Skip to main content

দিলীপ ফৌজদার

বিকীরণ

দিলীপ ফৌজদার



সময় পেরিয়ে যাওয়ার কথা বলতে নদীর কথা তখন পেরিয়ে যেতে যেতে হেঁটে পেরোনর কাঁটা পায়ে যে বিঁধবে এ সম্বিৎ ভাবনার স্রোতকে ছাপায় না, উশকায় পায়ের তলার হাঁটাপথ যেটায় এখন আর স্রোতের বাধা নেই, এটাকে এখনো নদীই বলবো, এটা স্বভাব, যা মলেও যায় না, এই ধরে রাখা নাম যা পড়ে থাকা বা বিস্মৃত, কিংবা হতে পারে উপেক্ষিতও তবুও কিছু গড়ায়, তবু এই নির্জলা নদীরে নদীই কই আপাতত



মেনে নিলে নকশা ঠিকঠাক মেলে - সমস্ত ভূগোলচিহ্ন, যাবতীয়, সকলেই যে যেমন সে তেমন আপন আপন জায়গায় বসে ছেলেবেলাকার ক্লাসরুমে - সে কালটা কদিন আগের হলেও সুদূর , ঝাপসা - এটা কুয়াশা, ধোঁয়াসা বা ধুঁয়া সা অথবা মস্তিষ্কবিকৃতিজনিত না ভেবে বরং এগিয়ে যাই এই ভাবনায় যে কিছু হারালে বিনিময়ে কিছু আসে  সেটা বিনিময় না ভাবলেই পুরোণো জগতটা ভেঙে যায় নতুন আরেকটা জগৎ আসে জায়গাটার দখল নিতে, শরিকেরা আপন আপন ধর্ম আঁকড়ে ত্বরায়, অধিকারবোধে তুমুল, তুখোড়, 



বিকৃতিরা নাচের নকশা বদলে  গড়ার ঝোঁকে মাতোয়ারা, বুঁদ, এটায় যাঁরা শিব গডতে বাঁদর গড়ার কথা তুলে সোচ্চার হন বক্রোক্তিতে বা উপেক্ষায় তাঁদের অজান্তেই সময় কখন ঘুরে দাঁড়ায়,  সেই তাঁদেরই একেবারে মুখোমুখি, দৃষ্টিকটু অঙ্গভঙ্গি করে, মানুষ জানেনা সুন্দরের জায়গাটার এত বিস্তার সুরূপ পেরিয়ে কুরূপের প্রসারিত মালভূমিতে আরো কত গহন বন সেগুলোরও কোনটা ক্ষয়া কোনটা ভাঙা কোনটায় আরোপিত বিকৃতি তো কোথাও অতি চাইএর দারিদ্র্য, আবার কোনখানে অতি উপেক্ষার দৈন্য



আমরা এখনো নদীকে নদী বলি বনকে বন পাহাড়কে  পাহাড় কোন একটা দেশে গেছি যার সর্বোচ্চ পাহাড় একশ আশি মিটারের তার নাম আকাশপর্বত তার চূড়া পর্যন্ত পৌঁছে গেছে পীচরাস্তা, লোকেরা ওটাকেই পর্বত জানে হিমালয় সেখানে কল্পনায় সাতকাহন আর সেখানে পৌঁছে পাহাড় কাকে বলে একথাটাও মাথায় ঘোরাফেরা করে কিন্তু এটাও সেই ছেলেবেলাতেই  দেখা মুখোমুখি  দাঁডানো খাড়া উত্তুঙ্গ পাহাড়, পথ চলার অভিকর্ষ তাগিদে পায়ে পায়ে মিলিয়ে যায় সব দুর্ধর্ষ অজানা, অহংকারী অনড়, উচ্চতা, তখনও পায়ের তলায় পথ সবকিছুকে ধরে রয়েছে ঠিক যেমন ছিল তেমনিই



তখন বনের ঝোপঝাড়, শালপিয়ালমহুয়া ঘিরে জিজ্ঞাসার প্রকৃতিপাঠ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, চরৈবতি নয় - ওতে যে আহরণ তাতে ক্ষুধার সংস্থানও নিহিত - এই বিচরণের ভবিষ্যতও অজানা নয় উপরে ওঠার কথাটা ঢেকে রেখেছে গাছগাছালি, আর পথও - তার দিকে অনবরতই চোখ রাখতে হয় সেখানে পিচ্ছিল কৌতুক -   সরুমোটা বালি, নুড়ি,  উপলখণ্ড, গডানো পাথরপিণ্ড মায়কি বিশালাকায়  চাঙ্গড় যা পথের বাধা হওয়ায় রাস্তারই ঘুরে যাওয়া মুখ, অনবরতই প্রসারণএর উদারতায় ছড়িয়ে পডা সঙ্কুচনএর সূঁড়িপথে জড়িয়ে পড়া এসব পেরোতে পেরোতে কখন দেখা যায় দিগ্বলযের বেড়ে যাওয়া তার ভেতরে নদী, জমির ওপর বালি দিয়ে আঁকা এ নদী বয় না, নিশ্চল দাঁডিযে থাকে, বোধএ এলো এটাই তাহলে ছিল উন্নতি, তলার জিনিসগুলো এখন তলার



দৃশ্যেরা এরকম স্থির দাঁডিয়ে গেলে মনে হতে পারে সেখানে কেউ ঘড়ির কাঁটাকে আটকে রেখে দিয়েছে তার দুহাত বাঁধা সেই ঘড়িরই দুই কাঁটায অথচ সেই অবিরাম টিকটিক বয়ে চলেছে নিরন্তর এটাও নয় যে সে শব্দ কেউ শোনে না, শোনে নি - হৃদয়ের আওয়াজ কে না শোনে নাড়ীর স্পন্দন কে না ছুঁয়ে দেখে, বার বার, শরীরের অনেক দোলা তাও অচলতা সন্দেহে শুনতে চাওয়া পেণ্ডলামের শব্দ



জমির ওপর স্থির ছবিরা দেয়ালছবি নয কেউ বা কোনটাই, ওদের ধরতে গেলে ধরা দেয ক্যামেরায় বা ক্যানভাসে কেউ মিলিয়ে মিলিয়ে হিসেবের অঙ্ক কষে দেখতে যায় না ছবিদের মিলিয়ে যাওয়া দেয়ালে বা অ্যালবামে তারা গ্রন্থের ভেতরকার মান্যতাপ্রাপ্ত হযে গেলেও জায়গারা কি ওরকম স্থির হয়ে আছে এখনো এ প্রশ্নটা আসেই না, ক্বচিৎ, পরের দেখা ঘটে গেলেও ছবির ভিন্নতা কিছু আপনাআপনিই বলে দেবে না, কেউ এসে না জানিয়ে দিলেও গল্পটা তো চলছিলও, চলছেও, ভেতরকার সব ঘটনা ছবিতে, দেখায়ও লেখা থাকুক বা নাই থাকুক খুঁড়লে তো বেরিয়েই আসে



সব বদলাওতেই নিহিত একটা তাগিদ যেটা মানুষের রামরাজ্যের বা রাবণরাজ্যের - একোহিঁ বাৎ  - কিম্বা জঙ্গুলে রাইফেলদের বা জেদি নতুন খলবলে খুঙ্খার সাম্রাজ্যবাদীদের, এই সব উন্নতি বা বদলে দেওয়ার আত্মপ্রসাদে আক্রান্ত ক্ষমতাবানদের জেদে নতজানু উলঙ্গ তৃষার্ত নদীরা আপন আপন হাড়পাঁজরসহ লোলজিব্হ নখদন্তে করাল দেহভাষায় রাক্ষুসে নাচ দেখাতে এগিয়ে আসছে

Comments

Popular posts from this blog

দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো

সুধী দেহলিজ-৭ প্রকাশিত হলো https://dehlij7.blogspot.com/     বহু প্রতীক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একমাত্র কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন, সংযোজনা করেছেন ।  দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এত সুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে ধন্যবাদ জানাই । শুধু দিল্লি নয়, ঢাকা, কলকাতা, হাওড়া, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।   দেহলিজের এই সংখ্যায় কিছু নতুন কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করা হলো । কবিতার সঙ্গে মেশানো হলো ছবি, ভাষ্কর্ষ ও ক্যামেরা ক্লিক । দৃশ্যময়তা ও টেক্সট একে অপরের জায়গা শেয়ার করা । নেওয়া হলো কবিতা নিয়ে আলোচনা । কবিরা কি ভাবছেন ? চিত্রকরেরা কি ভাবছেন এই ২০২১ এ দাঁড়িয়ে । যুক্ত করা হলো আন্তর্জাতিক কবি ও চিন্তকদের । যারা কবিতা, গদ্য ও বিশ্বসাহিত্য

আসছে দেহলিজের সংখ্যা - ৬

 প্রকাশ পাচ্ছে দেহলিজ-৬ করোনাকালের শুরুতে প্রকাশ পেয়েছিলো, দেহলিজ-৫ ; তেমন উচ্চবাচ্য হয়নি, ইচ্ছে করেই করা হয়নি, মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই ছিলো একটা কবিতা । লকডাউন শুরু হলো, মানুষ আটকা পড়লো ঘরে । শুরু হলো ঘরে বসে লাইভ টেলিকাস্ট । দেহলিজে - নতুন গ্রুপ একটিভিটি বেড়ে উঠেছে । তার একটা খসড়া এই রকমঃ  প্রিয় কবি বন্ধুগণ   আজকের এই বিশেষ অবসরে, আমার কিছু যত্নে লালিত প্রস্তাব রাখার অভিপ্রায়ে , এই পোস্টের অবতারণা  । দেহলিজ পত্রিকার সম্পর্কে এই  বিষয়টি একটা অভিনব ও যুগান্তকারী বলেও  মনে হয় আমার । দিল্লির যানজট, লকড ডাউন,  অফিস ব্যস্ততা, বাংলা ভূখণ্ডের দূরত্বে ভৌগলিক অবস্থান , উৎসাহী কবির স্বল্পতা বাংলা চর্চার ক্ষেত্রে একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে । তদুপরি ভাষার বিবিধতা , জাঠ হরিয়ানভি ঠাট,  পাঞ্জাবী কালচার আগ্রাসন করে নিয়েছে অনেক কিছু । বর্তমান দেশব্যাবস্থা, রাজনৈতিক সমীকরণ সাহিত্য দিল্লি-বক্ষে সাহিত্য প্রয়াসের প্রতিকুল সততই । এই রকম চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাও একটি সাহসী পদক্ষেপ , আমাদের একত্রিত প্রয়াসে  আমরা বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডা ও অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে তবুও তুলে ধরেছি । দেহলিজের এই অগ্রগতি আমাদের একটা আশ

প্রকাশ হলো দেহলিজ -৬

দেহলিজ-৬ প্রকাশিত হলো   ক্লিক করুন | Click Here   বহু প্রতিক্ষার পর, ফির`সে দেহলিজ । প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই কবি ও লেখক বন্ধুদের । তারা ভরসা রেখেছেন, কঠিন সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন, ফোনে কথা বলেছেন । এই করোনা কালে, বেঁচে থাকাই হলো একটা গল্প, লড়াই করে যাওয়াই একটা কবিতা । দিল্লি এনসিআর এর কবি বন্ধুরা আমার সঙ্গে ছিলেন, তারা আমার হয়ে দেহলিজের লেখা নিয়েছেন, নিজেরা এডিট করেছেন । দিল্লির এই রুক্ষতার আবহেও এতসুন্দর একটা সাহিত্য উপস্থাপনা আমাদের দিয়েছেন, আমি সেই দেহলিজ সহযোগীদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই । শুধু দিল্লি নয়, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, হাওড়া, বাঁশদ্রোনী থেকেও আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, ধন্যবাদ জানাই সেইসব লেখক ও কবিদের ।    এই সংখ্যায় কিছু নতুন টেমপ্লেট নেওয়া হলো । ডেস্কটপ ও মোবাইল থিম আলাদা করা হয়েছে । নতুন করে সাজানো হয়েছে মেনু লিংক । অটোমেশন করা হয়েছে । সংখ্যায় বৈচিত্র নিয়ে কিছু কাজ করা হলো । কবিতা ছাড়াও রাখা হলো মুক্তগদ্য, অনূদিত নাটক, বই রিভিউ, স্মৃতিচারনা ও ছোট হল্প । আর একটি বিষয় নিয়ে এই প্রথম কাজ করা হলো সেটা হলো - কবিতা ও চিত্রকলার মিলনসংহার । ৬ জন কবির কবিতাকে উডকাট ব্লাক এন্ড হো