Skip to main content

Posts

Showing posts from April, 2018

প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত

কবিতার কোন দিন নেইপ্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
তুমি যে বলছো
আজকে দিনটা কবিতার
তবে কেন আমি
প্রত্যহ দেখি ছবি তার?

ধমকে বলেছো
শোনো হে, দিনটা পদ্যের
বোকা কালিদাস
আমিও মন্ত্রমুগ্ধের -

মত কেটে যাই
ডালপালা যত ভাবনার
অক্ষরে বাঁচি, মরি
কি বা যায় আসে তার,

জিতবে তুমিই
শানানো যুক্তি, তর্কে
আমি পরাজিত
নিচেই থাকবো, স্বর্গের

আহা, তাও ভাল
সে স্বর্গসুখ তৃপ্তির -
জ্বলে আর নেভে
অনন্তময় দীপ্তির

মত জেগে থাকা
ঘুমের আড়ালে পদ্য
দু এক কলম
লিখেই ফেলেছি, সদ্য

তবুও বলবে
আজকে দিনটা কবিতার
কেন যে বোঝো না
আমিই যে তার...সবই তা!


উচ্চতা
অবশেষে, আমি পৌছালাম সেখানে
আর ভীষন ভয় পেলাম -

আমার শহরের নাগরিকেরা, শোনো!
কী ভয়ঙ্কর এই স্থান
যেখানে শহরের সমস্ত সিঁড়ি একত্রিত হয়ে
করেছে যে উচ্চতার নির্মাণ

সেখানে কেউ থাকেনা...

~
হিন্দী কবি কেদারনাথ সিং'র (১৯৩৪-২০১৮) কবিতা 'উঁচাই' এর অনুবাদ।

পিতৃব্য
জানি, কখনো সে অর্থে বন্ধুত্ব হয়নি আমাদের।
জানি, কখনো মনে রাখতে পারিনি তোমার জন্মদিন...
জানি, রয়েছে দুটো মানুষের মধ্যে এক পৃথিবী ফারাক
জানি, কখনো জানতে চাইনি 'ভালো আছো' কিনা,

তবুও তুমি শিখিয়েছ হাত ধরে সাদা-কালোর তফাত
তবুও তুমি রেখেছ পিঠে হাত, সমস্ত ব্যার্থতার পরেও-
টেনেছ …

नीलम शर्मा

कवितानीलम शर्मा 'अंशु'
1)
खुद को कभी अकेला मत समझो
अब तुम अकेले नहीं हो
पुष्य, भानु, रुद्र और हम हैं न।
जब भी लगें अंधियारे बादल घिरते से
प्रकाशमय हो उठेगा सारा आलम।

कैसे कोई खुद को अकेला न माने
जब इस धरती पर क़दम रखता है
और कूच करता है तब भी
अकेली नन्हीं सी जान होता है आदमी।

दुनिया के इस मज़मे में
सबके होते हुए भी तन्हा,
अकेला सा ही होता है आदमी।
प्यारा सा बचपन जब जाता है छूट पीछे
मंज़िल की तलाश में बढ़ते हुए
पाता है खुद को अकेला ही आदमी।

सैंकड़ों की भीड़ में हर पल
चेहरे पर मुस्कान लपेटे
सबकी नज़रों को झुठलाते
भीतर ही भीतर कितना तन्हा, अकेला
कैसे कर सकता है इन्कार
भला इस बात से आदमी।

उंगली पकड़ मार्ग पर चलना तो
कोई न कोई सिखा देता है पर
कोई भी ताउम्र साथ नहीं चलता
सफ़र तो अकेले ही तय करता है आदमी
ज़िंदगी के संघर्ष और चुनौतियों से
खुद ही पार पाता है आदमी।



तभी तो शायद ऐकला चौलो रे
कहा था बरसों पहले बाबू रवि ने।
अब इससे बिलकुल इतर
हम तुम्हारे साथ हैं कहा दद्दा ने।

ऐसे में जब साया भी न देता हो साथ
कहना तो दूर सोचने की भी
न हो फुर्सत जहां मानस में
ये जज़्बा पर्याप्त है देता हुआ संबल सा
मानो एक अभिभावकीय हाथ हो साथ
लिए…

সোনালী মিত্র

পিস্তল সিরিজসোনালী মিত্র
বালি দিয়ে পরজন্ম বাঁধা । আর একটা অন্তরঙ্গ ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ।
সমস্ত চুমুগুলো রিলমাস্টারের ব্যাগে । অর্থাৎ তিনিই চুম্বনের দেবতা !
#
আর ওই ফোঁসফোঁস , অষ্টবক্র , মদ্দা ঢেমনাসাপ , নীলসাপ
তোবড়ানো গালের অগস্ত্য তবু গিলে নিচ্ছে লোলুপবিষ ।
শরীর থেকে ঘাম ঝরে গেলে , দেহকে চেনে না দেহ
আর মরতে চাইছে না কুলিকামিন , চটচটে আঠা তখন ঘামে
#
বেহেস্ত চেয়ে চক্রবৃদ্ধি হচ্ছে লোভ । আর একটা বহুরঙ্গ ব্যাঙ্কের
দিকে আফ্রোদিতির মতো । পিস্তল এ-কে সিরিজ নিয়ে লুকিয়ে পড়ছে ।
#
স্নান সেরে উঠে আসছে ,মধুস্তন । বোঁটা পোড়াধান , কালো ।
সর্বনাশ খাতায়-কলমে লিখে ফাঁসি চাইছে একটা শব্দের ফাঁসি
জরায়ুমাটি আমার,কাঙালবিদায় ভঙ্গীতে পিল গিলে জিরো - ওগো জিরো
জিও সিমে হোয়াটস আপ - কল্লোলিনী নাভিভ্রুম দেখ ।
#
তিনরাস্তায় ট্র্যাফিক নিভে পাগল ও কুকুরের খেওখেয়ি -ডাস্টবিন ।
বিধি বাম হচ্ছে , দাবানল খিদে বেঁয়ে সুড়ুত টানছে গাঁজা , মেয়েটিকেও
কম যাবে না - যদিও পাবে না সোনারখাট ।
খ্যাতি এস শব্দে , বউবউ খেলি - শব্দের ধর্ষক জানবে না কেউ ।
তো বোলো ওম শান্তি ওম শান্তি শান্তি ওম


মুদ্রারাক্ষস
পুরনো পয়সা জমিয়ে নিজেকে রাজা সাজাবার
বাবার এক অদ্…

অঞ্জন কাঞ্জিলাল

কবিতাঅঞ্জন কাঞ্জিলাল
১।

মনের ঠিক মধ্যিখানে হয় প্রেম -
নয় চূড়ান্ত বিচ্ছেদ, কিছু তো একটা হতেই হবে।
দুগালে টুপিয়ে পড়া জল-
অথবা হঠাৎ শান্ত কোলাহল!
মুখের বাইরে ভিজিয়ে দেওয়া ঠোঁট ,
নয় জীবনের ওলটপালট-
কিছু তো একটা হতেই হবে,
তবেই জেনো নতুন কবিতা জন্ম নেবে ।

২।

সব ভুলেছি তোমায় ছাড়া, উপায় নেই।
স্বপ্ন গুলো হারিয়ে গেল ভাবনাতেই।
ভীড় বাসেতে উঠতে এখন ভয় লাগে,
ব্যস্ত সবাই, কে পালাবে কার আগে!
মধ্যরাতে তোমার জন্য কান্না পায়।
ভালোবাসার মানুষগুলো কলকাতায়।

৩।

চোখ বুঝে নিক চোখের ভাষা
আঙুল বুঝুক হাতের মন।
কোথাও কারো হৃদয় ভাঙে
কেউ কেঁদে নেয় কিছুক্ষণ।

৪।

আজকে রাতের অন্ধকারে
গান থামালো মাঝি।
 শান্ত নদী, সুর তুলে কয়-
বাসলে ভালো বুঝি?
আমার চোখে হেমন্ত রাত
আমার চোখে নীল।
তোমার বুকের দুমুখে ঢেউ-
তোমার ঘরে খিল।
 আমার হাতে তোমার আঁচল,
তোমার হাতে বই।
সেই বইতেও রবীন্দ্রনাথ
আমার কথা নেই!

৫।

এ এক রক্তাক্ত পথ।
যে পথে শিল্প এঁকে বেঁকে চলে।
এ এক শব্দদূষণ।
যেখানে হাসির হাহাকার শোনা যায়।
তুমি যদি শুধু পয়সা চাও
তোমার পথ ও শপথ দুটোই খোলা।
যদি হাততালি চাও।
তবে তুমি মূর্খ, তুমি তালিবান।
তোমার হরস্কোপ প্রত্যেকের ডিনার টেবিলে।

৬।

থাক না তোমার ভালবাসার কথা।
আকাশ এখন মেঘেতে ভরপু…

অঞ্জলি সেনগুপ্ত

প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর’অঞ্জলি সেনগুপ্ত 
মধ্য রজনীর দুয়ার মুখ খোলে অবুঝ শীৎকারে
উঠে এলো বিমূর্ত বাসনা কার ? অপরূপ রমণী ,
সঙ্গে জ্ঞানদাস । আনত রূপদগ্ধ  , নিদারুণ
মন্মথ বাণ,  মুহুর্মুহু উন্মত্ত রমণেচ্ছা
প্রতি অঙ্গ লাগি  প্রতি অঙ্গের ক্রন্দন বিবসা । 

আত্মক্রীড় আত্মরামে  অকাম রিরংসা
উন্মত্ত মধুকর ,  হেঁটে যায় অদৃশ্য মায়াতরঙ্গে
 শ্যাম চিত্ত মোহিনী রাধিকা  ।
বাসনাবিন্দুর  ঘননাদে ব্যাকুল জলজ স্থির আর্তনাদ
ঊরুমূলে , মণিবন্ধে আঙুলের দশম যন্ত্রণার
অবরুদ্ধ ক্রদন , শৃঙ্গার কথার নিবৃত্তি সংবাদ ।

যতি ন্যাসী কাঁপে ব্যোম নাদে , -সোহম বৃষ্টি
ঝরে শস্যের বারমাস্যে , বাউল একতারায়
বাঁধে আউলিয়া সুর –‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’

প্রতি অঙ্গে  আর্তনাদের তীব্র কামড়  ,
              তর্জনী বৃদ্ধা অনামিকা
কনিষ্ঠা মধ্যমার পঞ্চমে বাজে বাঁশি সন্মোহিণী
 পৃষ্ঠ স্পর্শের দহন জ্বালা , কাঁহা বাঁকা বেণুকরী  !
এসো নাভিতে ডুবাও নাভি , কেঁপে উঠুক ভুধর
চেতনার চৈতন্য নামাও জলে স্থলে অন্তরিক্ষে 
সহস্রার ডঙ্কা ডমরু , আন্দারভেদি কুয়াশা শরীর
মাগে পরাপ্রীতি ! যোগ বিষামৃত

কবি জ্ঞানদাস পিরীতি আকর মালায় রূপের পাথারে ভরিল
আঁখি, রামীর উরুসন্ধি মূলে…

মুন্সী মহম্মদ ইউনুস

নিশি পুরানমুন্সী মহম্মদ ইউনুস
১।
নিশি পাওয়া মানুষের মতো পথ হাঁটি।
পায়ের বাঁকা পাতা কেবলই উল্টো দিকে ঠেলে।
এ কোন সাধনা শেখালে সাঁই?
রক্তমাখা শব মাড়িয়ে মাড়িয়ে ...
এমন রাজপথতো চাইনি।
সংবিধানের শপথ অক্ষরের দলমাত্র,
মানুষের রক্ত যখন পশুমাংসের চেয়ে শস্তা।

২।
সুখ আর শিশ্নের সম্পর্ক
যেমত তোমার ও আমার।
সুখের সন্ধানে তোমার আস্ফালন
আমার নিয়ত ধর্ষণ...।

৩।
দোল পূর্ণিমার রাতে, কথা ছিল
ভালোবাসার বৃষ্টিতে ভিজবো দুজনে
কথা ছিলো, বসন্তের রঙ হয়ে
আলো দিবো, জল দিবো
আজ তারাখসা ছাই জমে আছে
ফ্লাটের আনাচে – কানাচে।

সৌরাংশু

সম্পর্কের গল্পসৌরাংশু
বল পালাই কোথা দেশে আর থাকা চলে না…
এই গানটায় একটা লাইন ছিল না? সম্পর্ক টম্পর্ক পাতালে পরে ইত্যাদি। তা সম্পর্কটা কি? এবং কতপ্রকার?  আগে প্রকারান্তর করি তারপর নাহয় সজ্ঞানে সংজ্ঞা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করব। সম্পর্ক চার প্রকারঃ
১) জন্মসূত্রঃ বাপ, মা, ধর্ম, জীন, ভাই বোন, খুল্লতাত, পিসতুতো দাদা- এইসব সম্পর্ক জন্মের নাড়ি ধরেই চলে আসে চাইলেও কাটানো যায় না। আর চাইবেনই বা কেন? Already established ব্যাপার স্যাপার রয়েছে, সেখানে আমার মাথা তোমার মুণ্ডু বলে নেচে কুঁদে কি বিপ্লবটা হবে শুনি?
২) কর্মসুত্রঃ এর মধ্যে বন্ধু বান্ধবী, না না না না বল boyfriend, girlfriend সব চলতা হ্যায়। পথচলতি সহযাত্রীর সঙ্গেও তো একটা সুন্দর বোঝাপড়া তৈরী হয়। এই সূত্রের ভালো দিক হলো দড়ি টানা টানি কম।ভালো থাকলে ভালো, নইলে মানে মানে কেটে পড় বাছা। সময় নষ্ট করার মত সময় কোথা?
৩) ধর্মসূত্রঃ এটা কখনও কখনও ২ নম্বরের পরের ধাপ, এবং বেশ জটিল। এ সম্পর্কে “ত্বমসি মম জীবনং…” বলে বুলি কপচানোও আছে আবার খেরোর খাতায় প্রমাণ রাখার গল্পও আছে, এটাও যদি মনে হয় তাহলে ছিঁড়ে ফেলাও যায় তবে কি না সমাজ এবং বিবেক ইত্যাদি রূপোলী পরত চড়িয়ে একটু মজব…

চঞ্চল ভট্টাচার্য

একটি কাল্পনিক কথোপকথনচঞ্চল ভট্টাচার্য
আচ্ছা, হঠাৎ এমন করে চলে গেলে যে,
চা জুড়িয়ে জল হয়ে গেল।
হুম্ম, একটা ফোন এসেছিল, দরকারি।
উফফ, কিসের যে এত দরকার মানুষের?
বুঝিনা বাপু।
তোমায় একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
শ্যামনগরের ছেলেটি কেন অমন করে চাইল?
মনে হচ্ছিল, মাথা ভেঙে ফেলি।
আচ্ছা,  তাই নাকি?
তবে তো আমিও বলতে পারি
পাটুলির মহিলার কথা, উফফ, কি ন্যাকা!
কেমন ঢলে ঢলে পড়ছিল তোমার গায়ে?
যা বাব্বা, সে আবার কে?
জানা আছে, সব পুরুষ ই সমান।


অদর্শন

ঠিক তিনদিন তোমার জন্য
কিচ্ছু লিখিনি।
জানো, লেখা আসছে না,
আচ্ছা, কেন বলো তো?
এটা কি এই জন্য
কতদিন তোমার কপালের
মস্ত টিপ দেখিনি?
আলতো হাতে সরাইনি
তোমার এলে পড়া চুল?
তুমি স্নান সারার পর
তোমার মাথা থেকে
একটা অদ্ভুত গন্ধ বের হয়,
কি যে মাদকতা তাতে
উফফ, সত্যি,
বলে বোঝাতে পারব না।
এই শোনো, তুমি কি গতকাল
সেই নীল শাড়িটি পরেছিলে?
অদ্ভুত সুগন্ধী মেখে
গালে হাত দিয়ে
তাকিয়েছিলে ওই দুরের আকাশে?
তোমায় কতদিন দেখিনি,
খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।

কবিতার জন্য
শুধু কবিতার জন্য
অনায়াসে প্রত্যাখ্যান করতে পারি অমরত্ব,
কবিতাকে ভালোবেসেই
হাতে তুলে নিতে পারি গান্ডীব,
কবিতাকে ভেবেই,
পেরিয়ে যেতে পারি
গোবি মরুভুমি বা কারাকোরাম পর্বত।
শুধু কবিতার কথা…

মৌমিতা মিত্র

তারকোভস্কির ঘরবাড়ি মৌমিতা মিত্র
‘ছ্যাঁকা’ থেকে ছ্যাঁক মুছে যাবার পর যে ‘আ--হ’  জুড়ুনিটা আসে-বিয়ে,আনকোরা প্যাকেটে মোড়া স্বামীর হাত ধরে কলকাতা থেকে উত্তর ভারতের ঝাঁ চকচকে মলমোহিত শহরটিতে জুড়ে বসার পর সেই জুড়ুনি এল মনে। হাঁফ ছাড়লাম। সঙ্গে খানিকটা জলচোখ। একটা আস্ত কলকাতাকে উদোম রেখে এক ঘোমটায় গাঁওনি’ হয়ে গেলাম। কেবল বড় বড় মোটা মোটা ভি আই পি তে ‘ক’ এর শুঁড় ‘ল’এর লকলক, ‘কা’ এ কান্না। ‘তা’ এ তারকোভস্কি।
আমার পাগল দুই বন্ধু, যাদের সঙ্গে একটা এগরোলের সাড়ে তেত্রিশ শতাংশ সাবাড় করতাম দেশপ্রিয়র  ফুটে আর  আকাশ আমাদের দিকে চেয়ে ভাবত কবে শালা এদের পায়ে গড়াগড়ি খাব সেই ছন্ন ছিন্ন মস্তানদের থেকে  বিয়েতে উপহার পাওয়া  ‘তারকোভস্কির ঘরবাড়ি’ তে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লাম।   
একটা পাগলাঝোরা আতঙ্ক শিয়র উত্তেজনা গোধূলির গলগল জোনাক-ঝমঝম
        ছোটবেলা থেকেই এমনি সৃষ্টিছাড়া আমার মন- কেমনের সংসার। ছোট টিফিনের পর সবাই কেমন মন দিয়ে গোরু- মোষ খেদিয়ে বেড়াত, আমি কেবল হেড ডাউন করে ছোট মাঠটার উপর মশারির মত মেঘের ঝুলে পড়া দেখতাম, ঘাসেদের ঘনত্ব মাপতাম। আলোর  সংসার কেমন গুটিয়ে  ছোট হয়ে আসত। ঘাসগুলো আকাশের দাঁড়ি।  বড় টিফিনে সবাই যখন কান…

রীতা বিশ্বাস পাণ্ডে

সব অতীত রীতা বিশ্বাস পাণ্ডে
কক্ষচ্যুত শোনায়, শব্দ বিয়োগ
অথচ
তাঁদের মাথায় শিরোনামা।
হুমম
শব্দগুলো ধীরে ধীরে ভূগর্ভস্থ

রক্তবর্ণ স্কার্ফ ও কাল ব্লেজার
কুলীন নারী
অণুর বাগান একটি উজ্জ্বল হলে রূপান্তর
ফ্যাকাসে চাহনি
রাতের উড়ন্ত পাখী
উথাল মাতাল শব্দ চয়ন
আর
শব্দ বিয়োগ



রামুআ
গঙ্গা পারের মন্দির টা তে রামুআর বাস।
যাত্রীদের প্রসাদ বিতরণ ই তার কাজ।
মাকে দেখেনি কো সে কোনদিন।
কিন্তু কন্যা অন্ত প্রাণ তার কন্যাতেই তার বাস।
উচ্ছল চঞ্চল কন্যা অরিত্রি।
বুঝে সে যে বাবার দু:খ তাই তৎপর সদাই।
হাঁসিতে গানেতে মিটিয়ে দেয় সে যাত্রী দের থকান।
আঁচল মেলে ধরে একাট্টা করে নেয় টাকা আর কিছু পয়সা।এটা তার রোজকার কাজ।
রামুআ মেয়ের পয়সাতে দেয় নাকো হাত। একটা গুল্লকে সে ভরে দেয় বেটি অরিত্রির কামানো পয়সা। মনে আশা একদিন বিটিয়ার শাদি তে লাগিবেক এই পয়সা।
কিন্তু.... কিন্তু সারাদিন গিয়ে বিকাল হল, অরিত্রি ফেরেনি কো রামুআর খেয়াল হল।
সকালে বেরিয়েছিল মেয়েটা কিছু না খেয়ে।,
মন্দিরেতে বিশাল ভোজ আজ সেটা ই খাবে বলে।
ভোজ বিতরণ কালে সে দেখেনিকো মেয়েকে। বিকাল গড়িয়ে রাত হল মেয়ে না ফিরিল।
তারপর..... তারপর কতো রাত গেল দিন গেল তার হিসাব নাই। গুল্লকের পয়সা গুল্লকেই থেকে যা…

শিবানী শর্মা

সারপ্রাইজশিবানী শর্মা
সুচিত্রা বোর্ডিং পাস নিয়ে, লাউঞ্জে বসতেই সামনের ডিসপ্লে বোর্ডে দেখল, দিল্লীর ফ্লাইট দু ঘণ্টা দেরীতে।  সঙ্গে সঙ্গে একটা বিরক্তি ঘাড় বেয়ে উঠলো। দু ঘণ্টা সময় কাটানো বড্ড বোরিং আর তাছাড়া আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরা খুব জরুরী। আজ তার বুচানের জন্মদিন। হোটেল, কনফারেন্স, ডিনার, গত কাল সারাদিনে একদম সময় পায়নি, তবুও তার মধ্যে বুচানের জন্য একটা গিফট কিনতে পেরেছে... একটা বেশ দামী আই-ফোন।  এখন মাত্র এগারোটা বাজে, একটার সময় টেক অফ করলেও, চারটে অবধি বাড়ি ফেরা যেতে পারে । সুচিত্রা এবার উঠে গিয়ে কফি কিনে আনল। হাতে বিশেষ কোন লাগেজ নেই, তাই ঘোরা ফেরা সুবিধে। স্বামী মারা যাবার পর, সুচিত্রা নীচের তলায় থাকে, একলা নিজের মতন। ওপরের তলায় ছেলে বউ আর তার নাতি । উপরের আলাদা সিঁড়ি, ওরা ওঠা নামা করে, থাকে নিজের মতো ।কথাবার্তা কমই হয়। সুচিত্রা অর্থনীতির প্রফেসর, এখন বয়স হয়েছে, সপ্তাহে শুধু দুদিন ইউনিভার্সিটিতে পড়ায়। কিছুটা সময়টা বই লেখা, মাঝে মাঝে এই রকম এক আধটা কনফারেন্স আর বাকী সময়টা কাটে বুচান কে নিয়ে। বুচানই এখন তার সবচেয়ে বড় বন্ধু। এবার দশ বছরের হল বুচান। আজকালকার বাচ্চা, ভীষণ সপ্রতিভ, ওদের খুশি…

রেখা নাথ

অস্তিত্ব রেখা নাথ     
হাজার হাততালি পেয়ে
ভাবছ বুঝি আবিশ্ব
মানুষকে খুশী করার
অসম্ভব প্রয়াসে
         জয়ী তুমি !
বুকের মাঝে ডুবে দেখো
মিথ্যে প্রশস্তি ও স্তোক বাক্যের
চোরাবালিতে ডুবে
আছো আকণ্ঠ তুমি !

হাজার হাততালি
হাজার বার পাওয়ার আশায়
হাজার লোকের হাজার বায়না
হাজার কষ্ট সয়ে
মেনে নেওয়ার অসম্ভব প্রয়াসে
নিয়ত আত্মপ্রসাদের হাসি
মুখে ঝুলিয়ে ছুটছো
         দিগ্বিদিক্ ।

হায়!হাজার হাততালির আশায়
তোমার হাজার খণ্ড
লুটোয়nহাজার পায়ের তলায়
তোমার হাজার খন্দ
ধুলোয় লুটোয়
দ্যুতি হীন আলোহীন
কোথায় তুমি ?
কোথাও যে তোমার
আভাস নেই !


বোধ
যে বুকে সোঁদা গন্ধ
নিয়েnসরল বিশ্বাসে
মুখের কথাকে
প্রাণের কথা ভেবে
উচ্ছ্বাসিত হয়ে ওঠে
ঠোক্কর খেতে খেতে
বুঝে যায় সে
মুখের কথা কেবলই
কথার কথা
প্রাণের কথা নয় ।


স্বাতী নাথ

আলোস্বাতী  নাথ
পিত্থিবীট কত বড় হে
           কত্ত রকম মানুষ জন
ভালো মাইনষের অভাব বড়
             তুমহি যে তার একজন

লাল পাহাড়ির ম্যায়ে আমি
              মুখ্যু সুখ্যু মানুষ আছিই
এই পাহাড় টর বাইরে আমি
               লাই জাইনতম কিছুই

চৈত ফাগুনের উদমা হাওয়ায়
                রদের ত্যাজে মাটী  খরায়
লাচে লাচে লাল ধুলাট
                  গ্যায়ে পড়ে সুহাগ জানায়

ভাদর মাসে জলের দিনে
                   ধান বুনি সারাট দিন
বাকি সময় মাটী কাটি
                    ইঁট বইয়ে দিন গুজারি

ম্যায়া মরদ নুনু বুড়হা
                   কাম ছাড়া কেউ থাকতে লারে
পান্তা ভাতে প্যাট ভরায়ে
                   টুটি ভিজাই মহুল রসে

কাইটছিল দিন এমনি ভাবই
                   বাঘমুন্ডির পাহাড় খানে
আইলে তুমি দিদিমুনি
                    জ্ঞানের আলো জ্বালাই দিতে

বইদল্যে দিল্যে সকল কিছু
                   দেখলম তুমহার চখে দুনিয়াট
কত্ত কিছু জানার আছে
                   বুঝাই দিল্যে তুমি সিট

মানুষ হামরাও ----
                    সিটাই তুমহি শিখহাই দিল্যে
মাইনব না আর চখ রাঙানী
                     বড়লোক  ওই বাবুদিগের

হামরা খাইটে চাষ করি
                      আর উরা ভ…

বিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্য

মৃত্যুঞ্জয়ী বিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্য
মৃত্যু ই মৃত্যুঞ্জয়ী । নতুন জীবনের জনক ।
গ্রীষ্মে গলে যায় হিমবাহ ।
শীর্ণ কায়া ঝর্ণা গুলি হয়ে ওঠে উচ্ছল । আনন্দিত ।
ছোট ছোট শুকনো পাতা গুলো পড়ছে টুপটাপ ।
হাওয়া তে দুলতে দুলতে যেন ব্যালেরিণা ।

মরে গিয়ে এরা বাড়াবে জমির জীবন শক্তি ।
গজাবে নতুন উদ্ভিদ । সবুজ ঘাস ।
দৃষ্টি শোভন ।

পূর্ণিমার চাঁদ ।কোমল ।শুভ্র ।সুগোল ।
কাল থেকে শুরু হবে ক্ষয় ।শেষ হবে অমাবস্যার রাতে ।

স্ত্রী ওঠেন প্রত্যূষে । সকাল সাতটা ।
মা কালীর সামনে জ্বলছে দীপশিখা ।
যখন যাব আমি স্নান সেরে
প্রদীপ যাবে নিভে ।
আবার জ্বলবে সন্ধ্যা আরতি র সময় ।

এই হলো জীবনের পাঁচালী ।
মৃত্যুর ও ।


ঘণ্টা বাজে 
ঘুম ভাঙল দেরিতে ।
  ঘড়িতে   সাতটা পঞ্চান্ন ।
হতেই পারে । শুয়েছি তিন টের পর ।
ঘুমের ওষুধ খেয়ে ।ডবল ডোজ ।
ডাক্তার বারণ করে ।শুনিনা ।
ঘুমটা ভেঙ্গে ও ভাঙ্গেনি l
এক ভঙ্গুর অস্তিত্ব ।
অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ
স্থান কাল পাত্র শব্দ মাত্র ।

হঠাৎই   মনে হলো  রাখাল দা ঘণ্টা বাজাচ্ছে । আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে । যেমন বাজাতেন ষাট বছর আগে ।

ঢং ঢং ঢং । ঠিক তিন বার ।
জানান দেওয়া । ক্লাসে যাও ।
ঘড়িতে নটা পঞ্চান্ন ।
পঁয়তাল্লিশ মিনিট পর আবার বাজবে ঘণ্টা ।
এবার শুধ…

শবরী রায়

কাঁচিশবরী রায়
সন্ধেবেলায় কেউ এমন চুল খুলে রাখে নাকি?  চুলটা বাঁধ।' শাঁখ বাজানোর ফাঁকে বলে নতুনদিদা। বেজার মুখে জোরে জোরে চুলে চিরুনি চালায় রিনি। ' ও কিরে, সব চুল ছিঁড়ে ফেলবি নাকি? আস্তে...  আস্তে ' বলে হাত থেকে চিরুনিটা নিয়ে কাছে টানে মঞ্জুপিসি। নীলডুংরি গ্রামে হুজুর পীরের মেলায় যান ভক্তিমতি দিদা। সঙ্গে রিনি। ফেরার পথে দিদার বান্ধবী জুলেখা দাদির বাড়ি। দাদির নাতনী জাহানারা রিনির খেলার সঙ্গিনী। দাদি নিজের হাতে বছরে একবার রিনি, জাহানারাকে সুন্দর ফ্রক বানিয়ে উপহার দেন। লাল রেশমের কাপড় মাপ করে কাটছিলেন একটা বড় ধারালো চকচকে কাঁচিতে। সন্ধ্যেবেলা বিশাল বাড়িটার এঘরে ওঘরে ওরা লুকোচুরি খেলে। আরজুআপা, মকবুলভাই তার বন্ধু অলক সবাই লুকোচুরির শিল্পী। খেলার শেষে সিমুই খায় সবাই মিলে। দাদি চিবুক তুলে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মুখ দেখেন শ্যামাঙ্গী রিনির। বলেন, তাকা.. আমার চোখে তাকিয়ে থাক। পলক ফেলবিনা। এই দ্যাখো পলক ফেলে। এই মাইয়া মানুষ মারবে। দাদি হাসেন হা হা করে। দ্যাখ, অর চোখ দ্যাখ।  মকবুলের চাচা আকরামুজ্জামান এসে দাঁড়ায়। কই দেখি, দেখি। বিরক্ত রিনি মুখ নীচু করে সিমুই খায়। চুলগুলো ঘামে পুরো ভিজে গেছে বলে…

অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়

এনকাউন্টারঅরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
এই শহরের গঙ্গার পাড়ে রাস্তাটা নদী বরাবর ঢালু হয়ে নিচের দিকে নেমে গেছে। পথটা জলের সাথে গলা জড়াজড়ি করে মিশে। ডানদিকে ফেরিঘাট। কাঠের জেটিতে মানুষ চলাচল করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। জেটিটা বেশ পুরনো। তাই মানুষের ভারে মাঝে মাঝে ক্যাঁচ কোঁচ করে আর্তনাদ করে। বাঁ দিকে উঁচু পাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে ল্যাটা নিতাই। চেহারাটার জন্য ওর আর একটা নাম আছে, ছিবড়ে। কুচকুচে কালো পাকানো শক্ত শরীরে শিরাগুলো উঁচু হয়ে জেগে থেকে তাদের অস্তিত্ব প্রকট করে তুলেছে। নিতাইয়ের মাথায় একরাশ লম্বা চুল, রোজ খুব যত্ন  নিয়ে সাবান ঘষে। কিন্তু ওর মুখমণ্ডল এত কদর্য যে বেশিক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থাকা মুশকিল। গালের হনু দুটো বাইরের দিকে ঠেলে এসেছে, সারা মুখ আঁচিলে ভর্তি।  সকাল বেলায় গঙ্গার পাড়ে হাওয়া বড় মিষ্টি। উঁচু পাড়ের একদম ধার ঘেঁসে দাঁড়িয়ে দাঁতন ঘষতে ঘষতে নিচে মেয়ে বউদের স্নানের দৃশ্য উপভোগ করছে নিতাই। সবে চৈত্র পার হয়ে বৈশাখ মাস। এ সময় গঙ্গা স্নানের হিড়িক পড়ে যায়। কাপড়ের টানা আড়াল দিয়ে সবাই ঝটতি পরনের কাপড় বদল করছে। উপরে দাঁড়িয়ে নিষিদ্ধ দৃশ্য দেখতে নিতাইয়ের কোন বাধা নেই।  নিতাইয়ের ঠিক পিছনে আছে এ শহরের জল …

সুতপা ঘোষ দস্তিদার

সিনিয়র সিটিজেনসুতপা ঘোষ দস্তিদার
পৃথিবীর পুরনো বাসিন্দারা
নির্বিবাদী নিষ্পাপ
ঠিকানা হারাচ্ছে তাদের।
আমি নগরী বিভঙ্গে মজে
ভাজ করে বুক পকেটে
বেদনা যত সৃষ্টিজাত
চেয়ে চেয়ে দেখি আড়চোখে--
পৃথিবীর পুরনো বাসিন্দারা ঠিকানা
হারাচ্ছে ক্রমে

প্রাকজ্যোতিষ ফুলেরাও বেমানান বড় এ সময়ে
উচ্চকিত বর্ণ সমাহারে
আলোকশূন্য জনপদ চাঁদ হাতড়ে
খুঁজে খুঁজে ফেরে তার
জীবনের মানে।
বিন্দু জমে সিন্ধু, ময়লা জমে
পাহাড়
দুঃখ জমে লাভা হবে কবে?
ভিসুভিয়াস ফের পোড়াবে নগরী
দাউ দাউ জ্বালাবে আমাকে।

ছোটবেলা

কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ছিল ও
কাছাকাছিই থাকে,   সেদিন
পাশে চলে এসেছিল
আমাকে নিঝুম দেখে
টবে জবা গাছটা
ঠিক কোথায় যে অসুখ
বুঝি না   কেবল দেখি শুকিয়ে যাচ্ছে
ওটার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম
অপলক   
আর ডুবে যাচ্ছিলাম নিজের মধ্যে
ও এসে হাত ধরে
যাবি সেখানে? চল না দেখে আসবি
 ছুঁয়ে ছুঁয়ে কথা বলে আসবি
এড়াতে পারিনি, বরং বলা ভাল
 ঠকাতে চাই নি নিজেকে
সেই উঠোন, পেয়ারা গাছ,
আমাকে চেনে শিকড় থেকে মগডাল
পুরনো বাসিন্দার নিশ্বাসে
আহ্লাদী বাতাস ছুঁয়ে যায় রোমকূপ
আমি আর আমার এক্কাদোক্কা ছোটবেলা
 হাত ধরাধরি কিন্তু কোথায়
সব যে উধাও, মস্ত উঠোন
খেলার মাঠ, কড়িবর্গা,রান্নাঘর
কিচ্ছুটি নেই
ও বলল ,হ্যাঁ নেই, তবুও আছে
ছুট…

মোনালি রায়

: যম না : মোনালি রায়
কাম না

তুই ছুটছিস, সাকেত থেকে সিরি ফোর্ট, নাংলোই থেকে নয়ডা
কিচ্ছু ছাড়ছিস না
মিনার, বাহার, সৌধ, সমাধি, নামাজ, আজান, চালিসা, চতুর্বিশা
গিলে ফেলছিস মেট্রো ওলা শেয়ারড সিটি ম্যাপ
তোকে গিলে ফেলছে অ্যান্টিবায়োটিক সাপ
এ মুখে গিলে ওমুখে আঁচিয়ে আবার গেলা
তোরা বাংলায় চলমান ৪ হয়ে এই ওগরানোর খেলা খেলেই চলেছিস
আর উন্মত্ত অশান্ত পরিত্যক্ত কামজল ভিজিয়ে দিচ্ছে গোটা শহর


না দিল

তুই এ শহরে থাকিস না। এখানকার হালহকিকত  জানিস না।
এখানে অর্ধ নরমুন্ড কয়েক'শ অ্যান্টেনা আর হেডফোন বসে থাকে।
টুটা ফুটা হাত, আধলা পায়ে গাদা গাদা পেরিস্কোপ, ফাঁপা টায়ার
বাকি যন্ত্র অদলে বদলে কৌন হম কৌন তুম
কার ঘাড়ে কে
অত জটিলতায় যাস না।

এ শহর বুক চিতিয়ে, জান লড়িয়ে জুঁই চিবুচ্ছে এখন তোর জন্য।



মেঘ না

স্ট্রিট ল্যাম্পের হলুদ ত্যারছা আলো মিইয়ে পড়া চাঁদকে তাড়িয়ে দিয়েছে স্কাই স্ক্র‍্যাপারের ওই পারে। জোনাকি লেহেঙ্গা সি থ্রু শিফন। কফিশপ, পাব, ডান্সবার ডিজাইনার আকাশ জুড়ে তারাদের মুড অকেশন বুঝে গোলাপি, বেগুনি, সবুজ, হাল্কা নীল। অনেক অনেক চাঁদ স্বেচ্ছায় রাতের রাস্তায় নেমে গড়াগড়ি খায়, মরে। জানি তোর রোমকূপে তাক লেগে যায়! যত বড় মেট্রো, তত বড় ঘ…

অমিত গোস্বামী

সার্থকতাঅমিত গোস্বামী
রোদছায়া দ্বীপ থেকে এনেছি পানীয়,
স্ফুরিত বর্ণালী ধৃত স্ফটিক পাত্রে,
কী জানি কী স্বপ্ন নিয়ে কঠিন পাথরে,
আকূল চাতক ডাকে তপ্ত বৈশাখে।

আকাশ তুলেছে মাথা গেঁথে নিয়ে চাঁদ,
ঝরেছে আলোর থেকে ফোঁটাফোঁটা মোম,
আমারও শরীর ছিল? কখনো ভাবি নি,
চিতাকাঠ পুড়ে ভাসে পিতার আসন।

রোদের নরম আমি ভাসিয়ে রেখেছি,
কে সেই ব্রতের হোমে ঢেলেছে জহর!
যে পাত্রে রয়েছে মদ, বাস্প, আরক,
আগুন...আগুন জ্বালো প্রথম অক্ষর।

কারো মুখ স্মৃতি ঠেলে ওঠে নি প্রদীপে!
দেহের ভিতরে রাখা আঁকাবাঁকা গলি,
কার কাছে যাই বলো? আলোর গোলকে,
'ভালবাসি' আমি আর কার কাছে বলি!

শরীর প্রান্তে নামে অযাচিত ভোর,
স্নেহদাগ সার্থক ভরা বুক শুষে,
পান নয়, স্নান করি বৃন্তের টানে,
ছাপিয়ে জীবন মেশে গরম পীযুষে।




ভয় কেন?

ভয় কেন,চোখে চোখ রাখো হে ঈশ্বর, সকলকে ডাকো,
বালির বিবর খুঁজে আটকেছো জল
এখন কি চাই? পেরোবার সাঁকো?

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আমাকে রক্ত দিতে হবে আগে? কেন?
সত্যের ঘোড়াকে তুমি দেখেছ বেড়াতে?
মৃত্যু কি আয়ত্তে আসে নি এখনো?

কিছু প্রেম হারানো, ছড়ানো, কিছু প্রেম তামাদি হয়েছে,
ব্যাকুল উন্মাদ রক্ত কাকে দিয়ে যাব?
মেঘে মেঘে আজ বেলা বয়ে গেছে।

কে তাকে জড়িয়ে রেখেছে? এখন বলি না আমি পা…

সুব্রত ঘোষ

আর- এ- সি সুব্রত ঘোষ 
উপলব্ধিত ভুল আর অস্বস্তির পরত লাগা স্বাভিমানে
জড়িয়ে থাকে  ঘসা খাওয়া  ধাতব শীৎকার।
অনন্যোপায় মুখের সামনে পূতিগন্ধ মোজা-ঢাকা  পা
আবিল হাওয়ায় বিঘ্নিত শ্বাস -প্রশ্বাস ।
সমস্ত রাত ধরে চলে বহির্মুখী অন্নপ্রাশনের অন্নকে
রুখে  রাখার আপ্রাণ চেষ্টা । বাইরের
সশব্দ গতিশীলতাই বারবার ভেঙ্গে যায় কামরার
ভিতরের সুসুপ্ত  নিস্তব্ধতা।
রাতভোর আধো ঘুম আধো জাগরণে কেবল  এপাশ-ওপাশ
প্রতীক্ষিত সুনিদ্রার ক্ষমাহীন বিরুদ্ধতা নিদারুণ ।
এক যাত্রায় পর্দানশিন শয়নায়ন
             গবাক্ষের ধারে  বিনিদ্র
                                       শয়ন
এক রাতের আর-এ-সি বুকিং রেল যাত্রায়
সহাবস্থানের পরিহাস  নিষ্করুণ।

মোনালি রায়

মহ ইতি কাল মোনালি রায়
প্রতি সময়ে আমরা প্রত্যেকে কিছু খুঁজছি, আমাদের জানলাগুলো সরে সরে যাচ্ছে। লেন্সের রেঞ্জ, ফোকাল লেন্থ বদলে বদলে যাচ্ছে। আমরা হাতড়ে মরছি মরীচিকা, অবয়ব, অ্যাবস্ট্রাক্ট আইডিয়া। দেওয়াল শহরের প্রায় সবকটা ছোট বড় সমাধি বুকের হাড় হিম করে বসে থাকে, নিঝুম। উদোম মাঠ, ফুসফুসে যতদূর টেনে নেওয়া যায়, ততদূর আকাশ.... সবাই এক কথা বলে না, বিভেদের গল্প শোনায়। বিজ্ঞানীরা ল্যাবে গিনিপিগে যে ভেদ পায় না, সেই ভেদে মানুষ মারে মানুষ। লোভগুলো শেষরাতের চামচিকির মত ঝুলে থাকে ক্লান্ত লাল দেওয়ালে। মহাকাল দ্বাররক্ষী হতে গিয়ে হাঁপিয়ে মরে। এরকমই কোনও দেওয়ালের পেটের ভেতর মোমবাতি জ্বালিয়ে অপ্রেম খুঁজে মরে প্রেম..... হাজার প্রেমের মোমবাতি এক ফুঁয়ে নিভিয়ে সময় বলে " এরা সেইসব বেয়াক্কেলে প্রশ্নচিহ্ন যাদের কোনও উত্তর কোনও কালে মেলে না।" অপ্রেম ঘাড় উঁচু, উদ্ধত দাঁড়িয়ে..... " যদি প্রেম দিলে না প্রাণে! " মহাকাল তাচ্ছিল্য হেসে এক ফ্রেমে ধরে নেয় অপ্রেম.... " এইগুলি সেইসব উত্তর, যাদের প্রশ্নাবলী অনুচ্চারিত থেকে গেল! "
অন্যদিকে আরশি নগর নারসিবৃন্দে সরগরম। মহলে মহলে শীশ আশ্লেষে জড়িয়ে রাখ…

দিলীপ ফৌজদার

বিকীরণদিলীপ ফৌজদার

সময় পেরিয়ে যাওয়ার কথা বলতে নদীর কথা তখন পেরিয়ে যেতে যেতে হেঁটে পেরোনর কাঁটা পায়ে যে বিঁধবে এ সম্বিৎ ভাবনার স্রোতকে ছাপায় না, উশকায় পায়ের তলার হাঁটাপথ যেটায় এখন আর স্রোতের বাধা নেই, এটাকে এখনো নদীই বলবো, এটা স্বভাব, যা মলেও যায় না, এই ধরে রাখা নাম যা পড়ে থাকা বা বিস্মৃত, কিংবা হতে পারে উপেক্ষিতও তবুও কিছু গড়ায়, তবু এই নির্জলা নদীরে নদীই কই আপাতত


মেনে নিলে নকশা ঠিকঠাক মেলে - সমস্ত ভূগোলচিহ্ন, যাবতীয়, সকলেই যে যেমন সে তেমন আপন আপন জায়গায় বসে ছেলেবেলাকার ক্লাসরুমে - সে কালটা কদিন আগের হলেও সুদূর , ঝাপসা - এটা কুয়াশা, ধোঁয়াসা বা ধুঁয়া সা অথবা মস্তিষ্কবিকৃতিজনিত না ভেবে বরং এগিয়ে যাই এই ভাবনায় যে কিছু হারালে বিনিময়ে কিছু আসে  সেটা বিনিময় না ভাবলেই পুরোণো জগতটা ভেঙে যায় নতুন আরেকটা জগৎ আসে জায়গাটার দখল নিতে, শরিকেরা আপন আপন ধর্ম আঁকড়ে ত্বরায়, অধিকারবোধে তুমুল, তুখোড়, 


বিকৃতিরা নাচের নকশা বদলে  গড়ার ঝোঁকে মাতোয়ারা, বুঁদ, এটায় যাঁরা শিব গডতে বাঁদর গড়ার কথা তুলে সোচ্চার হন বক্রোক্তিতে বা উপেক্ষায় তাঁদের অজান্তেই সময় কখন ঘুরে দাঁড়ায়,  সেই তাঁদেরই একেবারে মুখোমুখি, দৃষ্টিকটু অঙ…

প্রিয়দর্শী দত্ত

লোকো বাবুপ্রিয়দর্শী দত্ত

লোকেশ রঞ্জন তলাপাত্র ওরফে লোকো বাবুর  চারণকবি হিসেবে কোনো পুর্বাখ্যাতি ছিল বলে মনে হয় না| থাকলেও আমার জানার কথা না| কারণ আমি তো রাঁচি গেলাম এই প্রথম, তাও দিন ছয়েকের জন্য| ঠিক মানসিক চিকিত্সার জন্য নয়, যদিও যে অফিসে আমি কাজ করি, সেখানে আধপাগলা হয়ে গেল ও কিছু আশ্চর্যের বিষয় নয়| আমার সহকর্মী অংশুমান আমাকে প্রায় বগলদাবা করেই রাঁচি নিয়ে গেল| বলল চলুন এই ঘোলাটে আবহাওয়া থেকে সপ্তাহখানেক দুরে থাকলেও অনেকটা চাঙ্গা বোধ করবেন| সামনে তার ছোট ভাইঝির বিয়ে| অংশুমানের দাদা রাঁচি তে UCO না এলাহাবাদ কোন ব্যাঙ্ক-এর সিনিয়র ম্যানেজার| তিন বছর পর রিটায়র করে হয়ত কলকাতার দিকে চলে যাবেন|
আমার ‘পশ্চিম’ সম্পর্কে একটি দুর্বলতা আছে সেটা অংশুমান ভালো করেই জানে| সে যেদিন চাকরি তে যোগ দিল সে রাঁচির বাঙালি জানতে পেরে সেই দিনই তাকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে আমার স্বর্গত: ঠাকুরদা সরকারি কার্যসুত্রে দক্ষিন বিহার ও উড়িস্যার অনেক জায়গা চষে বেড়িয়ে ছিলেন| আরে আমার বাবার ছোটবেলাও তো কেটেছে দেওঘর এ|তাই তিনি হিন্দি তে এত পারদর্শী ছিলেন| এ ছাড়া বাংলা কথাসাহিত্যে ও তত্কালীন ইতিহাসে হওয়াবদল বা চেঞ্জএর উল্লেখ পাওয়…

কালীপদ চক্রবর্ত্তী

কুকুরের জাতকালীপদ চক্রবর্ত্তী
সমর বাবু শেখসরাই-এ থাকেন। প্রতিদিন সকালে ছেলে রাজাকে স্কুলের বাসে তুলে দিতে যান। প্রতিদিন রাজার অদ্ভূত অদ্ভূত প্রশ্নের উত্তর তাকে দিতে হয়। রাস্তায় যাবার পথে রোজই ভোর বেলা চোখে পরে বাঙালি এবং অবাঙালি বহু পুরুষ ও মহিলারা তাদের কুকুরকে নিয়ে বেড়াতে বের হন। কুকুরের সাথে কথা বলেন। পাড়ার ভট্টাচার্য্ মশাই-ও তার কুকুরদের নিয়ে বেড়াতে আসেন এবং কুকুরদের সাথে বাংলায় কথা বলেন।


একদিন রাজা সমর বাবুর কাছে জানতে চায় - আচ্ছা বাবা, কুকুরদেরও কি বাঙালি, পাঞ্জাবি এইরকম ভিন্ন ভিন্ন জাত হয়?


সমীর বাবু প্রথমটা অবাক হলেও ছেলের সন্দেহের কারণ জানার জন্য জিজ্ঞাসা করেন – তোমার এরকম মনে হল কেন? 


রাজা -  বাবা, ঐ পাঞ্জাবি ভদ্রলোক তার কুকুরের সাথে পাঞ্জাবি ভাষায় কথা বলছেন এবং কুকুরটা তার কথা বুঝতে পারছে। আবার ভট্টাচার্য্ কাকু বাংলায় কুকুরগুলোর সাথে কথা বলছেন ও তার কুকুরগুলো বাংলা বুঝতে পারছে এমন ভাব দেখাচ্ছে। তাহলে কি বাঙালি কুকুর, পাঞ্জাবি কুকুর ইত্যাদি বিভিন্ন জাতের কুকুর হয়? না হলে আলাদা আলাদা ভাষা বোঝে কেমন করে?




গোঁড়ায় গলদ
সায়ক ছোটবেলায় আদর্শলিপিতে পড়েছিল -  “সদা সত্য কথা বলিবে, কদাচ মিথ্যা …

চৈতালি দাস

নীপবিথিচৈতালি দাস
প্রতিদিনের মত আজও ঠিক সন্ধে সাতটায় শুভ্রর ফোনটা এলো । গত দু - মাস হল এই ফোনটার অপেক্ষায় থাকে গার্গী ‌।সাতটা বাজার আগে থেকেই মোবাইলটা নাড়া চাড়া করে । কখন ও কখন ও আবার  মনে হয় মোবাইল এর রিংটোন টা মিউট করা আছে হয়তো  ,শুভ্রর ফোন বেজে গেছে শুনতে পায়নি । তারপর হাতের মুঠোয় ধরা মোবাইলটা ভালো করে দেখে বোঝে যে এসবই তার মনের ভুল । মোবাইল এর সাউণ্ড একেবারে ম‍্যক্সিমামে  দেওয়া  আছে।
--হ‍্যাঁ , হ‍্যালো শুভ্র বলো বলো ।
-- কাল তো  তোমাদের ওদিকে ভয়ানক ঝড় - বৃষ্টি  হয়েছে দেখলাম । তোমরা ঠিক আছো তো? সকালে নিউজে খবরটা দেখতে দেখতে ভাবলাম অফিসে পৌঁছেই  তোমাকে একটা ফোন করবো কিন্তু অফিসে ঢোকার পর থেকে একটার পর একটা এমন কাজে ফেঁসে গেছি যে ফোন করতে পারিনি, এই জাস্ট পাঁচ মিনিট আগে মিটিং শেষ করে নীচে নেমে সিগারেটটা ধরিয়ে তোমাকে ফোন টা লাগালাম।
-হ‍্যাঁ শুভ্র কাল ঝড়ের এই তাণ্ডবে সারা কলকাতা তছনছ হয়ে গেছে , টিভি তে বলছিল ঝড়টা নাকি প্রায় একশো কিলোমিটার বেগে চলেছিল। আমার তো ভয় করছিলো যে সত্তর বছরের পুরোনো এই বাড়ি না ভেঙে পড়ে ‌। পুরো বাড়িটা কাঁপছিল ঝড়ের দাপটে । আমাদের বাগানে  একটা  আমগাছ ও পড়েছে ,তবে গাছট…