । কাজটা নোবো কি না তাই ভাবছি ।
কিসের কাজ ?
সোমা চাপা গলায় বলল , একটা প্রোডাকশনের । কিছু অ্যাড ফিল্ম তৈরী হবে । সেখানে কস্টিউম হিসাব রাখার কাজ । কিন্তু কাজটা আমার ঠিক লাগছে না ।
তুই বুঝলি কিকরে ?
বুঝলাম । যাদের কস্টিউম হিসেবে রাখতে হবে তাদের সঙ্গে বাই ফোনে কথা বলে কাজটা করতে হবে , নো ডাইরেক্ট ভিজিট ।
তাতে তোর কি ? টাকা কত দেবে বলেছে ?
টাকার কথা না । আসল কথা এই প্রোডাকশন বাজে ছবি তৈরী করে , করে বাজারে ছাড়ে । আমি ওর মধ্যে নেই ।
আমি নীচু স্বরে বললাম , তালে তো ঝামেলা চুকেই গেল ।
গম্ভীর হয়ে সোমা বলল , না ঝামেলা এবার শুরু হল । যেদিন কথা বলতে যাই সেদিন লোকানো ক্যামেরায় আমার ছবি তোলা হয় । আমাকে সবাই চিনবে কিন্তু আমার সঙ্গের পুরুষমানুষটাকে কেউ চিনবে না । এই ছবিও ওরা বাজারে ছাড়তে পারে । ভাল বিজ্ঞাপন হবে , নীচে কিছু ক্যাপশন থাকবে অবশ্যই । 
সোমা চামচ দিয়ে স্যূপ খাচ্ছে । সোমার চোখের জল গড়িয়ে গড়িয়ে স্যূপের বাটিতে মিশে যাচ্ছে ।।বদনাম ছড়িয়ে গেলে সোমা কোন ভাল জায়গায় কাজ পাবে না । আমি সাহস করে বলে ফেললাম লোকানো ছবিটা তুই কি দেখেছিস ?
অনুরাধা দেখেছে , দেখে আমার অ্যাকাউন্টে মেল করে দিয়েছে ।
আমি  ‘ ও আচ্ছা ’ বলে চুপ করে গেলাম । রিয়াজ এর বিরয়ানির নাম ডাক আছে । অন্য রেস্টুরেন্টের মত এরা যা তা চাল দিয়ে বিরানি বানায় না । বড় হলুদ প্লেটে স্যালাডের সাথে মাংস ভাত ডিম সাজিয়ে দিয়েছে । দেখতে দারুণ লাগছে । সোমাকে বললাম , তোর কি ধারণা এর মধ্যে পুরো ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে গেছে ?
ফোঁপাতে ফোঁপাতে সোমা বলল , বাড়িতে জানাজানি হলে আমি নির্ঘাৎ আত্মহত্যা করে মরব । বাবুয়াকে তখন তুই দেখিস ।
খুবই আশ্চর্যের কথা সোমা এখন কোন বিখ্যাত ডায়ালগ মুখস্থ বলছে না । সোমাদের বাড়ির ছাদ বর্ষাকালে শ্যাওলা পড়ে ভয়ানক পিছল হয়ে থাকে । ছাদের একদিকের কার্ণিশ আবার নেই । এইরকম পিচ্ছিল ছাদের কিনারায় যে কেউ গিয়ে দাঁড়ালে সমূহ বিপদের সম্ভাবনা । এইসব হিসাব নিকাশ আমার ভাইয়া বলতে পারে । সংখ্যাতত্ব পামিস্ট্রী নিউমারোলজী ইত্যাদি নিয়ে ভাইয়ার অনেক রকম পড়াশোনা আছে । আমার মত ওপর ভাসা বিদ্যা না ।

বাসায় ফিরলাম সন্ধ্যা পার করে । সোমাকে ওর এক পুরোন বন্ধু নিউ স্যুইট হোম পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে এলাম । গলিটা দিনের আলোতেও শুনশান থাকে । তারপর অটো ধরে সোজা বাড়ি । এসেই দেখি বাসায় হুলুস্থুল কান্ড । বাড়ির সামনে পাড়া প্রতিবেশীদের ভিড় । ভেতরে সব লাইট জ্বলছে । বারান্দায় মা আর ভাইয়া হাঁটাহাঁটি করছে ।
কই ছিলি এত রাত পর্যন্ত ? এদিকে মোবাইলে রিং হয় অথচ মোবাইল ধরিস না ?
কই রিং তো হয়নি ?
বাবাকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিস ? মিসিং !
সেকি ? কখন থিক্যা ?
অস্থির পায়চারী থামিয়ে ভাইয়া কোনক্রমে বলল , বিকেলে আমাকে বলল , নাকে নিঃশ্বাস পাচ্ছে না । দম বন্ধ হয়ে আসছে । শুনে বললাম , যাও একটু বার থিক্যা ঘুইর‍্যা আসো । তোমার নাক না মাথা খারাপ হইছে । উঃ কেন যে কথাখানা বললাম ।
ভাইয়া ডানহাত দিয়ে বাঁহাতের তেলোর ওপর জোরসে ঘুঁষি মারলেন ।
আমি মার দিকে তাকালাম । তাঁর চেহারায় শান্তি শান্তি ভাব ।
বললেন , গেছে যখন ঠিক ফিইর‍্যা আসব । পায়ের যন্ত্রনা আছে না ?
আমাদের প্রতিবেশী মাহফুজ ভাই বললেন , দিনকাল ভাল না ভাবী । তার উপর রাস্তাঘাটের যা হাল ।
ঘরের মধ্যে থেকে ভাবী আমাকে ঈশারায় ডাক দিলেন । 
চা খাবে ? জল বসিয়েছি । এই নিয়ে তিন তিন বার ,
তুমি কোথাও গিয়েছিলে ভাবী ?
এই কথায় ভাবীর মুখটা একটু লজ্জা লজ্জা হল । আমাকে পলকে একটু দেখেই মুহুর্তে আবার চোখ নীচে নামিয়ে নিলেন ।
সামরিন ! 
জি ! 
আব্বুর কিছু হয় নাই তো ? আমার খুব ভয় করছে । ফি আমানিল্লাহ্ ।


সেদিন অনেক রাত্রে আমার বাবা বাড়ী ফিরলেন । পেছনে বিরাট এক মিছিল । পথে ঘাটে বাবা যাকেই দেখতে পেয়েছেন সকলকেই বলেছেন , মিলমিশ করে একসঙ্গে থাকার মধ্যে যে আনন্দ তা আর কোথাও নাই । বলা বাহুল্য বাবার এই পরিকল্পনায় সকলেই সায় দিয়েছে । তারপর তারাই বাবাকে বাড়ী পৌঁছে দেবার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে । সুখের কথা বাবা কাউকেই মুখের ওপর না বলতে পারেন নি । রাত দশটায় বাড়ী ফিরে বাবা মাকে বললেন , ভাল কইর‍্যা চিন্তা কইর‍্যা চিন্তা কর বেগম । মানুষের জন্য আল্লাহ্তালাহ্ কতই না সুবন্দোবস্ত কইর‍্যা দিছে । থাকার জন্য ঘর দিইছে , পেটের জন্য ভাত , পরণের কাপড় চোপড় । অথচ মানুষ এমন বুরবাক যে ইশারা বুঝেনা । কেবলই বেশুমার কথা কয় । কেবলই বকওয়াশ্ ।
বলা বাহুল্য মা বাবার কোন কথারই উত্তর দিলেন না । আমাকে বললেন , কাল সন্ধ্যায় মাগরীবের নামাজের পরে মিলাদের ব্যবস্থা করতে হবে । যে মওলানা মিলাদ পড়াবেন তাঁকে যেন আমি গাড়ী করে আনতে যাই ।
তাই করলাম । পরদিন সন্ধ্যার সময় মওলানা এলেন । কাউকে না পেয়ে শেষে আমাকেই প্রশ্ন করে বসলেন , মিলাদ যে পড়াবো আর লোকজন কই ? কেউ আসবে না ?
জি আম্মি আসবে এখুনি ।
সেকি ? মাত্র দুইজন ?
জি । আমার বড়ভাই বাসায় নাই । উনি কোথাও বাইরইছেন । আর আমার আব্বু ঘর থিক্যা বার হন না । আপনি শুরু করে দিন । 


কুড়ি তারিখ সন্ধ্যায় একটা চাইনীজ রেস্টুরেন্টে আমরা সোমার মেয়ে বাবুয়ার জন্মদিন পালন করলাম । সোমার কাছে পনেরশো টাকা ছিল সবটাই জন্মদিনের পেছনে খরচ করেছে । 
সামরিন্ !
বল্ শুনছি ।

সোমার গলা ভাঙা । মুখচোখ লাল । গত দুইরাত বোধহয় ভাল করে ঘুমোয় নি । খাওয়া দাওয়া করেছে কিনা তাও বোঝা যাচ্ছে না ।
সিগারেট খাবি ?
না ।
না খাস তো বাবুয়াকে নিয়ে একটু বাইরে যা ।
তোর কাছে সিগারেট আছে ?
সোমা বলল , নেই , কিন্তু বললে এখুনি দিয়ে যাবে । আমি তো আর স্মোকার নই যে আমার ব্র্যান্ড লাগবে । আর একটা কথা , বাবুয়া আজ রাত্রে তোর কাছে থাকবে ।

আমি বাবুয়ার হাতে ছোট ব্যাগটা ধরিয়ে দিয়ে বললাম , বাবুয়া ডিজনীল্যান্ড যাই চল্ ।
মা যাবে না ?
নাঃ শুধু তুই আর আমি । দুজন ।
বাবুয়া হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল । আজ সে দারুণ খুশী । অনেক ছবির বই আর খেলনা উপহার পেয়েছে ।
বাবুয়া হেঁটে যেতে পারবি তো ?
পারব ।
সোমাকে ভেতরে রেখে আমরা রেস্টুরেন্টের বাইরে এলাম । ডিজনী ল্যান্ডের গেটটা এখান থেকে দেখা যাচ্ছে । বেশি দূর না । 
বাবুয়া আজ রাত্রে আমার কাছে থাকবি ? একসঙ্গে ঘুমাবো ।
হ্যাঁ থাকব ।
তোর মায়ের জন্য মন খারাপ করবে না ?
না তো !  রাত্রে তো আমি রোজ একাই ঘুমোই । পরশু মা কাঁদছিল আর কাকে ফোনে কথা বলছিল । আমি মাকে কত ডাকলাম , মা মা । মা শুনলই না । বলল , যা ওঘরে গিয়ে খেল ।
রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাবুয়া আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে ।
আচ্ছা এবার বল্ , তুই পুরো কেকটা খেলি না কেন ? তোর জন্য তোর মা অতবড় কেকের অর্ডার দিল ।
আজ আমার শরীর খারাপ । কপালে হাত দিয়ে দেখ আমার জ্বর ।
আমি নীচু হয়ে বাবুয়ার কপালে হাত দিলাম । মেয়েটার গা সত্যিই গরম ।
বাবুয়া কোলে উঠবি ।
সে প্রশ্নের জবাব দিল না । আমার দিকে ফিরেও তাকাল না । তার ভূবনে এখন কি আছে সে বলতে চায় না । এ একদিন বড় হবে । বিয়ে হবে । তখন তারও মেয়ে হবে । সেই মেয়েরও জন্মদিন হবে । জন্মদিনে মা মেয়েকে বলবে আমি যখন  তোর মত ছোট ছিলাম জন্মদিনে আমার জ্বর হয়েছিল । সবাই যখন ভাবছিল জন্মদিন বলে আমি খুব খুশী , আসলে তখন আমি শীতে কাঁপছিলাম ।
বাবুয়ার চোখ টকটকে লাল । ডিজনী ল্যান্ড ছেড়ে ওকে নিয়ে আমি সোজা ডাক্তারের কাছেই গেলাম । সেখানে বলল , কি ভাইরাস বোঝা যাচ্ছে না । ডেঙ্গু হতে পারে । ব্লাড রিপোর্টটা দেখি কি হয় ?
সেইদিন রাত্রে আমি স্বপ্ন দেখলাম একটা জায়গায় আমি বসে আছি আর কয়েকজন মিলে আমার মাথায় পানি ঢালছে । একেবারে বরফের মত ঠান্ডা পানি । আমি না পারছি কাউকে ডাকতে না পারছি উঠে যেতে ।।সোমা বলছে , সামরিন চুপ করে একজায়গায় বসে থাক । নয়ত জল ঢালতে অসুবিধা হচ্ছে । আমি সোমার দিকে তাকালাম , দেখলাম সোমার পরণে একটাও পোষাক নেই । সব একটান মেরে খুলে ফেলেছে ।
 আজ বারো ঘন্টার হরতাল । রাস্তা ঘাট একদম ফাঁকা । তবে ছেলে মেয়েরা ফুটবল ক্রিকেট খেলছে । আমি ভাবীকে নিয়ে গাইনোকলজিস্টের চেম্বারে যাচ্ছি । এই ডাক্তার হরতাল মানান না । ভাবীর মুখচোখ উদ্বিগ্ন । শাড়ির আঁচলটা গায়ের সঙ্গে সাঁটিয়ে ধরে রেখেছেন । মা এখন যাযা বলবে ভাবীকে তার সবই শুনে যেতে হবে । এই যে আমরা দুজন এখন হেঁটে হেঁটে ডাক্তারের চেম্বারে যাচ্ছি এটাও মায়ের আদেশ । গাড়ি চাপা চলবে না । এক্সেসাইজ । কোন ভাবেই ভাবীর যেন ফ্যাট না হয় । ফলে যখনই পাশ দিয়ে খালি রিক্সা চলে যাচ্ছে , ভাবী অসহায়ের মত সেই রিক্সার দিকে তাকাচ্ছে । কিছু করার নেই । কারণ আমাদের কাছে ডাক্তারের ভিজিটের টাকা ছাড়া অন্য টাকা নেই । মা আনতে দেয় নি ।
চেম্বারে পৌঁছে ভাবীই আগে ভেতরে ঢুকে গেল । পেছনে বাধ্য মেয়ের মত আমি । কাউন্টারে একটা ফর্সামত মেয়ে বসে । মেয়েটার মাথার ঠিক ওপরের দেওয়ালে এক বিরাট ছবি সাঁটা । ছবির ভেতরে অনেক গুলি খোপ । প্রথম খোপ দুটায় কিছুই বুঝা যায় না । তিন নম্বর খোপে একটা মুরগী বাচ্ছা পা উলটে শোয়ানো । পেটটা বেঢপ । শেষে ছবিতে সেই বাচ্ছাই ক্রমে আকৃতি বদল করে মানুষ । পা গুলো কাঠি কাঠি । বন্ধ চোখের পাতা । দেখলেই বুঝা যায় এই মাংস বেশ টাটকা । টেবিলের বাঁ পাশে দেওয়াল ঘেঁষে একটা ঢাউস টিভি  । হিন্দি সিনেমা চলছে সেখানে । ঘরশুদ্ধ সবাই সেইদিকেই তাকিয়ে । ভিলেন নায়িকার শাড়ী খুলে দিয়েছে । নায়ক এখনো এসে উপস্থিত হয়নি । ব্যাক গ্রাউন্ডে দুর্দান্ত একটা মিউজিক দিয়েছে । এইসব সীনে খুব একটা ডায়ালগ থাকে না । ডায়ালগ থাকলে সিকোয়েন্স পড়ে যায় । ভিলেন ও নায়িকা দুই জনেই গলগল করে ঘামছে । নায়িকার আবার চুলও খুলে গেছে । ফলে খোলা চুলে তাকে আরও সুন্দর দেখাচ্ছে । এই নায়িকা সোমার পছন্দের । এর দেখে সোমা পোষাক নকল করে । নায়িকাকে দেখে আমার গত রাতের স্বপ্নটা মনে পড়ে গেল , এর সঙ্গে সোমার অনেক মিল । কিন্তু  বন্ধু বান্ধবের ধর্ষণ হওয়া দেখতে ভাল লাগে না  ।নায়িকারটা ভাল লাগে । কারণ সিনেমায় শেষ মুহুর্তে মানে ভিলেন ঝাঁপ দেবার আগে নায়ক এসে হাজির হয়ে যায় । তখন কয়েক প্রস্থ ঢিসুম ঢিসুম । মারামারির দৃশ্য । এবং এরপরই জমাটি নাচ ।
কিন্তু এই সিনেমায় সেইটা দেখাল না । শাড়ী খোলা নায়িকা ব্লাউজের ভেতর থেকে মোবাইল বের করে পাওয়ার বটন প্রেশ করে দিল । ব্যস কেল্লা ফতে । কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ টুলিশ হাজির । ভিলেনের চোখে বিস্ময় । বলছে , আমার কোন দোষ নাই । ওনার কাপড়ে বিছা ঢুকে গেছিল ।
পুলিশ বলল , সেটা পরে দেখা যাবে । আগে টিপে তোর রস বার করি । এই তোমরা এর প্যান্ট খুলে ফেল ।
পুলিশের সঙ্গে একজন ডাক্তারও আছে । ডাক্তার ভিলেন কে জানাল , কিছু মনে করবেন না । সমাজের স্বার্থেই এটা করা হচ্ছে । আমি আপনাকে লোকাল অ্যানাস্থেসিয়া করে দেব ।

চৈত্র মাসের এগারো তারিখ বাবা বসার ঘরে জানালায় দড়ি বেঁধে সুইসাইড করলেন । বাংলা মাসের নাম এজন্য বললাম এক চৈত্রে এ গল্প শুরু করেছিলাম , এখন আর এক চৈত্র । গাছগুলিতে নূতন পাতা । রোদ সেই সোনালী হলুদ । ইস্কুলের ছেলে মেয়েরা যে যার নতুন ক্লাশে উঠেছে । তাদের হাতে রঙীন ফুলের গুচ্ছ , নতুন ক্লাশ টীচারকে দেবে । এগারো তারিখ সন্ধ্যার আকাশ খুব পরিষ্কার ছিল । সুইসাইড করবার জন্য বাবা এই দিনটাই বেছে নিলেন । সিলিং ফ্যান এ বাবার অ্যালার্জী তাই জানলার রডই ব্যবহার করলেন । আমরা সবাই ধরাধরি করে গলার ফাঁস খুলে বাবাকে বিছানায় এনে শুইয়ে দিলাম । বাবার হাত পা তখনও গরম । ভাইয়া দৌড়ে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স কল করল । মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হবে । ভাইয়ার দুটা হাতই কাঁপছে ।
মা বললেন , পুরা বাড়িটাই এসি করে দিব , সিলিং এ ফ্যান থাকব না আর !
ভাইয়া মা কে এক ধমক দিয়ে বলল , আম্মি চুপ করে থাকো ।

বাবা কপালে অদৃশ্য ঈজমে আজম নিয়ে শুয়ে আছেন । ভাব ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে ব্যাপারটা তিনি বেশ উপোভোগ করছেন । কারণ এত শব্দেও তিনি চোখ খুলছেন না । জানলার গ্রীলে বাবার গলায় বাঁধার দড়ি তখনো ঝুলছে । বাতাসে কাঁপছে মাঝে মধ্যে । আমি বাবার পাশেই বসে আছি । বিছানায় তিনি চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন । কিছুদিন হল বাবা একটা নতুন ওষুধ খাওয়া শুরু করেছিলেন । ভাবী বোধহয় কাঁদছে । কারণ কান্না শুনা যায় । ভাবী তুমি কান্দো ক্যান ? তোমার না এখন খুশ থাকনের কথা !
প্রতিবেশী মাহফুজ ভাই দরজায় এসে উঁকি দিলেন । তাঁর চোখ মুখ ভয়ার্ত । বললেন , আমাদের হাতে সময় কম । একটু তাড়াতাড়ি করতে হবে ।
জি মাহফুজ ভাই !
মাহফুজ ভাই মা কে বললেন , ভাবী আসেন আপনাকে কিছু কথা শিখায়ে দেই । নইলে উত্তেজনার সৃষ্টি হবে ।
মা বললেন , এরপর আমার আর মানসিক উত্তেজনা হবে না । বরং যা হবে , তা হল রাগ । 
রাগের সময় মানুষ ভুল করে বেশী ।
আমি ভুল করব না ।
আপা মাথা গরম কইরেন না । এখনই পুলিশ আসব , হ্যান ত্যান একগাদা প্রশ্ন করবে ।
মা কাঁদো কাঁদো হয়ে বললেন , তোর বাপ আমাকে সারা জীবন জ্বালালো ।
আমার ধারণা মা এই প্রথম তাঁর স্বামীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে কান্নাকাটি করলেন । আমি বাবার পাশ থেকে উঠে গেলাম , মা থাকুন ওখানে । সবচে ভাল হয় যদি মা কে রেখে সবাই এখনি অন্য কোথাও চলে যেতে পারতাম । মা তাহলে বুঝবে টেনশন কত প্রকার ও কী কী ?

কাদের সাহেব লোক ভাল । এসেই বললেন , কি করে বুঝব যে আপনারা আপনার বাবাকে খুন করে ফেলেন নি ?
ভাইয়া বললেন , স্যর আপনার সঙ্গে আড়ালে দুটা কথা বলতে পারি ?
জি না । আমি আড়াল কথা শোনার লোক না ।
মা হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিলেন । বাবা হঠাৎ কেন যে এমন একটা কাজ করতে গেলেন মা বুঝতে পারছেন না । কিন্তু এর কারন তো নিশ্চই আছে । ভাইয়া যেমন বলে , প্রথমে cause  তারপর factor . 
আমি বাবার দিকে তাকালাম । দেখলাম তাঁর চোখেমুখে খুব আনন্দ । বললেন , সামরিন আমি বেশ ভাল আছি , নিঃশ্বাসের আর কষ্ট নাই ।
আব্বু তুমি এমন কাজ কেন করলে?
এ তো আল্লাহ পাক আমাকে হুকুম করেছে , তাই ।
গলায় দড়ি দিবার মত এমন একটা জঘন্য কাজ আল্লাহর হুকুমে হইতে পারে কখনও ?
বাবা ফিসফিস করে বললেন , গল্প শুনবি ? শোন তাহলে । এক নবী ছিল । আল্লাহর ঘরে তার যাতায়াত । একদিন আল্লাহ তাকে প্রশ্ন করল , তোমার সবথিক্যা কিসে আনন্দ ?
সে কইল , প্রভু আপনার দর্শনে । 
তবে যাহ্ ! আমার সবথেকে গোপন নামের খোঁজ কর গিয়ে ।
সেই থেকে নবী লুকানো নামের সন্ধানে আছে , কিন্তু নাম মিলে না ।

গল্প শেষ করে বাবা গভীর এক নিঃশ্বাস ছাড়লেন । চৈত্র মাসে পরিষ্কার আকাশে তারাগুলি সব ঝলমল করে উঠল ।

আমি বাবাকে কদম্বুসি করলাম ।


Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো

সুধী দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো https://dehlij7.blogspot.com/     বহু প্রতীক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একমাত্র কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন, সংযোজনা করেছেন ।  দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এত সুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে ধন্যবাদ জানাই । শুধু দিল্লি নয়, ঢাকা, কলকাতা, হাওড়া, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।   দেহলিজের এই সংখ্যায় কিছু নতুন কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করা হলো । কবিতার সঙ্গে মেশানো হলো ছবি, ভাষ্কর্ষ ও ক্যামেরা ক্লিক । দৃশ্যময়তা ও টেক্সট একে অপরের জায়গা শেয়ার করা । নেওয়া হলো কবিতা নিয়ে আলোচনা । কবিরা কি ভাবছেন ? চিত্রকরেরা কি ভাবছেন এই ২০২১ এ দাঁড়িয়ে । যুক্ত করা হলো আন্তর্জাতিক কবি ও চিন্তকদের । যারা কবিতা, গদ্য ও বিশ্বসাহিত্য

আসছে দেহলিজের সংখ্যা - ৬

 প্রকাশ পাচ্ছে দেহলিজ-৬ করোনাকালের শুরুতে প্রকাশ পেয়েছিলো, দেহলিজ-৫ ; তেমন উচ্চবাচ্য হয়নি, ইচ্ছে করেই করা হয়নি, মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই ছিলো একটা কবিতা । লকডাউন শুরু হলো, মানুষ আটকা পড়লো ঘরে । শুরু হলো ঘরে বসে লাইভ টেলিকাস্ট । দেহলিজে - নতুন গ্রুপ একটিভিটি বেড়ে উঠেছে । তার একটা খসড়া এই রকমঃ  প্রিয় কবি বন্ধুগণ   আজকের এই বিশেষ অবসরে, আমার কিছু যত্নে লালিত প্রস্তাব রাখার অভিপ্রায়ে , এই পোস্টের অবতারণা  । দেহলিজ পত্রিকার সম্পর্কে এই  বিষয়টি একটা অভিনব ও যুগান্তকারী বলেও  মনে হয় আমার । দিল্লির যানজট, লকড ডাউন,  অফিস ব্যস্ততা, বাংলা ভূখণ্ডের দূরত্বে ভৌগলিক অবস্থান , উৎসাহী কবির স্বল্পতা বাংলা চর্চার ক্ষেত্রে একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে । তদুপরি ভাষার বিবিধতা , জাঠ হরিয়ানভি ঠাট,  পাঞ্জাবী কালচার আগ্রাসন করে নিয়েছে অনেক কিছু । বর্তমান দেশব্যাবস্থা, রাজনৈতিক সমীকরণ সাহিত্য দিল্লি-বক্ষে সাহিত্য প্রয়াসের প্রতিকুল সততই । এই রকম চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাও একটি সাহসী পদক্ষেপ , আমাদের একত্রিত প্রয়াসে  আমরা বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডা ও অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে তবুও তুলে ধরেছি । দেহলিজের এই অগ্রগতি আমাদের একটা আশ

প্রকাশ হলো দেহলিজ -৬

দেহলিজ-৬ প্রকাশিত হলো   ক্লিক করুন | Click Here   বহু প্রতিক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একটা কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন । দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এতসুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই । শুধু দিল্লি নয়, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।    এই সংখ্যায় কিছু নতুন টেমপ্লেট নেওয়া হলো । ডেস্কটপ ও মোবাইল থিম আলাদা করা হয়েছে । নতুন করে সাজানো হয়েছে মেনু লিংক । অটোমেশন করা হয়েছে । সংখ্যায় বৈচিত্র নিয়ে কিছু কাজ করা হলো । কবিতা ছাড়াও রাখা হলো মুক্তগদ্য, অনূদিত নাটক, বই রিভিউ, স্মৃতিচারনা ও ছোট হল্প । আর একটি বিষয় নিয়ে এই প্রথম কাজ করা হলো সেটা হলো - কবিতা ও চিত্রকলার মিলনসংহার । ৬ জন কবির কবিতাকে উডকাট ব্লাক এন্ড হো