Skip to main content

মোনালি রায়

: যম না :

 মোনালি রায়


কাম না

তুই ছুটছিস, সাকেত থেকে সিরি ফোর্ট, নাংলোই থেকে নয়ডা
কিচ্ছু ছাড়ছিস না
মিনার, বাহার, সৌধ, সমাধি, নামাজ, আজান, চালিসা, চতুর্বিশা
গিলে ফেলছিস মেট্রো ওলা শেয়ারড সিটি ম্যাপ
তোকে গিলে ফেলছে অ্যান্টিবায়োটিক সাপ
এ মুখে গিলে ওমুখে আঁচিয়ে আবার গেলা
তোরা বাংলায় চলমান ৪ হয়ে এই ওগরানোর খেলা খেলেই চলেছিস
আর উন্মত্ত অশান্ত পরিত্যক্ত কামজল ভিজিয়ে দিচ্ছে গোটা শহর


না দিল

তুই এ শহরে থাকিস না। এখানকার হালহকিকত  জানিস না।
এখানে অর্ধ নরমুন্ড কয়েক'শ অ্যান্টেনা আর হেডফোন বসে থাকে।
টুটা ফুটা হাত, আধলা পায়ে গাদা গাদা পেরিস্কোপ, ফাঁপা টায়ার
বাকি যন্ত্র অদলে বদলে কৌন হম কৌন তুম
কার ঘাড়ে কে
অত জটিলতায় যাস না।

এ শহর বুক চিতিয়ে, জান লড়িয়ে জুঁই চিবুচ্ছে এখন তোর জন্য।



মেঘ না

স্ট্রিট ল্যাম্পের হলুদ ত্যারছা আলো মিইয়ে পড়া চাঁদকে তাড়িয়ে দিয়েছে স্কাই স্ক্র‍্যাপারের ওই পারে। জোনাকি লেহেঙ্গা সি থ্রু শিফন। কফিশপ, পাব, ডান্সবার ডিজাইনার আকাশ জুড়ে তারাদের মুড অকেশন বুঝে গোলাপি, বেগুনি, সবুজ, হাল্কা নীল। অনেক অনেক চাঁদ স্বেচ্ছায় রাতের রাস্তায় নেমে গড়াগড়ি খায়, মরে। জানি তোর রোমকূপে তাক লেগে যায়! যত বড় মেট্রো, তত বড় ঘোমটা..... সঙ্গম বা পুজোপাঠ যাই চাস, জুতো-জামা না খুলেই ট্রাভেল স্যাক সমেত ঢুকে যেতে পারিস


না লগি

জঙ্গলগুলোর স্কেচ নিতে ভুলিস না। সযত্ন অন্তর্বাস ঢাকা...  বাবলার ঝোপ আরাবল্লীর আগে হাফ স্লিভস, ফুল স্লিভস না-খোলা রাফ। বাকি হাত পা গলা পীচ, গন্ধা দিমাগ, দিল  বেমালুম আঙুল.... চেটে নিস। রেণুহীন, ধূলোহীন। তোর শরীরে মেখে যাবে যমুনার বর্জ্য, গরম তরল লাভা। খুশি? বাঃ। ফির সে আ না।  দেওয়াল ভেঙে জল গম্বুজ, বিজ্ঞাপন আড়ালে ফাঁকিহীন পরিত্যক্ত গাছেদের দেখতে.... সার সার লাশেদের ফ্র‍্যাকচারড মাথা ডিঙিয়ে তোদের বেহেস্ত, মেহেফিল



ওড় না

তুই এসে জাপটে জড়িয়ে নিবিড় আরো নীল, আরো লাল গাঢ় করে নিবি। শিরা বৃন্ত উন্মুক্ত উদগ্র হয়ে আছে। হাঁমুখ ফাঁক করে মেট্রো সুড়ঙ্গের সিঁড়ি । এক পা, এক পা চলতে চলতে তোর হাত ধরে পলাশ, শিমূল, চূড়া ছড়িয়ে চলে যাবে বহুদূর .... গাড্ডা বুজিয়ে দেবার কেউ নেই। ফ্ল্যাট স্ক্রিনস, মোবাইল লোশনস, পারফিউমড লেদারের অবশেষ ভয়ঙ্কর সিমিলারিটিতে ঝুলে আছে বাদামী গহ্বর,  ওয়ারলেস অ্যাবস্ট্রাক্ট চুনরি । আত্মা ঘায়েল লিপস্টিকে ইম্পোরটেড দামী নখে। খোসা আঁশ ছাড়িয়ে ছড়িয়ে সব দাগ চুষে নিস



না বাহার

তুই বলেছিলি বলে, এবার এখানে বসন্ত এল না।  অ্যাবসেন্ট পরিযায়ীরাও। তোর নতুন ব্রাশের ব্রিসলস কী ভয়ানক ভাবে মানুষ মানুষ গন্ধের, অথচ তুই চেয়েছিলি নীরস নীরব সিটিস্কেপ। সেজেগুজে পটের বিবি হয়ে দ্যাখ যমুনা-পার রেডি।
তুই ফিরে গেলেই কিচেনে কিচেনে আর্টিফিশিয়াল ফাইবারস, চানঘরে রক্ত রঙের রস ঝরে পড়বে।
তুই যে ছেনালিতে ক্লিন বোল্ড, সেটা দেখনদারি।
তোর কাজ হয়ে গেলেই বোরখায় মুখ ঢেকে, যোনীতে তুলো গুঁজে যমুনা ফিরে যাবে


Comments

Popular posts from this blog

দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো

সুধী দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো https://dehlij7.blogspot.com/     বহু প্রতীক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একমাত্র কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন, সংযোজনা করেছেন ।  দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এত সুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে ধন্যবাদ জানাই । শুধু দিল্লি নয়, ঢাকা, কলকাতা, হাওড়া, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।   দেহলিজের এই সংখ্যায় কিছু নতুন কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করা হলো । কবিতার সঙ্গে মেশানো হলো ছবি, ভাষ্কর্ষ ও ক্যামেরা ক্লিক । দৃশ্যময়তা ও টেক্সট একে অপরের জায়গা শেয়ার করা । নেওয়া হলো কবিতা নিয়ে আলোচনা । কবিরা কি ভাবছেন ? চিত্রকরেরা কি ভাবছেন এই ২০২১ এ দাঁড়িয়ে । যুক্ত করা হলো আন্তর্জাতিক কবি ও চিন্তকদের । যারা কবিতা, গদ্য ও বিশ্বসাহিত্য

প্রকাশ হলো দেহলিজ -৬

দেহলিজ-৬ প্রকাশিত হলো   ক্লিক করুন | Click Here   বহু প্রতিক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একটা কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন । দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এতসুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই । শুধু দিল্লি নয়, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।    এই সংখ্যায় কিছু নতুন টেমপ্লেট নেওয়া হলো । ডেস্কটপ ও মোবাইল থিম আলাদা করা হয়েছে । নতুন করে সাজানো হয়েছে মেনু লিংক । অটোমেশন করা হয়েছে । সংখ্যায় বৈচিত্র নিয়ে কিছু কাজ করা হলো । কবিতা ছাড়াও রাখা হলো মুক্তগদ্য, অনূদিত নাটক, বই রিভিউ, স্মৃতিচারনা ও ছোট হল্প । আর একটি বিষয় নিয়ে এই প্রথম কাজ করা হলো সেটা হলো - কবিতা ও চিত্রকলার মিলনসংহার । ৬ জন কবির কবিতাকে উডকাট ব্লাক এন্ড হো

আসছে দেহলিজের সংখ্যা - ৬

 প্রকাশ পাচ্ছে দেহলিজ-৬ করোনাকালের শুরুতে প্রকাশ পেয়েছিলো, দেহলিজ-৫ ; তেমন উচ্চবাচ্য হয়নি, ইচ্ছে করেই করা হয়নি, মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই ছিলো একটা কবিতা । লকডাউন শুরু হলো, মানুষ আটকা পড়লো ঘরে । শুরু হলো ঘরে বসে লাইভ টেলিকাস্ট । দেহলিজে - নতুন গ্রুপ একটিভিটি বেড়ে উঠেছে । তার একটা খসড়া এই রকমঃ  প্রিয় কবি বন্ধুগণ   আজকের এই বিশেষ অবসরে, আমার কিছু যত্নে লালিত প্রস্তাব রাখার অভিপ্রায়ে , এই পোস্টের অবতারণা  । দেহলিজ পত্রিকার সম্পর্কে এই  বিষয়টি একটা অভিনব ও যুগান্তকারী বলেও  মনে হয় আমার । দিল্লির যানজট, লকড ডাউন,  অফিস ব্যস্ততা, বাংলা ভূখণ্ডের দূরত্বে ভৌগলিক অবস্থান , উৎসাহী কবির স্বল্পতা বাংলা চর্চার ক্ষেত্রে একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে । তদুপরি ভাষার বিবিধতা , জাঠ হরিয়ানভি ঠাট,  পাঞ্জাবী কালচার আগ্রাসন করে নিয়েছে অনেক কিছু । বর্তমান দেশব্যাবস্থা, রাজনৈতিক সমীকরণ সাহিত্য দিল্লি-বক্ষে সাহিত্য প্রয়াসের প্রতিকুল সততই । এই রকম চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাও একটি সাহসী পদক্ষেপ , আমাদের একত্রিত প্রয়াসে  আমরা বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডা ও অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে তবুও তুলে ধরেছি । দেহলিজের এই অগ্রগতি আমাদের একটা আশ